Tag: গাজা যুদ্ধবিরতি

  • ইসরায়েল ফেরত দিল আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ, মোট সংখ্যা এখন ৯০

    ইসরায়েল ফেরত দিল আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ, মোট সংখ্যা এখন ৯০

    এবিএনএ:  দখলদার ইসরায়েল গাজায় আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত মোট ৯০ জনের মরদেহ ফিলিস্তিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই মরদেহ বিনিময় সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলকে ফেরত দেওয়া প্রতিজন নাগরিকের মরদেহের বিনিময়ে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করতে হবে।

    এর আগে সোমবার হামাস তিনজন ইসরায়েলি নাগরিক এবং একজন নেপালির মরদেহ হস্তান্তর করে। পরদিন মঙ্গলবার আরও তিনজন ইসরায়েলি ও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ফেরত দেয়।

    এই মরদেহ বিনিময় প্রক্রিয়াকে চলমান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজার মানবিক সংকটের মধ্যে এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

  • যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ফেরা শুরু: সেনা প্রত্যাহারে নতুন আশার আলো

    যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ফেরা শুরু: সেনা প্রত্যাহারে নতুন আশার আলো

    এবিএনএ: গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অবরুদ্ধ উপত্যকার কিছু এলাকায় সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকেই হাজারো ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপে পরিণত নিজের ঘরে ফেরার পথে পা বাড়িয়েছেন।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক অভিযানের শিকার হয়েছিল গাজা সিটি। আজ যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই শহরের দিকে বিশাল জনস্রোত ফিরে যেতে দেখা গেছে।

    শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জায়েদা বলেন, “আল্লাহকে ধন্যবাদ, আমার ঘরটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। তবে চারপাশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিবেশীদের ঘরবাড়ি নেই, পুরো এলাকা এক টুকরো ধ্বংসস্তূপ।”

    ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। এর আগে ভোরে ইসরায়েলি সরকার হামাসের সঙ্গে এই চুক্তি অনুমোদন দেয়। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আংশিক সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শুরু হয়।

    চুক্তি অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল কারাগার থেকে ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন আটক থাকা আরও ১৭০০ জনকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    যুদ্ধবিরতির পর গাজায় শত শত ট্রাকে করে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাচ্ছে। ঘরবাড়িহারা লাখো মানুষের জন্য এই সহায়তা এখন বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে গাজা সিটির বহু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনো উপত্যকার প্রায় অর্ধেক অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে বলেন, “ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা হবে এবং হামাসকে অস্ত্র ত্যাগে বাধ্য করা হবে। সহজ পথে না হলে কঠিন পথেই এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।”

    খান ইউনিস ও নুসিরাত ক্যাম্পের আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকেও ইসরায়েলি সেনা পিছু হটছে। তবে কিছু স্থানে এখনও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    ৪০ বছর বয়সী মাহদি সাকলা বলেন, “আমরা শুনেছি যুদ্ধবিরতি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই গাজা সিটিতে ফিরতে প্রস্তুত হয়েছি। যদিও ঘর নেই, শুধু ধ্বংসস্তূপ, তবুও সেটাই আমাদের ঘর।”

    হামাসের নেতা খলিল আল-হায়া জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

    এই যুদ্ধের কারণে ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যুদ্ধ শেষ হলে গাজার শাসনভার কার হাতে যাবে, আর ইসরায়েলি বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ দাবি হামাস মানবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।