Tag: ক্ষমতা হস্তান্তর

  • অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ কী? ‘এক্সিট পলিসি’ ভাবনার তাগিদ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ কী? ‘এক্সিট পলিসি’ ভাবনার তাগিদ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    এবিএনএ: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট পলিসি’ বা প্রস্থানের রূপরেখা তৈরি করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, ভবিষ্যতের সরকার সেগুলোর পূর্ণ বৈধতা দেবে কি না—সে প্রশ্ন আজও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে।

    বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে ‘ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশ’-এর আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে দেবপ্রিয় এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজনীয়তা তখনই সামনে আসে, যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং স্বাধীন নির্বাচনী কাঠামোর অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইতিহাস বলছে, যখন কোনো রাজনীতিক শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হন না, তখনই রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।”

    অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দেবপ্রিয় আরও বলেন, “আমরা যারা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি, তারা প্রত্যক্ষ করেছি কীভাবে একটি জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং কেন একটি নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হয়। আজকে একই বাস্তবতা আমাদের সামনে উপস্থিত।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “এখন সময় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে, একটি গ্রহণযোগ্য ‘এক্সিট পলিসি’ নির্ধারণ করার, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় না পড়ে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হয়।”

  • নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান সেনাপ্রধানের

    নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান সেনাপ্রধানের

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

    ঢাকা সেনানিবাসে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, দেশে একটি অরাজক অবস্থা তৈরি হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা দেশের জন্য চরম ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

    সেনাপ্রধান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে, কেবল সেনাবাহিনী এখনো দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু এই দীর্ঘস্থায়ী মোতায়েন সেনাবাহিনীর মূল কাজ ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    তিনি বলেন, মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এখতিয়ারে পড়ে না। কেবলমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারই এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “There will be no corridor”।

    জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর মতামত না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও বর্তমান সরকার তা করতে দেয়নি। ফলে অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে না।

    সেনাপ্রধান অভিযোগ করেন, দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দেশের সংকটকে আরও গভীর করতে চায়, যাতে তারা নিজেদের সুবিধা আদায় করতে পারে।

    তিনি সরাসরি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অভিভাবকহীনভাবে দায়িত্ব পালন করা সেনাবাহিনীর জন্য একটি নির্বাচিত সরকার এখন প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যারাকে ফিরে যেতে পারবে।

    সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে নিজেদের কর্তব্য পালন করে। জনগণের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় থাকতে হবে এবং কোনো মহল যেন সেনাবাহিনী বা দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    শেষে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী কখনও এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না বা কাউকে নিতেও দেবে না, যাতে দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়। সবকিছু বিবেচনায়, এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক সরকারকে দায়িত্ব দেওয়ার এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা করার।