Tag: গণপিটুনি

  • ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে আসা রিকশাচালক আজিজুর এখন কারাগারে

    ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে আসা রিকশাচালক আজিজুর এখন কারাগারে

    এবিএনএ:  রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা রিকশাচালক আজিজুর রহমান শেষ পর্যন্ত কারাগারে গিয়েছেন। গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের আদেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    শনিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত এই নির্দেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।

    শুক্রবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাধারণ মানুষের হাতে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। আদালতে তার পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আটকের আগে আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। কেবল বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি বলেই হালাল উপার্জনের টাকায় ফুল কিনে এখানে এসেছিলাম। আমার উদ্দেশ্য রাজনীতি নয়, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা।”

    মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, গত বছরের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী মো. আরিফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি, পেট্রোল বোমা ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। গুলিতে আহত হয়ে তিনি দীর্ঘ দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এ বছরের ২ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

    তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুর রহমানকে ওই হত্যাচেষ্টা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার স্বার্থে তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।

  • নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    এবিএনএ:  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘনিষ্ঠ শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় সংঘর্ষ কাভার করতে যাওয়া একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হন, এমনকি একজনকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান প্রিন্স তার সমর্থকদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করলে সেখানে উপস্থিত দলের আরেক পক্ষের নেতা আরিফ চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায়। দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

    পরে দেখা যায়, আরিফুজ্জামানের অনুসারী সন্দেহে নগর ভবনের এক কর্মী শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও ইশরাক সমর্থকরা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে আরেক ব্যক্তিকেও প্রিন্সের অনুসারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পুলিশ পরে দুইজনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    ঘটনার বিষয়ে আরিফুজ্জামান প্রিন্স দাবি করেন, নগর ভবনে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রবেশকে প্রতিহত করতে প্রতিনিয়ত বহিরাগতরা হুমকি ও হামলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, তারা একত্রে প্রবেশের চেষ্টা করলেই প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালায়।

    অন্যদিকে, আরিফ চৌধুরীর ভাষ্যমতে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নগর ভবনে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত আটজনকে আহত করে।

    এই সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। নাগরিক টেলিভিশনের রিপোর্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শিশির জানান, তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন, এমন সময় তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়। এমনকি তাকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়।

    এনটিভির রিপোর্টার নাজিবুর রহমানও জানান, তাকে এবং তার ক্যামেরাম্যানকে ভয় দেখিয়ে ভিডিও ধারণ থেকে বিরত রাখা হয়।

    এই ঘটনায় নগর ভবনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইশরাকপন্থীদের বিরুদ্ধে।