Tag: গণতন্ত্র সংকট

  • ভুল সিদ্ধান্তে গণতন্ত্র হুমকিতে পড়তে পারে, সতর্কবার্তা দিলেন তারেক রহমান

    ভুল সিদ্ধান্তে গণতন্ত্র হুমকিতে পড়তে পারে, সতর্কবার্তা দিলেন তারেক রহমান

    এবিএনএ:  সরকার যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সংকটে ফেলতে পারে— এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী অপশক্তিগুলো ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার ও নাগরিকদের থাকতে হবে সর্বোচ্চ সতর্ক।

    বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ায় ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলির পর লাশ ভ্যানে তুলে পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার এক বছর পূর্তিতে ঢাকা জেলা বিএনপি এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

    তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের মালিক জনগণ— এই বাস্তবতাকে মেনে না নিলে রাজনীতি অর্থহীন হয়ে যাবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি জনগণের মুখাপেক্ষী হয়, তবে গুণগত পরিবর্তন আসবে।’ তিনি আরও বলেন, শহীদরা সংখ্যা নয়, তাঁদের ত্যাগেই রাষ্ট্রে পরিবর্তন এসেছে। এ জন্য প্রতিটি শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায় রয়েছে।

    তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আশুলিয়া বা সাভারে শ্রমজীবী শহীদদের সম্মানে একটি বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তুলবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য। কিন্তু আজ সেই সরকারই নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয় সরকার কিংবা জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটে প্রতিনিধিত্ব চায়। কিন্তু সরকার কি সেই সুযোগ তৈরি করছে?”

    সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু এমন কিছু করা যাবে না যাতে আবার ফ্যাসিস্ট শক্তি সুযোগ নেয়। শেখ হাসিনা যেন আর ফিরে না আসতে পারে, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গ্যাস চেম্বারে মানুষ পুড়িয়ে মারতেন, শেখ হাসিনাও ছাত্রদের পুড়িয়ে হত্যা করেছেন।”

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “ফ্যাসিবাদকে সরানো গেছে, কিন্তু এখন এনজিওবাদ রাষ্ট্র চালাচ্ছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, যা তারেক রহমান দেবেন।”

    ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু ও আমিনুল হক প্রমুখ।

  • আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে নয়, সংলাপ ও অংশগ্রহণেই ফিরবে গণতন্ত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

    আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে নয়, সংলাপ ও অংশগ্রহণেই ফিরবে গণতন্ত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

    এবিএনএ: ব্রিটিশ প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে নয়, বরং রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে খুঁজে নেওয়া উচিত।

    এই নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাস সামরিক হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণতন্ত্রের ঘাটতিতে ভরা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পরই সামরিক শাসনের সূচনা ঘটে এবং আজও সেই ছায়া বিদ্যমান। বর্তমান সময়েও, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখনও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অধরা।

    নতুন সরকার নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কার্যক্রম শুরু করে। তারা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এবং অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। মূল্যস্ফীতি কমেছে, আন্তর্জাতিক ঋণপ্রদান আবার শুরু হয়েছে। তবে চীনমুখী পররাষ্ট্রনীতি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরিয়েছে। এতে ভারত একাধিক চুক্তি বাতিল করেছে এবং রাজনৈতিকভাবে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে, মে মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকার। দ্য ইকোনমিস্টের মতে, দুর্নীতির অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতাদের বিচারের আওতায় আনা যৌক্তিক হলেও, পুরো দলকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। এমন সিদ্ধান্ত দেশের ভেতরে ও বাইরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং একটি বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রশ্নবিদ্ধ।

    দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয় বরং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রই হতে পারে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই সময়ের দাবি।

    এই বিশ্লেষণ আরও বলছে, আওয়ামী লীগের জয় এখন নিশ্চিত নয়, তবে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে তাদের সংসদে উপস্থিতি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুসংহত করবে। গণতন্ত্রের পথে ফিরে যেতে হলে পুনর্মিলন ও সহনশীলতাই হতে হবে বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক দর্শন।