Tag: কারাগার

  • ভূমিকম্পের সুযোগে করাচির কারাগার থেকে ২ শতাধিক কয়েদির পালানো, আতঙ্কে প্রশাসন

    ভূমিকম্পের সুযোগে করাচির কারাগার থেকে ২ শতাধিক কয়েদির পালানো, আতঙ্কে প্রশাসন

    এবিএনএ :

    পাকিস্তানের করাচিতে একাধিক ভূমিকম্পের জেরে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সোমবার রাতে শহরের মালির কারাগার থেকে পালিয়েছে ২১৩ জন কয়েদি। ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েদিদের নিরাপদ স্থানে সরানোর সময় কারারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কয়েদিরা।

    পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, রবিবার সকাল থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত করাচি ও আশপাশের এলাকায় মোট ১৬ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় কারাগারের ভেতরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা শিথিলতার সুযোগে পালিয়ে যায় শতাধিক কয়েদি।

    কারা সূত্র বলছে, মূলত ৪ ও ৫ নম্বর সার্কেলের কয়েদিরা এই পরিকল্পিত পলায়নের সঙ্গে যুক্ত। সংঘর্ষের সময় এক কয়েদি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং গুরুতর আহত হন একজন কারারক্ষী।

    মালির কারাগারের সুপারিন্টেনডেন্ট আরশাদ শাহ বলেন, “পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।”

    এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮০ জন পলাতককে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৩৩ জনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে অংশ নিচ্ছে পুলিশ, রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কর্পস, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট ও র‌্যাপিড রেসপন্স ফোর্স।

    দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পগুলোর উৎস ছিল ভূমির অগভীর স্তরে, যার কারণে কম্পনগুলো বেশ শক্তিশালী অনুভূত হয়েছে।

    সাম্প্রতিক এই ঘটনা পাকিস্তানের কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কারাগার থেকেই আন্দোলনের ডাক ইমরান খানের, পিটিআই নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ

    কারাগার থেকেই আন্দোলনের ডাক ইমরান খানের, পিটিআই নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ

    এবিএনএ:

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি পিটিআই নেতা ইমরান খান দলীয় নেতাকর্মীদের পাকিস্তানজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারাবন্দি অবস্থাতেই তিনি এই বার্তা দিয়েছেন এবং দলীয় ভেতরে সরকারের সঙ্গে আঁতাত রাখা নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

    সোমবার পাঞ্জাবের আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার বোন আলিমা খান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “ভাইয়ের ওপর সরকারের নিপীড়ন সীমা ছাড়িয়েছে।” আলিমা অভিযোগ করেন, ইমরান খানের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতের অধিকারও সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছে এবং গত আট মাসে একবারই তিনি তার সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।

    এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশ জারি করেছে, যাতে ইমরানের বোনদেরও ভবিষ্যতে দেখা করার অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    পিটিআইয়ের ভেতরে ভাঙন ঠেকাতে বার্তা:
    ইমরান খান দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, যারা সরকারের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন, তারা ‘উইকেটের দুই পাশে খেলছেন’। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের মধ্যে তাদের কোনো স্থান থাকবে না। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    কারাবরণ মেনে নেবেন, আপস নয়:
    ইমরান খানের ভাষায়, “সরকারের সঙ্গে কোনো আপস নয়। প্রয়োজনে জীবনভর কারাগারে থাকব, কিন্তু ন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।”

    দলের ভেতরে ভিন্ন সুর:
    যদিও ইমরান খান আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন, দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পিটিআইয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতা সরকারপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইমরান খানের মুক্তি নিশ্চিত করা।
    এই অনানুষ্ঠানিক সংলাপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যারিস্টার গওহর খান, যিনি একসময় ইমরানের আইনজীবী ছিলেন এবং বর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।

    সরকারের পক্ষ থেকেও আলোচনার কিছু ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি নতুন উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে। ইমরান খানের আন্দোলনের বার্তা এবং দলের ভেতরের আপসপন্থী কৌশল দুটি বিপরীতমুখী পথ হলেও পরিণতিতে এটি পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি বড় বাঁক তৈরি করতে পারে।