Tag: গল টেস্ট

  • গল টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের দাপ্যতা, লিড ছাড়াল ১৮০ রান

    গল টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের দাপ্যতা, লিড ছাড়াল ১৮০ রান

    এবিএনএ: গল টেস্টের চতুর্থ দিনটি ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। শ্রীলঙ্কার তৃতীয় দিনের দাপট ম্লান করে দিয়ে টাইগাররা দিনের শুরু থেকেই দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও দৃঢ়তা দেখিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

    চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৭৭ রান, ফলে টাইগারদের মোট লিড এখন দাঁড়িয়েছে ১৮৭ রানে।

    এর আগে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে ৩৬৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করলেও নাঈম হাসানের স্পিন জাদুতে আর ১১৭ রানই যোগ করতে পেরেছে দলটি। ইনিংস থামে ৪৮৫ রানে। নাঈম একাই তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট, তার সঙ্গে হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও মুমিনুল হক ভাগাভাগি করেন একটি করে উইকেট।

    শ্রীলঙ্কার ইনিংসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কার ১৮৭ রানের ইনিংস। এছাড়া কামিন্দু মেন্ডিস করেন ৮৭ এবং দিনেশ চান্দিমাল ৫৪ রান। বাকিরা ব্যর্থ হন।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হলেও এনামুল হক বিজয় ৪ রানে কুশল মেন্ডিসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। এরপর মুমিনুল হক থিতু হলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি—১৪ রানে থারিন্দু রত্নায়েকের বলে ধরা পড়েন ফিল্ডারে।

    চা-বিরতির সময় স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৬৫। এরপর মাঠে নেমে সাদমান ইসলাম দারুণ ব্যাটিং করে পৌঁছান নিজের ষষ্ঠ ফিফটিতে, শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হন ৭৬ রানে।

    দিনের শেষ দিকে ব্যাটিং চালিয়ে যান প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান শান্ত ও মুশফিক। শান্ত ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে পৌঁছেছেন তার ফিফটিতে, মুশফিক রয়েছেন ২২ রানে অপরাজিত।

    চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ম্যাচের লাগাম এখনো বাংলাদেশের হাতে, পঞ্চম দিনেও ফলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • জোরে বল করে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ, লঙ্কানদের সুইং থেকে নিতে চায় শিক্ষা

    জোরে বল করে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ, লঙ্কানদের সুইং থেকে নিতে চায় শিক্ষা

    এবিএনএ,স্পোর্টস ডেস্ক:
    বৃষ্টির বিরতির পর লঙ্কান পেসারদের দাপটে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৬১ রানের মধ্যে ৫টি মূল্যবান উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা, যার মধ্যে শেষ বেলার ২৬ রানের সময়েই পড়েছে ৫টি উইকেট। বিশেষ করে মিলান রত্নায়েকে দুর্দান্ত সুইং বোলিং করে তুলে নেন ৩টি উইকেট।

    এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, কীভাবে লঙ্কানদের বোলিং থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের বোলিং বিভাগে উন্নতি ঘটাতে চান তারা। তার মতে, বাংলাদেশের পেসাররা—বিশেষত হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা—দ্রুতগতিতে বল করতে পারেন এবং যদি তারা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন, তবে ম্যাচে ফায়দা তুলতে পারবেন।

    সালাউদ্দিনের ভাষায়:
    “লঙ্কানরা যেভাবে নতুন বল সুইং করিয়েছে ও বলের মেইনটেন্যান্স করেছে, তা আমাদের শেখার জায়গা। আমাদের পেসাররা যদি একইরকমভাবে বল পরিচালনা করতে পারে, তাহলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা সম্ভব।”

    তিনি আরও বলেন, গল টেস্টের উইকেট তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে স্পিন সহায়ক হয়ে উঠবে, যা স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করবে।

    কোচের পর্যবেক্ষণ:
    “উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য উপযোগী। আমাদের ফিল্ডারদের দারুণ পরিশ্রম করতে হবে। পরিকল্পনামাফিক বল করতে হবে। তারা (লঙ্কানরা) যেমন করেছে, তেমনি আমাদেরও একই মানের বল করতে হবে। তাহলেই ফল আসবে।”

    নতুন বলে রিভার্স সুইং আদায়ের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন সালাউদ্দিন। তার মতে, বল ঠিকভাবে রিভার্স হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

    শেষ কথা:
    লঙ্কান সুইং আক্রমণের বিপরীতে এখন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ—জোরে এবং সঠিক লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। তরুণ পেসারদের হাতে সেই সুযোগ এখন।

  • শান্ত-মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে গলে প্রথম দিন বাংলাদেশের দখলে

    শান্ত-মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে গলে প্রথম দিন বাংলাদেশের দখলে

    এবিএনএ:  গল টেস্টের প্রথম দিনেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। একসময় মাত্র ৪৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে টাইগাররা। তবে এরপর দলকে টেনে তুললেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। উভয়ের সেঞ্চুরিতে দিন শেষে ৩ উইকেটে ২৯২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

    মঙ্গলবার গলে শুরু হওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা একেবারেই হতাশাজনক ছিল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা বেশিদূর এগোয়নি।

    সাদমান করেন ৫৩ বলে ১৪ রান, আর মুমিনুল মাত্র ৩৩ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন। দলীয় সংগ্রহ তখন মাত্র ৪৫ রান। তিনটি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ কোণঠাসা, তখন শান্ত-মুশফিকের দৃঢ়তা ছিল এক অনন্য দৃশ্য।

    অধিনায়ক শান্ত খেলেন দায়িত্বশীল এক ইনিংস। ২০২ বলে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট শতক পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে, প্রায় দশ মাস পর টেস্ট সেঞ্চুরি পেলেন মুশফিক। ১৭৬ বল মোকাবেলা করে ১২তম শতকে পৌঁছান তিনি। দিন শেষে মুশফিক অপরাজিত থাকেন ১০৫ রানে, আর শান্ত ১৩৬ রানে।

    এই জুটির ব্যাটিংয়ে কেবল বাংলাদেশের ইনিংসই টিকে যায়নি, বরং প্রথম দিন পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।