Tag: কলম্বো টেস্ট ২০২৫

  • কলম্বো টেস্ট: শ্রীলঙ্কার দাপটে দ্বিতীয় দিনেই কোণঠাসা বাংলাদেশ

    কলম্বো টেস্ট: শ্রীলঙ্কার দাপটে দ্বিতীয় দিনেই কোণঠাসা বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  কলম্বো টেস্টে প্রথম দিনের শেষে ব্যাট হাতে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশ, দ্বিতীয় দিনে বোলিংয়েও হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিল। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের দাপটে দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচ একপ্রকার নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছে স্বাগতিক দল।

    নিশাঙ্কার নির্ভার সেঞ্চুরি, চান্ডিমালের দৃঢ়তা
    বাংলাদেশকে মাত্র ২৪৭ রানে থামিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। ওপেনার লাহিরু উদারার ৪০ রানের ইনিংসের পর মূল দৃশ্যপটে আসেন পাথুম নিশাঙ্কা ও দিনেশ চান্ডিমাল। দুজনে গড়ে তোলেন ১৯২ রানের বিশাল জুটি। নিশাঙ্কা অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন ১৪৬ রানে (২৩৮ বলে, ১৮ চার)। চান্ডিমাল মাত্র সাত রান দূরে থেকে ৯৩ রানে আউট হয়ে যান। উইকেট দুটি আসে তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের ঝুলিতে।

    বাংলাদেশের বোলিংয়ে ছন্দহীনতা
    বাংলাদেশের বোলাররা দ্বিতীয় দিনেও কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি। শুরুতেই এবাদত বল হাতে এলেও অন্যপ্রান্তে ছিল স্পিন। নাহিদ রানার উপর ভরসা রাখতে পারেননি অধিনায়ক শান্ত, যদিও নতুন বলে তাকে আক্রমণে আনার পরামর্শ ছিল বোলিং কোচ শন টেইটের। রানা ১২ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে ছিলেন ব্যর্থ, হৃদয়কেও বোলিংয়ে আনা হয়নি। নাঈম হাসান ৮ ওভারে দেন ৪৫ রান। তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত ছিলেন শুধু তাইজুল।

    প্রথম ইনিংসে আড়াইশ’ রানের সংগ্রহে থামল বাংলাদেশ
    দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই এবাদতের উইকেট হারিয়ে যায় বাংলাদেশ। তাইজুলের ৩৩ রানের ইনিংসেই কোনো রকমে ২৪৭ পর্যন্ত পৌঁছায় দলটি। এই ইনিংসটি টিকে ছিল মাত্র ৭.৩ ওভার।

    মুশফিক-লিটনের আত্মঘাতী শট
    এক পর্যায়ে বাংলাদেশ যখন ৭৬ রানে ৪ উইকেট হারায়, তখন ভরসা হয়ে ওঠেন মুশফিক ও লিটন। দুজন মিলে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। কিন্তু এরপরই দুটি ব্যর্থ শটে ফিরে যান দুজনেই—লিটন ৩৪ এবং মুশফিক ৩৫ রানে।

    লাঞ্চের পর সাদমান-শান্তর ব্যর্থতা
    শুরুর দিকে এনামুল ও মুমিনুল দ্রুত আউট হয়ে গেলে দায়িত্ব নেয় সাদমান ও শান্ত। কিন্তু লাঞ্চের পর পরই দুজনই ফিরে যান পরপর। সাদমান ৪৬ ও শান্ত ৮ রানে আউট হন।

    সোনালের চমক জাগানো অভিষেক
    প্রথমবার জাতীয় দলে খেলা সোনাল দিনুশা বাজিমাত করেছেন। ৩ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল নায়ক। তাঁর শিকার হয়েছেন লিটন, মুশফিক এবং শেষ উইকেট তাইজুল।

  • অপরিণত ব্যাটিংয়ে প্রথমদিনেই চাপে বাংলাদেশ, লঙ্কানদের হাতে ম্যাচের রাশ

    অপরিণত ব্যাটিংয়ে প্রথমদিনেই চাপে বাংলাদেশ, লঙ্কানদের হাতে ম্যাচের রাশ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিং দুর্বলতা যেন পুরনো ব্যাধির মতো ফিরে আসে বারবার। কলম্বো টেস্টেও তার ব্যতিক্রম হলো না। প্রথম দিনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও একের পর এক দায়িত্বহীন শটে সাজঘরে ফিরেছেন ব্যাটাররা। ফলাফল—বৃষ্টিতে কমে আসা দিনে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ মাত্র ২২০ রান।

    টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরু থেকেই হোঁচট খাওয়া শুরু। এনামুল হক বিজয় দশ বল খেলেও রানে খাতা খুলতে ব্যর্থ হন। দু’বার জীবন পেয়েও ‘প্লেড অন’ হয়ে ফেরেন তিনি। গল টেস্টেও প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরার পরেও তাকে সুযোগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচকদের কৌশল নিয়ে।

    দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক সামান্য প্রতিরোধ গড়লেও সেটি ভেঙে যায় পার্ট টাইম স্পিনার ধনাঞ্জয়ার হাতে। এরপর শান্ত ও সাদমান দুই রানের ব্যবধানে আউট হয়ে মধ্যাহ্নভোজ পরবর্তী সময়ে চাপ বাড়িয়ে দেন। সাদমান তুলনামূলক ভালো ব্যাটিং করলেও ৪৬ রান করে তিনিও বিদায় নেন।

    সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। তাদের ব্যাটে আসে ৬৭ রান। কিন্তু মুশফিক সুইপ শটে ৩৫ রানে আর লিটন ৩৪ রানে বাজে শটে আউট হন। এই দুই উইকেট পতনেই ভেঙে পড়ে দলের মনোবল।

    শেষ দিকে মেহেদী মিরাজ ওয়ানডে ধাঁচে ব্যাট চালাতে গিয়ে ৩১ রানে ফিরলে হতাশা আরও বাড়ে। ব্যাট ছুঁড়ে নিজের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিরাজ, যা তার আত্মগ্লানিরই বহিঃপ্রকাশ। তবে নাঈম হাসানের ২৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে দুইশ’ পেরোয় দল।

    লঙ্কানদের হয়ে সেরা ছিলেন অভিষিক্ত সুনীল দিনুশা, যিনি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন মুশফিক ও লিটনের। এছাড়া ফার্নান্দো-দ্বয়ের পেস জুটি এবং ধনাঞ্জয়া-থারিন্ডুর স্পিন আক্রমণ ছিল কার্যকর।

    বৃষ্টির কারণে খেলা থেমে থাকায় দ্বিতীয় দিন ম্যাচ শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে। বাংলাদেশ দল এখন দ্বিতীয় দিনের দিকে তাকিয়ে, যেখানে তাদের বোলারদের দায়িত্ব নিতে হবে লঙ্কানদের চাপের মুখে ফেলার জন্য।