Tag: কুকি চিন

  • হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ: চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট পোশাক জব্দ মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার পর বিচারপতিদের স্বাক্ষরযুক্ত আদেশ পরিবর্তন করে নতুনভাবে জাল নথি তৈরি করা হয়। সেই ভুয়া আদেশ কারাগারে দাখিল করে আসামি সাহেদুল ইসলাম মুক্তি পান।

    এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতে আরেক আসামির জামিন শুনানির সময় সামনে আসে। বিষয়টি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নজরে আনেন। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

    বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার জেনারেল জানান, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতি রয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

    প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, এত বড় ধরনের জালিয়াতি অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই ঘটনার গভীরে গিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    মামলার পটভূমি

    ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় অবস্থিত রিংভো অ্যাপারেলস কারখানার গুদাম থেকে প্রায় ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ ছিল, এসব পোশাক পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-এর সদস্যদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

    এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম (২৫), অর্ডারদাতা গোলাম আজম (৪১) এবং নিয়াজ হায়দার (৩৯)।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদন ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামানকে জব্দ অভিযানের সাক্ষী করা হয়।

    সংগঠনটির প্রেক্ষাপট

    পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে সশস্ত্র সংগঠনটির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের দিকে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিত।