Tag: খায়রুল বাসার

  • ঢাবিতে ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ঘোষণায় খায়রুল বাসারের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

    ঢাবিতে ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ঘোষণায় খায়রুল বাসারের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

    এবিএনএ:  ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার আবারও আলোচনায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসা পেলেও, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোয় এবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষার্থী তার ও কয়েকজন তারকার বিরুদ্ধে ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজদের উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে খোলামেলা বার্তা দিয়েছেন বাসার।

    তিনি লেখেন, “আজ নাকি ঢাবি ক্যাম্পাসে আমার ছবিতে জুতা নিক্ষেপ হবে? আমি কোন অপরাধ করেছি? অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলে, নাকি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছি বলে?”

    নিজের আবেগ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, “আমার ভাইয়েরা, আমার ছবিটা বড় করে প্রিন্ট করো এবং সবচেয়ে পচা জুতাটা ছুঁড়ে মারো। আমি হাসিমুখে তা গ্রহণ করবো। কারণ আমি বুঝেছি, তোমরা রাজনৈতিক পথে নেমেছো। মানুষের আবেগ এখন তোমাদের কাছে গুরুত্বহীন। তবুও ভালোবাসা আর শুভকামনা রইলো।”

    এর আগে ১৫ আগস্ট বাসার তার সামাজিক মাধ্যমে আল মাহমুদের একটি কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের ‘বাংলার ধ্রুবতারা’ কবিতার অংশ শেয়ার করেন। পোস্টটিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • অ্যাওয়ার্ড শো ছেড়ে মনু মিয়ার জানাজায় ছুটে গেলেন খায়রুল বাসার

    অ্যাওয়ার্ড শো ছেড়ে মনু মিয়ার জানাজায় ছুটে গেলেন খায়রুল বাসার

    এবিএনএ: কিশোরগঞ্জের ইটনার সেই মনু মিয়া—যিনি বিনা পারিশ্রমিকে জীবনের প্রায় ৫০ বছর কবর খুঁড়েছেন—চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর মৃত্যুসংবাদ শুনে আর দেরি না করে কিশোরগঞ্জে পৌঁছে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার, যদিও সে দিনই ঢাকায় একটি অ্যাওয়ার্ড শোতে তাঁর পুরস্কার নেওয়ার কথা ছিল।

    ৬৭ বছর বয়সী মনু মিয়া জীবদ্দশায় খুঁড়েছেন ৩ হাজার ৫৭টি কবর, বিনিময়ে নেননি কোনো পারিশ্রমিক বা উপহার। নিজের কাজকে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদন করেছিলেন।

    মনু মিয়ার জীবনের গল্প প্রথমবার জানতে পারেন অভিনেতা খায়রুল বাসার, যখন মনু মিয়া হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় মনু মিয়ার প্রাণপ্রিয় ঘোড়াটিকে কেউ হত্যা করলে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর বাসার তাকে একটি ঘোড়া উপহার দিতে চাইলেও, মনু মিয়া কিছুই নেননি—শুধু চেয়েছিলেন দোয়া।

    তিন দিন আগে মনু মিয়ার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় বাসারের। মৃত্যুসংবাদে আবেগাপ্লুত বাসার বলেন, “পুরস্কার আরও পাওয়া যাবে, কিন্তু এই মানুষটিকে শেষবার দেখা না হলে সারাজীবন আফসোস থেকে যেতো।”

    কিশোরগঞ্জে গিয়ে বাসার দেখেছেন মনু মিয়ার নিজ হাতে বানানো সরঞ্জাম ও সেসব সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা জিনিসপত্র। তাঁর কথায়, “মনু কাকা আমাকে বহুবার বাড়িতে ডাকতেন। কথা দিয়েছিলাম যাব, কিন্তু আজ এলাম যখন তিনি নেই।”

    খায়রুল বাসার তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনু মিয়াকে ‘আজন্ম নায়ক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, “মনু মিয়া নিজে অসহায় ছিলেন না, বরং অসহায়দের সহায় হতে চেয়েছেন। এই সমাজে এমন উদাহরণ খুব বিরল।”

    মনু মিয়ার জীবনব্যাপী অবদান আমাদের শিখিয়ে দেয় মানবতার প্রকৃত রূপ। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি অন্যের সেবা করে গেছেন নিঃস্বার্থভাবে।