Tag: গুলিবর্ষণ

  • চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, সহযাত্রী নিহত—বিস্ফোরক উত্তেজনা নির্বাচনী এলাকায়

    চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, সহযাত্রী নিহত—বিস্ফোরক উত্তেজনা নির্বাচনী এলাকায়

    এবিএনএ: চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের মহানগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর পূর্ব বায়েজিদ চালিতাতলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই দলের কর্মী সরোয়ার হোসেন বাবলা (৪৩) নিহত হন এবং অপর একজন শান্ত আহত হন।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগের সময় হামলার শিকার হন। আহতদের দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে সরোয়ার মারা যান। ঘটনাটি তদন্তাধীন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এরশাদ উল্লাহ দলীয় প্রচারণায় বের হন। মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে এরশাদ, সরোয়ার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শান্ত গুলিবিদ্ধ হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই প্রচারণার মিছিলে মিশে ছিল। হঠাৎ তারা গুলি ছোড়ে, ঘটনাস্থলেই সরোয়ার নিহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য নির্বাচনী অচলাবস্থা সৃষ্টি করা। তবে আমাদের ধৈর্য ও সাহস নিয়ে এগোতে হবে।”

    হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও বোয়ালখালী এলাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এরশাদ উল্লাহ আশঙ্কামুক্ত থাকলেও আহত শান্তের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন ফোন ধরেননি বলে জানা যায়।

  • চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে একটি কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেওয়া কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. শরীফ (২৩) নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটকে ভাঙচুরের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    জানা গেছে, মোটরসাইকেল উৎপাদক একটি প্রতিষ্ঠান ওই কনসার্টের আয়োজন করেছিল, যেখানে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল পরিবেশনা করছিল। কনসার্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। শুরুতেই একদল দর্শক ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিলে অন্য পক্ষ আপত্তি জানায়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কনসার্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী মো. নাঈম জানান, ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে ছাত্রদলের সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি ছোড়ে, এতে কয়েকজন আহত হন।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনীহা দেখাচ্ছেন, ফলে প্রকৃত কারণ জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কনসার্টে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁদের কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    খুলশী থানার ওসি শাহীনুর জামান জানান, প্রতিষ্ঠানটির মোটরসাইকেল প্রদর্শনীর অনুমতি থাকলেও কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি ছিল না। স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে। কনসার্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।