Tag: কিম জং উন

  • কিমের নির্দেশ — ‘পারমাণবিক ঢাল-তলোয়ার’ আরো ধারালো করুন: দেশকে রক্ষা করতে সব সম্পদ কাজে লাগাতে বললেন কিম জং উন

    কিমের নির্দেশ — ‘পারমাণবিক ঢাল-তলোয়ার’ আরো ধারালো করুন: দেশকে রক্ষা করতে সব সম্পদ কাজে লাগাতে বললেন কিম জং উন

    এবিএনএ:  উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশরক্ষার উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রতিরক্ষা আরও মজবুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। গত শুক্রবার পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রধান বিজ্ঞানীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সুবিধা রক্ষায় ‘পারমাণবিক ঢাল-তলোয়ার’ ক্রমাগত উন্নত ও নবায়ন করতে হবে এবং এজন্য দেশের সব উপস্থত সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, কিম পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্ত করা দেশের ‘মৌলিক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ হিসেবে দেখছেন। তিনি গবেষক ও সামরিক কর্মকর্তাদের একেবারে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, পারমাণবিক প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর রাখতে হবে — যাতে দেশ বাইরের হুমকি মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্যভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে যে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি তিন দশক ধরে চালিয়ে যাচ্ছে এবং গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু সূত্র দাবি করেছেন যে পিয়ংইয়ং বছরে কয়েকটি পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন সম্ভাবনা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে কিমের নির্দেশকে নিরাপত্তা নীতিতে আরও এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

    সিউল সরকারের সাম্প্রতিক বিবেচনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় মজুদ থাকার অনুমানও উঠেছে। এই খবরের পর কিম শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সামরিক প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ পর্যালোচনা করেছেন এবং উক্ত সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে যে পারমাণবিক উপাদান ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা চলমান রয়েছে।

    উল্লেখ্য, কিমের এই ভাষণের বিস্তারিত কৌশলগত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি; তবে রাজ্যের রূপরেখা অনুযায়ী তিনি দেশীয় সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন — যা কোরীয় উপদ্বীপ ও আন্তর্জাতিক স্তরে সতর্কতার সুর তৈরি করছে।

  • পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

    চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে এই তিন নেতা একসাথে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে চীন তাদের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে—যার মধ্যে ছিল লেজার প্রযুক্তি, যা প্রতিপক্ষের বিদ্যুৎ লাইন বিকল করতে সক্ষম। এছাড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত সাবমেরিন ও মানববিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়।

    কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করে শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এখনো শান্তি নাকি যুদ্ধের বিকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, “চীন অপ্রতিরোধ্য।” এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে শি-র পাশে ছিলেন পুতিন ও কিম।

    ট্রাম্প পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি শি জিনপিংকে উদ্দেশ করে লেখেন, “আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, দয়া করে পুতিন ও কিমকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।” যদিও বার্তার শেষে তিনি চীনের জনগণের জন্য শুভকামনা জানান।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, “এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। শি, পুতিন ও কিম—কোনও নেতার মধ্যেই এমন ভাবনা ছিল না।”

  • শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। দীর্ঘ ছয় বছর পর তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন এবং এটি হবে ২০১৯ সালের পর তার প্রথম চীন সফর। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ নেতা এতে অংশ নিচ্ছেন না।

    কিম জং উন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তার প্রথম অংশগ্রহণ। যদিও কতদিন তিনি চীনে থাকবেন বা শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—তা নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

    চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ কুচকাওয়াজে ইরান, সার্বিয়া, বেলারুশ, কিউবা, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার নেতারাও যোগ দেবেন। সেখানে চীনের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভাষণ দেবেন।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকছে। তবে উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সহায়তা এখনো অপরিহার্য, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কিমের এ সফরের মাধ্যমে শুধু চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অতীতে কিমের কয়েক দফা বৈঠক হলেও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সমঝোতা ব্যর্থ হয়েছিল। এখন নতুন উদ্যোগে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।