Tag: গ্যাজেট

  • ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া সোনালি রঙের স্মার্টফোন ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একাধিকবার ঘোষিত সময়সীমা শেষ হলেও ফোনটির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব এখনো সামনে আসেনি। ফলে প্রযুক্তি মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই ফোন আদৌ বাজারে আসবে কি না।

    ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এটি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে। কিন্তু সেই সময় পার হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে মুক্তির সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন করে শুধু লেখা হয়—‘চলতি বছরের শেষ দিকে’।

    অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসবে। তবে ২০২৬ সাল শুরু হলেও এখনো নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। এমনকি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা সময়টি কোন বছরের জন্য, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

    সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—ফোনটি বাজারে না এলেও আগাম বুকিং বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে প্রি-অর্ডার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ পরিশোধের পরও ক্রেতারা এখনো ফোনটি পাননি, এমনকি নির্দিষ্ট কোনো মুক্তির তারিখও জানানো হয়নি।

    ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প মোবাইলের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার কারণে ফোনটির উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তখনই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফোনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা কম।

    শুরুতে ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, টি১ ফোনটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হবে। তবে পরে সেই অবস্থান থেকেও সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ চেইন নিয়ে জটিলতার কারণেই প্রকল্পটি পিছিয়ে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প মোবাইলের নেটওয়ার্ক সেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহারকারীদের একাংশ দুর্বল সংযোগ, সীমিত কাভারেজ ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শুরু থেকেই এই ফোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ ছিল। তার মতে, একটি স্মার্টফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল।

    ২০২৬ সালেও নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা—ফোনটি শেষ পর্যন্ত বাজারে এলেও ঘোষণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নামের সঙ্গে যুক্ত এই ‘গোল্ডেন ফোন’ এখন পর্যন্ত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ক্রেতাদের অপেক্ষা বাড়ছেই। শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তব পণ্য হবে, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যাবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।