Tag: গোপালগঞ্জ

  • বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না দাহ—এ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত পোদ্দার (কানু) প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান নামে ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, মৃতের মা ওই সেবাশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং সেখানেই তিনি অবস্থান করছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে মরদেহ উত্তর আমবাড়ি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী ও সন্তান প্রতিবাদ জানান। তারা দাবি করেন, মৃত ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাই মুসলিম রীতিতে কবরস্থানে দাফন করতে হবে।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে প্রশাসন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সব কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের দাবি যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সে কারণে দাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • ভোটের মাঝেই গোপালগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল কেন্দ্র—আনসারসহ আহত তিনজন

    ভোটের মাঝেই গোপালগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল কেন্দ্র—আনসারসহ আহত তিনজন

    এবিএনএ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ শহরের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্য এবং ভোট দিতে আসা এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে কেন্দ্রের প্রধান ফটকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রে কিছু সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন আনসার সদস্য সুকণ্ঠ মজুমদার, সেকশন কমান্ডার জামাল হোসেন এবং ভোটারের সঙ্গে আসা শিশু আমেনা খানম। প্রাথমিকভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পাশের খালপাড় এলাকা থেকে ককটেলটি ছোড়া হয়। ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন রাখতে কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া থানায় এই মামলাগুলো দায়ের করেছে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে, যার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।

    সর্বমোট মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫০ জনকে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ৩১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

    মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া ওই মামলায় বাদী হয়েছেন জেলার বাসিন্দা তানিয়া জামান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    এ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্ল্যা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯০০ থেকে ১,০০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।

    মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমএম নাসির আহম্মেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম জুলকদর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মুনির হিটলার, সাবেক জিপি দেলোয়ার হোসেন সরদার, জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলীমুজ্জামান বিটু এবং মুকসুদপুরের সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল।

    এছাড়াও কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও ওড়াকান্দি এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার নামও এজাহারে রয়েছে। মামলার বিষয়টি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক মামলা ও উচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

  • গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ৩ জনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, তদন্তে নতুন মোড়

    গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ৩ জনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, তদন্তে নতুন মোড়

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত তিন ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে আদালতের নির্দেশে। নিহতরা হলেন—রমজান কাজী, ইমন তালুকদার ও সোহেল রানা।

    সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা মরদেহ উত্তোলনের অনুমতির জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ পৌর কবরস্থান থেকে রমজান ও ইমনের মরদেহ উত্তোলন করা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি ও রন্টি পোদ্দারের উপস্থিতিতে।

    একই দিন টুঙ্গিপাড়ার দক্ষিণ কবরস্থান থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মারুফ দস্তেগীরের তত্ত্বাবধানে সোহেল রানার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

    এই সময় নিহতদের স্বজন, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে এই মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে প্রত্যেক মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    তদন্তে আরও তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এ ঘটনায় নতুন মোড় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতার রেশ না কাটায় ফের বাড়ানো হয়েছে কারফিউ। শনিবার রাত ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নতুন করে কারফিউ কার্যকর থাকবে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে শনিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল থাকবে, তবে শহরের রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল এখনো সীমিত।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির একটি পদযাত্রা কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় ওই সংঘর্ষে গোটা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওইদিনের সংঘর্ষে ৫ ঘণ্টার ভেতর প্রাণ হারান অন্তত চারজন, যাদের একজন বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে মারা যান।

    সংঘর্ষের সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে তারা নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এরপর বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সহিংসতা অব্যাহত থাকায় সরকার কারফিউ তুলে না নিয়ে তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার বিরতি দিয়ে কারফিউ জারি থাকে। এরপর বিকালে আবারও কারফিউ বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আংশিক শিথিলতা থাকলেও, রাত ৮টার পর পুনরায় কঠোর কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

  • কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও প্রাণহানির পরদিন কোটালীপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে দেড় হাজার নেতাকর্মীকে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কোটালীপাড়া থানার এসআই উত্তম কুমার সেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এতে ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১ হাজার ৩৪৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুল আলিম, মহিবউল্লাহ শেখ, সিরাজুল শেখ, দীপ্ত কাজী, প্রিন্স অধিকারী, মোরশালিন মুন্সী, রিফাত বিশ্বাস, সাগর শেখ, মানিক শেখ, সজল দাড়িয়া, আব্দুল হাকিম ও টুটুল হাওলাদার।

    তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ওয়াবদারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়েছে।

    এর আগে বুধবার গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির পদযাত্রা চলাকালে সংঘর্ষে প্রাণ হারান পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দীপ্ত সাহা, রমজান কাজী, সোহেল রানা, ইমন এবং রিকশাচালক রমজান মুন্সী।

    সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোপিনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহম্মেদ আলী আরও একটি মামলা করেন, যাতে ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তা সাময়িকভাবে শিথিল করা হলেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আবারও কারফিউ কার্যকর রাখা হয়।

    স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধ এবং কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে পুরো এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রশাসন বলছে, শান্তি বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতভর মুকসুদপুর ও কাশিয়ানি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল বাছেদ।

    তিনি জানান, কাশিয়ানির সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ২৪ জন, মুকসুদপুর এলাকায় ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬ জনকে সদর থানার একটি মামলায়, ২০ জনকে কাশিয়ানির মামলায় এবং বাকি ১০ জনকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    এদিকে সদর থানার ওসি মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, তাঁদের থানার দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির গোপালগঞ্জ সমাবেশ শুরুর আগেই শহরের পৌর পার্কে দলটির মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা চেয়ার ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।

    পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কড়া নজরদারির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন থানায় নতুন করে আরও মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

  • গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    গোপালগঞ্জে অশান্ত পরিস্থিতি : আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হলো কারফিউ

    এবিএনএ,গোপালগঞ্জ :

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির পর গোপালগঞ্জে জারি করা কারফিউর সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন করে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।”

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছিল। পরে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এবার তা আরও ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কারফিউ চলাকালীন জরুরি সেবার বাহন ব্যতীত অন্য সব ধরনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

    এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে গোপালগঞ্জ জুড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউর মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে। তবে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল। এরপর শুক্রবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে। কিন্তু দুপুর ২টা থেকে আবারও কারফিউ পুনরায় চালু হবে এবং তা থাকবে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত।

    এর আগে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিল।

    কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং আংশিকভাবে কিছু সময়ের জন্য শিথিলতার কথা জানানো হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    এদিকে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনোভাবেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত না হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার।

  • গুজবে কান না দিয়ে সেনাবাহিনীর পাশে থাকুন: গোপালগঞ্জ পরিস্থিতিতে শান্তির আহ্বান

    গুজবে কান না দিয়ে সেনাবাহিনীর পাশে থাকুন: গোপালগঞ্জ পরিস্থিতিতে শান্তির আহ্বান

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষিতে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

    পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে মঞ্চে আবারও হামলা চালানো হয় এবং জেলা কারাগারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    সেনাবাহিনী বারবার মাইকিং করে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলেও তারা ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। নিরাপত্তা রক্ষার্থে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে, গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

    আইএসপিআর জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং কারফিউ বহাল রয়েছে। সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যেন কোনো গুজব বা ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখান। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা সচেষ্ট।”

    সেনাবাহিনীর এই বিবৃতি গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও দেশবাসীকে শান্ত থাকতে ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছে।