Tag: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

  • রক্তাক্ত বছর ২০২৫: বিশ্বজুড়ে পেশাগত দায়িত্বে প্রাণ গেল ১২৯ সাংবাদিকের

    রক্তাক্ত বছর ২০২৫: বিশ্বজুড়ে পেশাগত দায়িত্বে প্রাণ গেল ১২৯ সাংবাদিকের

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ইতিহাসে ২০২৫ সাল হয়ে উঠেছে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সময়গুলোর একটি। কাজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস–এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ গাজা ও ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত ঘটনায় মারা গেছেন। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী–এর গোলাবর্ষণে বহু ফিলিস্তিনি সাংবাদিক প্রাণ হারান। পাশাপাশি ইয়েমেনে হুথি-সম্পর্কিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলায় বড়সংখ্যক কর্মী নিহত হন—যা সিপিজের নথিভুক্ত ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সিপিজে যেসব ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে, তার বড় অংশের দায়ও ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। গাজায় প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতকালে কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করা হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তবে কয়েকটি ঘটনায় নিহত সাংবাদিকদের সঙ্গে হামাস–এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সিপিজে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন অপবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিহতদের সবাই স্থানীয় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগৃহীত তথ্যের আলোকে সিপিজে বলছে, কোনো একক দেশের সামরিক বাহিনীর হাতে নিশানাভিত্তিকভাবে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা এত বেশি আগে দেখা যায়নি।

    পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় নিহত হন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সুদান–এ ৯ জন এবং মেক্সিকো–এ ৬ জন সাংবাদিক প্রাণ হারান। এছাড়া ইউক্রেন–এ চারজন ও ফিলিপাইন–এ তিনজন নিহত হয়েছেন।

    রাশিয়া সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। তবে কিয়েভ সেই অভিযোগ নাকচ করেছে। সিপিজের প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে জবিসাসের জোরালো অবস্থান, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে জবিসাসের জোরালো অবস্থান, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    এবিএনএ:  গাজীপুরে খুন হওয়া দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জবিসাস)। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভাস্কর্য চত্বরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    জবিসাস নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। একজন সংবাদকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা মানে শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারকে ভয় দেখানো।

    দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলাম বলেন, “তুহিনকে হত্যা করা শুধু একজন সাংবাদিককে স্তব্ধ করার চেষ্টা নয়, এটি গোটা সমাজ ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। আমরা দ্রুত বিচার চাই।”

    সহসভাপতি ও দ্য ডেইলি সানের প্রতিবেদক আসাদুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর বারবার হামলা প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব অপরাধ বিচার না পেলে গণমাধ্যম চুপ হয়ে যাবে।”

    সভাপতি ও দৈনিক সমকালের সাংবাদিক ইমরান হুসাইন বলেন, “আমরা কলম চালাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। অথচ আজ সেই কলমকেই থামিয়ে দিতে চায় দুর্বৃত্তরা। এভাবে চলতে থাকলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চরম হুমকিতে পড়বে।”

    মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন জবিসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মো. জুনায়েত শেখ। উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক নুর আলম (নয়া দিগন্ত), কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন (আমার সংবাদ), আব্দুর রাকিব (দ্য নিউ নেশন), রাকিবুল ইসলাম (আমাদের সময়), রাকিব মাদবর (ডেইলি স্টার) প্রমুখ।

    তাঁরা সবাই তুহিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা চুপ থাকলে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, স্বৈরতন্ত্র আরও বেড়ে যাবে।


    এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়বে, যা রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।