Tag: গোলাম পরওয়ার

  • “জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না”—নতুন ছাত্র সংগঠনকে সতর্ক করলেন গোলাম পরওয়ার

    “জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না”—নতুন ছাত্র সংগঠনকে সতর্ক করলেন গোলাম পরওয়ার

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নতুন ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা নতুন ছাত্রদের দল, আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গেলে এখনও অনেক পথ বাকি। জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না।”

    সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন ছাত্র সংগঠনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তোমরা এখনো রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে আছো। জামায়াতে ইসলামী যে অভিজ্ঞতা ও সংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, সেখানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।”

    তিনি আরও বলেন, “একজন নতুন দলের নেতা সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নাকি সংস্কার চায় না এবং নতুন সংবিধান সংলাপে অংশ নেয়নি। অথচ ঐকমত্য কমিশনে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতই। আমরা কাউকে সমালোচনা করি না, বরং কাজ দিয়েই প্রমাণ করি।”

    গোলাম পরওয়ার এ সময় ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ধারণার সমালোচনা করে বলেন, “অনেকে মনে করেন হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ ও নৌকা। আমি বলি, হিন্দুরাও এবার প্রমাণ করবে, তারা শুধু নৌকার নয়, দাঁড়িপাল্লার প্রতীকেও আস্থা রাখে।”

    তিনি দাবি করেন, তালা ও কলারোয়ার হিন্দু জনগণ যদি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, তবে তারা অতীতের রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল খালেক, শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • সংস্কার ছাড়া ভোট মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    সংস্কার ছাড়া ভোট মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে তা জনগণের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী ও পল্টনে পৃথক দুই সমাবেশ ও গণমিছিলে এই হুঁশিয়ারি দেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির দাবি

    ঢাকা মহানগর উত্তরের সমাবেশে ডা. তাহের বলেন, “গতানুগতিক পদ্ধতিতে আর কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের রক্তে রঞ্জিত জুলাই বিপ্লবকে যদি অগ্রাহ্য করে কোনো পক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে, তবে তা ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”

    তিনি বলেন, দলটি সংসদ নির্বাচন পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে চায়, যাতে ভোট চুরি, কেন্দ্র দখল কিংবা অর্থের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হয়। তার মতে, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল পিআর ব্যবস্থাতেই সম্ভব।

    বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা

    বিএনপির প্রস্তাবিত নির্বাচন পদ্ধতির বিরোধিতা করে ডা. তাহের বলেন, “যাদের জনগণের সমর্থন নেই, তারাই পিআর ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন। তারা মাস্তানি ও টাকার জোরে নির্বাচনে জিততে চায়।” তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি বা আপনার পরিবার আন্দোলনের অংশ ছিলেন না, তাই দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার মতো সংস্কার আনুন।”

    দক্ষিণে সমাবেশে পরওয়ারের বক্তব্য

    পল্টনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হোক কিংবা জুনে—প্রথমে দরকার সঠিক সংস্কার ও অতীত গণহত্যার বিচার।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “একটি দল নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক মনে করে সংস্কারকে নিজের মতো চালাতে চায়। তারা এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাইছে।”

    পরওয়ার আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন, তেমনভাবেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্ভব। তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।”

    মিছিল ও শেষ বক্তব্য

    উত্তরের গণমিছিল মহাখালী থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় মগবাজার চৌরাস্তায় এবং দক্ষিণের মিছিল পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যায়। দুই সমাবেশেই দলীয় নেতারা সরকারের প্রতি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন—সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে না এবং জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।