Tag: গণঅভ্যুত্থান

  • শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায়: এমপি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

    শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায়: এমপি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

    এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার তদন্তে উঠে আসে, রাজধানী কলম্বোর অদূরে নিত্তাম্বুয়া এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে আইনপ্রণেতা অমরকীর্তি আথুকোরালার গাড়ি পথরোধ করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুলি ছোড়েন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এরপর জনরোষে তিনি ও তার দেহরক্ষী নির্মম গণপিটুনির শিকার হন। বাঁচতে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও হাজারো বিক্ষোভকারীর ভিড়ে তিনি অবশেষে নিহত হন।

    রায়ে আদালত ১২ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই মামলায় আরও ২৩ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা চাইলে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও গুরুতর অপরাধে আদালত নিয়মিতভাবে এ সাজা ঘোষণা করে থাকে।

    ২০২২ সালে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার জেরে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনের সময় সহিংসতা বাড়লে ক্ষমতাসীন দলের বহু আইনপ্রণেতার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। টানা আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন।

    পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন নেতৃত্ব ব্যয় সংকোচনের নীতি অব্যাহত রেখে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে।

  • জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বারবার অবহেলিত হলে ভবিষ্যতে আবারও নতুন গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তিনি জানান, বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন এক পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতা ছিল লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত ছিল তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।

    শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজক ছিল ‘দৈনিক বণিক বার্তা’।

    তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি মানুষের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল। তরুণদের নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, যা ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি ন্যায্য আন্দোলন।

    বর্তমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে দুটি বড় সংকট—কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ও শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত এবং তরুণ সমাজের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবায় ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন রাষ্ট্রীয় বিন্যাসে নগর পরিবহন ব্যবস্থা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

    প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নিতে চান, কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া তা কখনো স্থায়ী হবে না। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে না।

    তিনি আরও বলেন, সমাজে যদি ফ্যাসিবাদী মনোভাব বজায় থাকে, তাহলে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন স্থায়ী হবে না। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে কার্যক্রম চলছে, এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

  • ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার: ‘গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়’

    ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার: ‘গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়’

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তার মতে, “গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।”

    জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, “আপনি সংবিধান রক্ষার কথা বলছেন, অথচ সংবিধানে কোথাও উপদেষ্টা সরকার ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। তাই আপনার সরকার অবৈধ।”

    তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি, বরং সেটিই সরকারের বৈধতার উৎস। তাই ড. ইউনূসকে প্রথমেই নিজের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।

    ফরহাদ মজহার অভিযোগ করে বলেন, “আপনি যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছেন, তার ভিত্তি কী? এত ত্যাগের পর জনগণ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেনি। দেশে প্রকৃত কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এখানে কেবল লুটেরা শ্রেণির আধিপত্য।”

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে উপদেষ্টা সরকার গঠনের যুক্তি নেই।”

    তিনি সরাসরি বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়। রাষ্ট্র চালাতে হলে আপনাকে আইন, রাজনীতি ও জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দিতে হবে।”

    তরুণদের মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি প্রশংসা করলেও অভিযোগ তোলেন, তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না কারণ পুরনো আমলাতন্ত্র এখনো প্রভাব বিস্তার করছে।

  • তরুণদের সচেতনতার ডাক: পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে নয় বাংলাদেশ – পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    তরুণদের সচেতনতার ডাক: পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে নয় বাংলাদেশ – পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  “আমরা আর পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না।” — এমন দৃঢ় বক্তব্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম এই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে উপলব্ধি করবে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেবে।

    শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক মন্তব্য করেন, গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপ করছে—এটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

    এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান বলেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবছে এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    নেপালের সাবেক মন্ত্রী ড. দীপক গাওয়ালি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনছে, তাদের অবশ্যই বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান
    দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে ঢাকা ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা)

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বুধবার আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগামী ২১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, আপিল বিভাগ কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং এমন একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা চান, যা দেশে গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকালীন সংকট এড়াতে সহায়তা করবে।

    তিনি প্রশ্ন রাখেন—“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে?” তবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, রায়ের পর এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হতে পারে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ন্যায়বিচার নষ্ট হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে সিস্টেম। সেই কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। জনগণের ইচ্ছাই নির্ধারণ করেছে কে প্রধান বিচারপতি ও কে সরকারপ্রধান হবেন। এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করলে বিপ্লবের জন্ম হয়। তিনি ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও আদালতে স্মরণ করিয়ে দেন।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া ও আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

  • আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    এবিএনএ: রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পূর্বতন কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এখন নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ফিরছে আলোচনায়। প্রায় এক বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা ১০ তলা ভবনটির দেয়ালে এবার স্থান পেয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের ব্যানার।

    গত বুধবার থেকে ভবনটি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভবনটিতে অন্তত ১০-১২ জন শ্রমিককে বিভিন্ন তলায় পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, পুরো ভবন পরিষ্কার করে হস্তান্তর করা হবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের হাতে।

    ভবনের সামনে বেশ কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায় এবং আগ্রহী পথচারীরা ভবনটির ছবি তুলছেন। তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া, দোতলার আবর্জনা ও অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে।

    পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত কয়েকজন জানান, ভবনটি গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত ও শহীদ পরিবারের দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে। তবে ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ বিষয়ে তারা কিছু জানাতে রাজি হননি, বলেন— কীভাবে ভবনটি ব্যবহার হবে, তা ছাত্র-জনতা ঠিক করবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গুলিস্তানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর থেকে ভবনটি কার্যত বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। ভাসমান মানুষ ও রিকশাচালকদের শৌচাগার ও আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছিল জায়গাটি।

    এরই মাঝে কিছু মাস আগে ‘জুলাই যোদ্ধাদের প্রধান কার্যালয়’ ব্যানার টাঙানো হলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন আসেনি। এবার নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা শুরু হওয়ায় ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

    জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবনটিতে ছিল সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

    পরিত্যক্ত ভবনের পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন কৌতূহলী, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও এটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে— ভবিষ্যতে এই কার্যালয়ের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • “গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যের ডাক”—জাতীয় ঐক্য ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার

    “গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যের ডাক”—জাতীয় ঐক্য ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শহীদদের রক্ত বৃথা না যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    খালেদা জিয়া বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র ও জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ লড়াইয়ে নিহতদের ত্যাগ আমাদের পথ দেখায়।” তিনি তাদের জন্য যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।

    তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই দেশে একদলীয় শাসনের ভয়াবহতা চলছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে দমন করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

    বিএনপির চেয়ারপারসন এ সময় গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য তালিকা প্রণয়ন, ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, “এই রক্তের মূল্য দিতে হবে। বীরদের আত্মত্যাগ যেন ব্যর্থ না হয়। আমাদের সবার দায়িত্ব শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়া এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সভার শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও শহীদদের অবদান তুলে ধরা হয়।

    খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের শেষে বলেন, “চলুন, আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করি, জনগণের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করি এবং আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করি।”

  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাইবার আইন সংশোধন: জানালেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাইবার আইন সংশোধন: জানালেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    এবিএনএ:  আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই দেশের আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। এই আইনটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও এখন তা জনবান্ধবভাবে সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ‘কমনওয়েলথ চার্টার’ বিষয়ক একটি কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এই আইন এক সময় অপব্যবহারের জন্য বহুল সমালোচিত ছিল। তবে সংশোধনের পর এখন এটি অনেক বেশি মানবিক ও স্বাধীন মতপ্রকাশবান্ধব। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও স্বীকার করেছে, এটি এখন আর আগের মতো ভয়ঙ্কর নয়।”

    তিনি বলেন, আইনটি এখন আর সরকারবিরোধী মত দমন করার হাতিয়ার নয় বরং এটি হয়েছে জনগণের অধিকার রক্ষার একটি উপযোগী মাধ্যম। অতীত সংস্করণগুলোর তুলনায় নতুন সংস্করণটি অনেক বেশি গণবান্ধব ও নিরপেক্ষ, যা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর হলেও মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে না।

    কমনওয়েলথ সনদকে শুধু একটি ঘোষণাপত্র নয়, বরং একটি নৈতিক মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, “এই সনদ আমাদের জন্য একটি আদর্শিক পথনির্দেশিকা। এর আলোকে সরকার যে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা সাহসিকতারই পরিচায়ক।”

    তিনি আরও বলেন, “গত বছরের জুলাই-আগস্টে যে গণজাগরণ দেখা গিয়েছিল, তা ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এটি ছিল এক নৈতিক আন্দোলন। সেই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তরুণরাই আগামী দিনে বড় পরিবর্তনের রূপকার হবে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম। কমনওয়েলথের সহকারী মহাসচিব অধ্যাপক লুইস ফ্রান্সেশি বলেন, তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে এই কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের রক্ষায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    কর্মশালার সমাপনীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের উপদেষ্টা মাইকেল স্কোবি।