Tag: গুলি

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    এবিএনএ,মোংলা: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে বাহিনীটি জানতে পারে যে সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যরা চিলা ইউনিয়নের ফেলুরখন্ড-বৈদ্যমারী এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে বৈদ্যমারী বাজারের আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ইয়াছিন শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি ছোট সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে সুন্দরবনের ধানসিঁড়ির চর খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনালা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    আটক ইয়াছিন শেখ মোংলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র ও রসদ সরবরাহে ভূমিকা রাখছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলিও জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

  • লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ছররা গুলি, আহত তিন বাংলাদেশি – আতঙ্কে সীমান্তবাসী

    লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ছররা গুলি, আহত তিন বাংলাদেশি – আতঙ্কে সীমান্তবাসী

    এবিএনএ: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ছররা গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা বর্তমানে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের শূন্যরেখায় গরু পারাপারের সময় হঠাৎ বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। গুলির শব্দে সীমান্তের আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার পকেটপাড়া গ্রামে বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের রতনপুর ক্যাম্প থেকে এই গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের প্রধান পিলার ৮৫৪ নম্বরের উপপিলার ৩–এর কাছাকাছি এলাকায়।

    বিজিবি রংপুর ৬১ (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন জানান, “গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি, তবে বিএসএফ এখনো সাড়া দেয়নি।”

    উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ দিন আগে, একই ইউনিয়নের সীমান্তে বিএসএফ তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল। ধারাবাহিক এ ধরনের ঘটনার ফলে সীমান্ত এলাকায় আবারও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফজরের নামাজ শেষে ফিরছিলাম, তখন দেখি কয়েকজন গুলিবিদ্ধ মানুষকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।”

    সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

  • খুলনায় ফের রক্তাক্ত সন্ধ্যা: প্রকাশ্যে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা চরমপন্থি নেতাকে

    খুলনায় ফের রক্তাক্ত সন্ধ্যা: প্রকাশ্যে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা চরমপন্থি নেতাকে

    এবিএনএ:  খুলনা শহর আবারও কেঁপে উঠল রক্তাক্ত সন্ত্রাসে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর ব্যস্ত সড়কের পাশে সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক সময়ের ভয়ংকর চরমপন্থি নেতা শেখ শাহাদাত হোসেনকে।

    পুলিশ জানায়, শেখ শাহাদাত নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। প্রায় দেড় যুগ কারাভোগ শেষে চলতি বছর জামিনে মুক্ত হন তিনি। মুক্তির পর থেকে কিছুটা নিরব জীবনযাপন করছিলেন, তবে তার অতীত ঠিকই ফিরে এলো নির্মম পরিণতি হিসেবে।

    সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে একদল অজ্ঞাতনামা হামলাকারী শাহাদাতকে ধাওয়া করে টেনে নিয়ে যায় সঙ্গীতা সিনেমা হলের নিচে থাকা একটি টায়ারের দোকানের সামনে। সেখানেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করে তারা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহাদাতের বিরুদ্ধে দুই পুলিশ হত্যা ও একাধিক অপরাধের মামলা ছিল। কিছু মামলায় তিনি খালাস পেলেও কয়েকটিতে জামিনে ছিলেন।

    খুলনায় সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে খুলনা শহরে প্রতি মাসেই ঘটছে একাধিক হত্যাকাণ্ড। এ বছরের আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনেই তিনটি হত্যাকাণ্ডের খবর মিলেছে।

    এর আগে ৩ আগস্ট রাতে মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ায় ঘের ব্যবসায়ী আলামিন হাওলাদারকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। একের পর এক খুন ও সন্ত্রাসী হামলায় এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খুলনার সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সর্বত্র।

    নগরবাসী বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড যেন প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধারা অব্যাহত থাকবেই। এখন প্রশ্ন—খুলনায় শান্তি ফিরবে কবে?

  • পাঁচ কোটি টাকার চাঁদা না পেয়ে পল্লবীতে গুলি ও হামলা, গ্রেপ্তার তিন সন্ত্রাসী

    পাঁচ কোটি টাকার চাঁদা না পেয়ে পল্লবীতে গুলি ও হামলা, গ্রেপ্তার তিন সন্ত্রাসী

    এবিএনএ: রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আবাসন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ করে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা হামলা ও গুলি চালিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের নাম—মামুন মোল্লা, মোহাম্মদ রায়হান ও নিলয় হোসেন বাপ্পী। শনিবার রাতে পল্লবী থানা পুলিশের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    প্রতিষ্ঠানটির নাম এ কে বিল্ডার্স। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পল্লবীর আলাব্দিরটেক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে ৩০-৩৫ জনের একটি দল প্রবেশ করে হঠাৎই হামলা চালায়। তাদের মধ্যে কেউ চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় শরিফুল ইসলাম নামে এক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার রাতে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

    পল্লবী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ, যাতে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা যায়।

    পুলিশ বলছে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। চাঁদা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েই এমন সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।