Tag: খাদ্যশস্য আমদানি

  • মোংলা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গম: পঞ্চম চালানে এলো ৫৮ হাজার ৫০০ টন, খালাস কার্যক্রম শুরু

    মোংলা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গম: পঞ্চম চালানে এলো ৫৮ হাজার ৫০০ টন, খালাস কার্যক্রম শুরু

    এবিএনএ,মোংলা: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজ থেকে গমের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘এমভি ক্যালাপসো এন’ নামের জাহাজটি বুধবার সমুদ্রসংলগ্ন বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় নোঙর করে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজ থেকে গম নামানোর কাজ শুরু হয়।

    জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠান সেভেন সিজের ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানান, গত ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কালামা বন্দর থেকে জাহাজটি মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ১১ মার্চ বন্দরের ফেয়ারওয়ে এলাকায় পৌঁছায় এবং পরদিন থেকে গম খালাস কার্যক্রম চালু করা হয়।

    মোংলা খাদ্য বিভাগের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবহান সরদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় এই গম আমদানি করা হচ্ছে। এই চুক্তির অধীনে মোট চার লাখ ৫০ হাজার টন গম মোংলা বন্দরের মাধ্যমে দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি জানান, চলমান আমদানি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি পঞ্চম চালান। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও চারটি চালান মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

    খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২ নভেম্বর প্রথম চালানে ২২ হাজার ৭৮০ টন, ১৪ নভেম্বর দ্বিতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮৭৫ টন, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তৃতীয় চালানে ২২ হাজার ৭৫৬ টন এবং ১ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ চালানে প্রায় ৫৬ হাজার টন গম আমদানি করা হয়।

    এসব গম প্রথমে মোংলা বন্দরের সরকারি খাদ্যগুদাম বা সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় নিয়মিত খাদ্যশস্য আমদানি করা হচ্ছে।

  • রেকর্ড খাদ্যশস্য আমদানি সত্ত্বেও ঝুঁকিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা

    রেকর্ড খাদ্যশস্য আমদানি সত্ত্বেও ঝুঁকিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা

    এবিএনএ:  দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করেছে সরকার। চলতি অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমলেও খাদ্য আমদানির ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর কারণ হিসেবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ প্রধান ধান উৎপাদন অঞ্চলে টানা চার দফা বৃষ্টিতে উৎপাদন হ্রাসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    সরকার বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২১ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রেখেছে। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, ১৭ আগস্ট থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হবে, যেখানে এবার ৫ লাখ নতুন পরিবার যুক্ত হয়ে মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৫ লাখে।

    তবে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫’-এ দেখা যাচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের একটি বাংলাদেশ, অবস্থান চতুর্থ। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু খাদ্যের অভাব নয়, স্বাস্থ্যকর খাবারের দিক থেকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এখনও দেশের প্রায় ৭ কোটি ৭১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পান না, আর ১০ শতাংশের বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে।

    সরকারি তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫.৭২ লাখ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬.৮৩ লাখ টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬.৩৩ লাখ টন খাদ্য আমদানি হয়েছিল। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ—১২ লাখ ৯৬ হাজার টন।

    অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, খাদ্য সংকট বৈশ্বিক বিষয় এবং এর ওপর প্রভাব বিস্তার করে বড় অর্থনীতির দেশগুলো। অন্যদিকে ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, দৃশ্যমান ক্ষুধা না থাকলেও দেশে “চাপা ক্ষুধা” বিদ্যমান, যা মানুষের জীবনযাপনের ধরণ পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৫৩টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে, যেখানে নাইজেরিয়া, সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়া শীর্ষে।