এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজাগামী ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ৪৪টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এখনো চারটি নৌযান যাত্রাপথে রয়েছে বলে ফ্লোটিলা ট্র্যাকার সূত্রে জানা গেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামারটাইম-জং’ ও ‘শিরিন’ নামের দুটি নৌযান আইনি সহায়তার কাজে নিয়োজিত ছিল। এর মধ্যে মিকেনো প্রথম ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে মিকেনো ও ম্যারিনেট নৌযান এখনো গন্তব্যের পথে রয়েছে।
তবে তুরস্কের সংবাদপত্র ইয়েনি সাফাক জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী মিকেনোকে আটক করে নৌযানে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আটককৃতরা একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বন্দরে পৌঁছাবেন।
ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলার নৌযানগুলোতে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মীদের আটক করেছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটকরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।
ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগস্টের শেষ দিকে যাত্রা শুরু করা এই বহরে ছিল ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান। প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নেন, যারা ওষুধ ও খাদ্য বহন করছিলেন। গাজার ওপর দীর্ঘ ইসরায়েলি অবরোধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। তুরস্ক, স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের সহায়তায় নৌযান ও ড্রোন পাঠায়। তবে বারবার সতর্কতা দিয়েছিল ইসরায়েল।
ফ্লোটিলায় অভিযান চালানোয় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে। ইস্তান্বুল প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, আটক হওয়া ২৪ জন তুর্কি নাগরিকের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
