Tag: কোস্ট গার্ড

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    এবিএনএ: সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

    রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ দফার অভিযানে এই সাফল্য আসে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে রবিবার ভোর চারটার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক দুই ডাকাত হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

    অভিযান চলাকালে ডাকাতদের কবল থেকে চার জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    এদিকে জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    মাসুদ রানা,মোংলা: অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড এ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধানকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

    মঙ্গলবার ১২ মে  সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। এছাড়া কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (সদর দপ্তর মোংলায় ) ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ব্রিফিং প্রদান করেন  লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ,(এক্স), বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস তৌহিদ।

    মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে চতুর্থ বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” -এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়। প গোপন তথ্যের ভিত্তিতে,  ১২ মে  মঙ্গলবার মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ২ টি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ আটক করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীর (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ,মোংলা : বনদস্যু শরীফ বাহিনী সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে অন্তত ১০ জেলেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করছে।

    এর মধ্যে ৫ জন বাগেরহাটের মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকিরা মোরেলগঞ্জ এলাকার । সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সত্যতা নিশ্চিত করতে তারা কাজ শুরু করেছেন।

    মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম নাসিম উদ্দিন জানান, সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে ১১ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্য। এরমধ্যে সবুর নামের এক জেলে  ২০ হাজার টাকা বকেয়া রেখে  ফিরে এসেছে। তার বাবা নাম আব্দুল হামিদ। সে সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা । এছাড়াও একই এলাকার মানিক শেখ,  আবু বকর গাজী, জাকির ফরাজী, নুরজামাল শিকদার, ওয়াহিদ মুন্সি কে জিম্মি রেখেছে। এসময়  মোরেলগঞ্জ এলাকার আরও ৫ জন তাদের হাতে জিম্মি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    দস্যুরা এখনও পর্যন্ত মুক্তিপন বিনিময় কি দিতে হবে তা জানায়নি।

    অপরদিকে, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা  লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল  আরেফিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তারা তথ্য যাচাই ও বিশেষ নজরদার শুরু করেছেন।

  • সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    এবিএনএ,মোংলা :সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সুন্দরবনে একযোগে দুটি বিশেষ অভিযান—‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে সক্রিয় দস্যু চক্র দমনে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও জানান, বনাঞ্চলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দস্যুদের আস্তানা শনাক্ত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে নদীপথে টহলও জোরদার করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    এছাড়া ৫৯৯ রাউন্ড গুলি, ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি শিকারের ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ২৯ জন শিকারিকেও আটক করেছে বাহিনীটি।

    ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অপারেশন রিস্টোর পিস ও ম্যানগ্রোভ শিল্ডের মাধ্যমে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দস্যুতা দমন এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে হাত-পা বাঁধা জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে হাত-পা বাঁধা জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ১ জেলেকে উদ্ধার করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন ।

    মঙ্গলবার ৩১ মার্চ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনী খুলনার কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। তথ্যের ভিত্তিতে, আজ ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার মধ্যরাত ২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিকে নৌকায় রেখে বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত জেলে মজিবর গাজী (৫০) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। জেলে মজিবর গাজী কাকড়া আহরনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন ।

    উদ্ধারকৃত জেলেকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • স্বাধীনতা দিবসে মোংলায় জনস্রোত—নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখার বিরল সুযোগ

    স্বাধীনতা দিবসে মোংলায় জনস্রোত—নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখার বিরল সুযোগ

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বন্দরনগরী মোংলায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ। দিনটি ঘিরে সেখানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এই বিশেষ আয়োজন উপভোগ করতে ভিড় করেন।

    নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিগরাজ নেভাল জেটিতে অবস্থানরত বিএনএস আবু বকর যুদ্ধজাহাজটি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। একই সময় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের জেটিতে বিসিজিএস কামরুজ্জামান যুদ্ধজাহাজটিও সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

    শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবারসহ এসে এসব যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখেন। জাহাজে অবস্থানরত নাবিকরা দর্শনার্থীদের জাহাজের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সমুদ্র নিরাপত্তায় এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

    এই আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আধুনিক নৌ-সামরিক শক্তি সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ পান। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন আরও নিয়মিত করার দাবি জানান।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবন এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত আসাবুর বাহিনীর প্রধান সহযোগী রবিউল ইসলামকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসাবুর বাহিনীর প্রধান মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জেলেদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিউল ইসলামকে অস্ত্রসহ সুন্দরবনে পাঠানো হয়।

    এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও নলিয়ান আউটপোস্টের সমন্বয়ে শিবসা নদীর কুমারখালি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ওই এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রবিউল ইসলাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    আটক রবিউল খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সে আসাবুর বাহিনীর হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, রবিউলকে গ্রেপ্তারের ফলে আসাবুর বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এবং তাদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    এবিএনএ,মোংলা: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে বাহিনীটি জানতে পারে যে সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যরা চিলা ইউনিয়নের ফেলুরখন্ড-বৈদ্যমারী এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে বৈদ্যমারী বাজারের আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ইয়াছিন শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি ছোট সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে সুন্দরবনের ধানসিঁড়ির চর খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনালা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    আটক ইয়াছিন শেখ মোংলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র ও রসদ সরবরাহে ভূমিকা রাখছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলিও জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযান: ডাকাতের কবল থেকে জীবিত ফিরলেন ৬ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযান: ডাকাতের কবল থেকে জীবিত ফিরলেন ৬ জেলে

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ধর্ষ ডাকাতচক্র ‘নানা ভাই বাহিনী’র হাতে জিম্মি ছিলেন।

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গত ৭ মার্চ মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ৬ জেলে অপহরণের শিকার হন। পরে ডাকাতরা তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি ১০ দিন পর কোস্ট গার্ডের জরুরি নম্বর ১৬১১১-তে জানানো হলে অভিযান প্রস্তুতি শুরু হয়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মার্চ ভোর ৫টার দিকে কোস্ট গার্ডের নলিয়ান আউটপোস্ট শিবসা নদীর কাছাকাছি কালির খাল এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জিম্মি থাকা ৬ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতরা দ্রুত বনের ভেতরে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—রফিকুল (৩০), আলামিন (২৬), ইসমাঈল শানা (২৪) (খুলনার কয়রা থানা) এবং রমজান আলী (৩৬), রেজওয়ান (২২), মিয়া রাজ (১৮) (সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানা)।

    বর্তমানে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দয়াল বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দয়াল বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্য আটক।

    মঙ্গলবার ১০ মার্চ  বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সদস্য রসদ সরবরাহের নিমিত্তে সুন্দরবনে গমন করবে।  তথ্যের ভিত্তিতে  ১০ মার্চ  মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান কর্তৃক দাকোপ থানাধীন শিবসা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহকারী আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়।

    পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতের তথ্যের ভিত্তিতে, আজ দুপুর ১টায় দাকোপ থানাধীন টাকাতোলা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত আব্দুল হালিম (৩৬) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ দয়াল বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।