Tag: কাঁকড়া শিকার

  • সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়ে এক জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। ‘আল আমিন বাহিনী’ পরিচয়ে একদল সশস্ত্র দস্যু তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অপহৃত জেলে মিজান শেখ (৪০) মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজ্জাক শেখের ছেলে।

    মিজানের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই আল আমিন শেখ জানান, প্রয়োজনীয় অনুমতি (পাস) নিয়ে তারা গত ১৪ মার্চ সুন্দরবনে প্রবেশ করেন মাছ ও কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে। ১৬ মার্চ রাতে বনাঞ্চলের একটি খালে অবস্থানকালে হঠাৎ করে দস্যুরা তাদের ঘিরে ফেলে।

    এ সময় দস্যুরা মিজান শেখকে জোরপূর্বক নৌকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে তার সঙ্গে থাকা আল আমিন শেখকে নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি বাড়িতে গিয়ে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের খবর দেন।

    অপহরণের পরপরই বনদস্যুরা মিজানকে মুক্তি দিতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় মিজানের বড় ভাই হুমায়ন শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “ঋণ করে জীবিকার তাগিদে বনে গিয়েছিল আমার ভাই। এখন একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের চাপ—সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা।”

    তবে মোংলা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মহরম জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ ঘটনায় সুন্দরবন এলাকায় কর্মরত জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঁকড়া শিকার, অভিযান চালিয়ে ৪ জন আটক:জব্দ নৌকা ও ট্রলার

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঁকড়া শিকার, অভিযান চালিয়ে ৪ জন আটক:জব্দ নৌকা ও ট্রলার

    এবিএনএ,মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা: পূর্ব সুন্দরবনে শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৮০ কেজি কাঁকড়া উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া ধরার অপরাধে চার কাঁকড়া শিকারিকে আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে এসব কাঁকড়া জব্দ ও জড়িতদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আটকরা হলেন, রফিক মোল্লা (৪৮), রউফ মোল্লা (৪৫), আলামিন শেখ (৩১) ও আছাদুল শেখ (৩০)। তাদের সবার বাড়ি দাকোপের পানখালী ও মোরেলগঞ্জের ছোলম বাড়ীয়ায়।

    বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছুলিয়ার খালের মুখে একটি ট্রলার ও ডিঙ্গি নৌকাসহ চারজনকে আটক করা হয়। এসময় ট্রলার ও নৌকায় তল্লাশি করে ৮০ কেজি কাঁকড়া জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে চারজনকে জ্ঞানপাড়াট হল ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে কাঁকড়া ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে কাঁকড়া পাচার: বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে কাঁকড়া পাচার: বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনের গভীর এলাকা থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ পাঁচজন কাঁকড়া ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলা।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতভর পরিচালিত অভিযানে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১২ মন ২৫ কেজি বা প্রায় ৪৯০ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

    শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুনতাসীর ইবনে মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম চলাকালীন সময়ে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে এসব কাঁকড়া সংগ্রহ ও মজুত করা হচ্ছিল।

    আটককৃত ব্যবসায়ীরা হলেন— তরুণ সরকার, মনজুর ঢালী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গাজী, মাসুম বিল্লাহ ও মোহাম্মদ আজাদ সানা। তারা সবাই খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকার বাসিন্দা।

    জব্দকৃত কাঁকড়া ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কাঁকড়ার প্রজনন সুরক্ষায় প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার, পরিবহন ও বেচাকেনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।