Tag: গোপালগঞ্জ সহিংসতা

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক গ্রেফতারের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।

    গত ২৫ জুলাই, শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ।

    সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ছাড়াও নিউইয়র্ক স্টেট ও মহানগর আওয়ামী লীগ, ওয়াশিংটন মেট্রো আওয়ামী লীগ, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

    সমাবেশে নিউইয়র্ক থেকে আসার পথে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে টেলিফোনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা।

    প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন এবং অন্তত ৫০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পুলিশ ও সংবাদকর্মীও রয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রতিবাদী অবস্থান জানান।

    বক্তারা বলেন, “গণতন্ত্রবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক এই কর্মসূচির নামে দেশে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের শান্তিকামী নেতাকর্মীদের ওপর অপপ্রচার চালিয়ে সহিংসতার দায় চাপানো হচ্ছে।”

    তারা আরও জানান, গোপালগঞ্জে যারা সহিংসতা করেছে, তারা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে, আর সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে সচেতন করতেই এ কর্মসূচি।

  • গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রতিষ্ঠানটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের সভা-সমাবেশের অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

    মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “সেদিনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ছিল ফ্যাসিস্ট কায়দার। তারা নির্বিচারে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ার শেল ব্যবহার করেছে। পরে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের ঘটনা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।”

    আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তিন ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সাধারণ জনতা’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী রাস্তা দখলে নিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়।

    ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জে জারি হয় ১৪৪ ধারা এবং শুরু হয় নির্বিচারে গ্রেপ্তার। আসকের তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নিরীহ মানুষের ঘরে ঘরে অভিযান চালানো হয়, যেসব এলাকায় কোনো সহিংসতা হয়নি সেখানেও হয়রানি চলে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত ইমন তালুকদার, রমজান কাজী, দীপ্ত সাহা ও সোহেল মোল্লার মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে দাফন বা সৎকারে বাধ্য করা হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২১ জুলাই তিনজনের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

    আসকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ সংক্রান্ত ৮টি মামলা হয়েছে, যার ৬টির নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ৫,৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৮ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। আসামিদের মধ্যে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপস্থিতিও রয়েছে।

    এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৮ শিশুকে আটক করেছে, যাদের অনেককেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যদিও তাদের পরিবার দাবি করেছে, এসব শিশুরা সংঘর্ষে সম্পৃক্ত ছিল না।

    তথ্য সংগ্রহে গেলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের কথাও উল্লেখ করেছে আসক। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা কোনো মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করেনি এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক সমাবেশে বাধা দেওয়া কখনোই যুক্তিযুক্ত নয়। আগে থেকেই পুলিশ সতর্ক থাকলে এ রকম প্রাণহানি হতো না।”

    আসক জোর দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এই ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং নির্দোষ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে।

  • গোপালগঞ্জে রক্তাক্ত সহিংসতার জেরে ৪টি হত্যা মামলা, আসামির সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে

    গোপালগঞ্জে রক্তাক্ত সহিংসতার জেরে ৪টি হত্যা মামলা, আসামির সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় চার দিন পর দায়ের করা হয়েছে চারটি পৃথক হত্যা মামলা। প্রতিটি মামলাতেই আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাত পরিচয়ের ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ জন কর্মীসহ ছয় হাজারের বেশি মানুষকে।

    রোববার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, সহিংসতায় নিহত আরও একজন রিকশাচালকের মৃত্যুর ঘটনায় আরও একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব হোসেন বাদী হয়ে প্রথম মামলাটি করেছেন রমজান কাজী (১৭) হত্যার ঘটনায়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা শেষে এনসিপির গাড়িবহর মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। শহরের এসকে সালেহিয়া মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও গুলি চালায়। এতে রমজান কাজী গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

    একইদিন দীপ্ত সাহা (২৭) নামের একজন এনসিপি কর্মী নিহত হন সেনা-পুলিশকে লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে। এই ঘটনার মামলা করেছেন এসআই শামীম হোসেন, যেখানে ১,৪০০–১,৫০০ অজ্ঞাত আসামিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তৃতীয় মামলা করেন এসআই আবুল কালাম আজাদ, সোহেল রানা মোল্লা (৩০) হত্যার ঘটনায়। এজাহারে বলা হয়, লঞ্চ ঘাট এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

    চতুর্থ মামলাটি করেন এসআই শেখ মিজানুর রহমান, যেখানে বলা হয়, পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে সংঘর্ষে ইমন তালুকদার (১৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

    এছাড়া, রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিকশাচালক রমজান মুন্সী (৩২)। তার মৃত্যুর ঘটনায়ও পৃথক একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    এখনও নিহতদের মধ্যে চারজনের ময়নাতদন্ত হয়নি বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, বিলম্ব হলেও তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দীপ্ত সাহার মরদেহ দাহ করা হয়ে যাওয়ায় সেখানে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    গোপালগঞ্জে এই সহিংসতা শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়, বরং এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির বার্তাও দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

  • গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    গোপালগঞ্জে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল: তিন ঘণ্টার জন্য শিথিলতা

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউর মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে। তবে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল। এরপর শুক্রবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে। কিন্তু দুপুর ২টা থেকে আবারও কারফিউ পুনরায় চালু হবে এবং তা থাকবে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত।

    এর আগে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিল।

    কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং আংশিকভাবে কিছু সময়ের জন্য শিথিলতার কথা জানানো হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    এদিকে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনোভাবেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত না হয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার।