Tag: কোরবানি

  • কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    এবিএনএ:ত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক অনন্য শিক্ষা বহন করে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কোরবানি—যা কেবল পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতীক।

    ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিই কোরবানির মূল প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। এই ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    পবিত্র কোরআন-এ আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—নিজ রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত নয়, বরং মানুষের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

    হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদের জামাতে না আসে—এমন কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে।


    কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। এটি সেই সব প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক।

    এই নির্ধারিত সম্পদের পরিমাণকে বলা হয় “নিসাব”।


    নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত?

    কোরবানির সময় (১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) যদি কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিচের পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক—

    • স্বর্ণ: সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি)
    • রুপা: সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি)
    • অথবা সমপরিমাণ অর্থ বা সম্পদ (রুপার মূল্যের ভিত্তিতে)

    যদি কারও কাছে স্বর্ণ বা রুপা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে উভয়টি মিলিয়ে কিংবা নগদ অর্থ, অতিরিক্ত সম্পদ যোগ করে যদি তা রুপার নিসাবের সমান হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।


    কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

    নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সম্পদ বিবেচনায় আসবে—

    • স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
    • নগদ অর্থ
    • প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
    • অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা সম্পদ

    তবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।


    যাকাত ও কোরবানির সম্পর্ক

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—যাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর সম্পদ থাকা শর্ত, কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই দায়িত্ব বর্তায়।


    উপসংহার

    কোরবানি শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকলে এই ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

  • ঈদে চামড়ার দাম নিয়ে আর জটিলতা নয়, সিন্ডিকেট রোধে কঠোর হবেন প্রধান উপদেষ্টা

    ঈদে চামড়ার দাম নিয়ে আর জটিলতা নয়, সিন্ডিকেট রোধে কঠোর হবেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গঠন করেছেন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রতি বছর দেখা যায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা চামড়া বিক্রির মাধ্যমে সামান্য উপার্জনের আশা করেন, তারা প্রাপ্য দাম থেকে বঞ্চিত হন। এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং এই অবস্থার অবসান প্রয়োজন।”

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, চামড়ার বাজারে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা কৌশলে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এই সিন্ডিকেটকে ভাঙতেই এই উদ্যোগ।

    চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন তিনি। পশুর প্রতি যেন অমানবিক আচরণ না হয়, সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

    📌 গঠিত কমিটি ও সদস্যরা:
    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ আরও অনেকে।

    প্রধান উপদেষ্টা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ইটিপির সঠিক ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    এছাড়াও, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেন নগরবাসীর জন্য সমস্যা না হয়, সেদিকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ঈদে চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।