Tag: কুরআন

  • ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    এবিএনএ: ভূমিকম্প মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি জাগায়। আধুনিক বিজ্ঞানে একে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভূত্বকের ফল্ট বরাবর চাপ জমে হঠাৎ সরে গেলে কম্পন-তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের জন্য ভূমি কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলকে হাইপোসেন্টার বলা হয়, আর এর ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের অংশকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম ভূমিকম্পকে কেবল একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেই থামে না; বরং একে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করে। কুরআনে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতার কারণে শাস্তি হিসেবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ আছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে, এসব নিদর্শনের উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমালোচনায় ফিরিয়ে আনা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা।

    ইসলামের ব্যাখ্যায় ভূমিকম্প আল্লাহর শক্তির প্রকাশ—তিনি চাইলে ওপর থেকেও, নিচ থেকেও আজাব পাঠাতে সক্ষম। কেয়ামতের দিন পৃথিবীর ভয়াবহ কম্পনের কথাও কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, যা মানুষকে শেষ বিচারের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিপর্যয়কে মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে উল্লেখ করে আত্মশুদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    হাদিসে এসেছে, সমাজে অন্যায়, অবক্ষয় ও নৈতিক অবনতি বাড়লে ফিতনা, যুদ্ধ ও ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয় বৃদ্ধি পায়। আবার মুমিনদের জন্য এসব বিপদ পরীক্ষাস্বরূপ—ধৈর্য ধরলে পাপ মোচন হয় এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান লাভের আশা করা যায়। কিছু হাদিসে ভূমিকম্পে নিহতদের শহীদি মর্যাদার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    করণীয় কী?
    বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে আত্মসমালোচনা করা জরুরি। তাওবা-ইস্তেগফার বৃদ্ধি, দান–সদকা বাড়ানো, মানুষের হক আদায়, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা এবং গোনাহ থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিয়েছেন আলেমরা। পাশাপাশি বাস্তব জীবনে দুর্যোগ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা মেনে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।