Tag: কক্সবাজার

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর শেষে দুর্ঘটনা—তবু নিরাপদে কক্সবাজার ছাড়লেন মেসুত ওজিল

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর শেষে দুর্ঘটনা—তবু নিরাপদে কক্সবাজার ছাড়লেন মেসুত ওজিল

    এবিএনএ: রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে গাড়িবহরের সামান্য দুর্ঘটনায় পড়লেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েননি জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল। তার সঙ্গে থাকা তুরস্কের প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও অক্ষত রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে উখিয়ার কুতুপালং এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার সময় গাড়িবহরের সামনে থাকা পুলিশ প্রটোকল গাড়ির সঙ্গে একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালক গুরুতর আহত হন। আহত চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলের কারও আঘাত লাগেনি।

    নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর রাতেই কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিশেষ বিমানে রওনা দেন তুরস্কের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সফরসঙ্গীদের সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান

    এর আগে দিনের বেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ওজিল। সফরের অংশ হিসেবে তিনি রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন এবং সন্ধ্যায় ইফতারে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এই সফর রোহিঙ্গা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা হয়ে থাকবে।

  • রমজানে চট্টগ্রামে কখন সাহরি ও ইফতার? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের চূড়ান্ত সময়সূচি

    রমজানে চট্টগ্রামে কখন সাহরি ও ইফতার? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের চূড়ান্ত সময়সূচি

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ২০২৬ সালের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজান শুরু হতে পারে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।

    এ বছর সাহরি ও ফজরের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আগের মতো সতর্কতামূলক তিন মিনিট যোগ বা বিয়োগ না রেখে, সাহরির শেষ সময়কেই সরাসরি ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিসে সতর্কতামূলক সময়ের উল্লেখ না থাকায় বায়তুল মোকাররমের খতিব ও দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতিদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালে ঢাকাসহ দেশের সব ৬৪ জেলার জন্য পৃথক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এবার আর কোনো জেলার রোজাদারকে ঢাকার সময়ের সঙ্গে সময় যোগ বা বিয়োগ করে হিসাব করতে হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত নিজ নিজ জেলার সময়সূচি অনুসরণ করলেই যথাযথভাবে সাহরি ও ইফতার করা যাবে।

    প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রথম রমজানে সাহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে। সাহরির শেষ সময় মূলত ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরুর সময় হিসেবেই ধরা হয়েছে।

    জেলার ভৌগোলিক বিস্তৃতি বিবেচনায় রেখে সময় নির্ধারণে ভারসাম্য আনা হয়েছে। সাহরির সময় জেলার পূর্ব প্রান্ত এবং ইফতারের সময় জেলার পশ্চিম প্রান্তের সময়কে ভিত্তি ধরা হয়েছে, যাতে পুরো জেলার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সময়সূচি কার্যকর থাকে।

    📍 চট্টগ্রাম বিভাগের জেলার সময়সূচি (২০২৬):

    • চট্টগ্রাম জেলা: Chattogram Sehri Iftar Time 2026

    • লক্ষ্মীপুর: Lakshmipur Sehri Iftar Time 2026

    • রাঙামাটি: Rangamati Sehri Iftar Time 2026

    • ব্রাহ্মণবাড়িয়া: Brahmanbaria Sehri Iftar Time 2026

    • বান্দরবান: Bandarban Sehri Iftar Time 2026

    • ফেনী: Feni Sehri Iftar Time 2026

    • নোয়াখালী: Noakhali Sehri Iftar Time 2026

    • চাঁদপুর: Chandpur Sehri Iftar Time 2026

    • খাগড়াছড়ি: Khagrachari Sehri Iftar Time 2026

    • কুমিল্লা: Comilla Sehri Iftar Time 2026

    • কক্সবাজার: Cox’s Bazar Sehri Iftar Time 2026

    সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম : দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন করার দাবিতে মহাসড়কে ব্লকেড করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কেরানিহাট এলাকায় বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিলে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল।

    সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ছয় লেনের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন অবরোধকারীরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা বলেন, একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কটি এখন ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।তাদের অভিযোগ, পর্যটন নগরী যাওয়ার একমাত্র সড়কটি প্রশস্তকরণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

    বিক্ষোভকারী বজ্রকন্ঠে বলেন, সংবাদপত্র খুললেই দেখি দুর্ঘটনার খবর। তারা আরও বলেন, আমরাও ভয়ে থাকি—আজ না হয় কাল আমাদের ওপর এসে পড়ে। এত অনুরোধের পরও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আজ সড়কে নেমেছি।

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক তামিম মির্জা বলেন, এর আগে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

    শুধু সাতকানিয়ার মানুষের যাতায়াতই নয়, বিশ্বের বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরী হলো কক্সবাজার। প্রতিদিন লাখো মানুষ ও পর্যটক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ বাস্তবে বহু অংশ এখনো অত্যন্ত সরু, কোথাও কোথাও পাড়ার গলির চেয়েও কম প্রশস্ত। জাঙ্গালিয়ার অংশটি ঢালু ও আঁকাবাঁকা হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে।তাছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও রাতে লবণবাহী ট্রাকসহ—সবকিছুর জন্যই এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, চলাচলের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, এতে দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যায়। এরপরও দফায় দফায় আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।এর আগে, গত ৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন।

    ১১ এপ্রিল সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়রা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

    সকালের অবরোধে মহাসড়কের দুই দিকে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর আশ্বাসে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

  • সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ ফিরল, নতুন ১২ নিয়ম না মানলেই বাতিল ভ্রমণ

    সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ ফিরল, নতুন ১২ নিয়ম না মানলেই বাতিল ভ্রমণ

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ফিরল সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পুনরায় চালু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। এবার থাকছে রাত কাটানোর বিশেষ সুবিধা, তবে মানতে হবে সরকারের দেওয়া ১২টি কঠোর নির্দেশনা। প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না, এবং সব বুকিং করতে হবে অনলাইনে কিউআর কোড ও ট্রাভেল পাসসহ নিরাপদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

    কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল সাতটায় যাত্রা শুরু করবে পর্যটকবাহী জাহাজ, এবং পরের দিন বিকেল তিনটায় সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারে ফিরবে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাস দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামে মোট চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে এবার টেকনাফ নয়, বরং কক্সবাজার থেকে সরাসরি বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে পর্যটকবাহী জাহাজ।

    সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আগে রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ কম ছিল, ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এবার আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপ ভ্রমণে নতুন উদ্যমে শুরু হচ্ছে পর্যটন মৌসুম।

    পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার কঠোর নজরদারি থাকবে। নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে বাড়তি তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ পলিথিন, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, বারবিকিউ, সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, কেয়াবনে প্রবেশ, সামুদ্রিক প্রাণী শিকার বা ক্ষতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    এছাড়া দ্বীপে কোনো মোটরচালিত যানবাহন যেমন মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চলাচল করবে না। নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো যায়।

    সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি সফল ও দৃষ্টান্তমূলক মডেলে পরিণত হবে।

  • রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে ১১ দেশ: যৌথ বিবৃতিতে মানবিক সমর্থনের অঙ্গীকার

    রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে ১১ দেশ: যৌথ বিবৃতিতে মানবিক সমর্থনের অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডসহ মোট ১১টি দেশ রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।

    ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডেল ও ফেসবুক পেজে সোমবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আগমনের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং নতুন শরণার্থী এখনও আশ্রয়শিবিরে আসছে।

    দেশগুলো বাংলাদেশের সহনশীলতা ও স্থানীয় জনগণের মানবিক সহযোগিতার প্রশংসা করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা এখনো সম্ভব নয়।

    বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়েছে। সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এছাড়াও রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।

  • কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, অপহরণের শিকার ৩ কিশোর উদ্ধার

    কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, অপহরণের শিকার ৩ কিশোর উদ্ধার

    এবিএনএ:  কক্সবাজারে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল চট্টগ্রামের তিন কিশোর। পর্যটন শহরের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে এনে বৃহস্পতিবার সকালে র‍্যাবের অভিযানে পাহাড়ি আস্তানা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    র‍্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া তিন কিশোর হলো—মো. সাইদুল ইসলাম জিহাদ (১৬), মিজবাহ উদ্দিন (১৪) ও ওবায়দুল ইসলাম মুন্না (১৫)। তারা সবাই চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দা। অপহরণের পর চক্রটি তাদের পরিবার থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।

    গোপন তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে র‍্যাব-১৫ জানতে পারে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের পাহাড়ি এলাকায় কিশোরদের আটকে রাখা হয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাতে সেখানে অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযানের সময় প্রায় ১২-১৫ জন অপহরণকারী পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া করে র‍্যাব সদস্যরা মো. রিয়াদ (১৯) নামের এক অপহরণকারীকে আটক করে।

    র‍্যাব সূত্র জানায়, রিয়াদ কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানার ঘোনা এলাকার নবী হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এই অপহরণ চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে প্রমাণ মিলেছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ও এএসপি আ ম ফারুক বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানে এক অপহরণকারী ধরা পড়েছে, বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

    র‍্যাব আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এবং আটক রিয়াদকে বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভ্রমণ নিরাপত্তা ও পর্যটন শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে। র‍্যাবের দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারত বলে মনে করছেন অনেকে।

  • সেন্টমার্টিন উপকূলে আরাকান আর্মির হামলা: তিনটি ট্রলারসহ ২১ জেলে অপহরণ

    সেন্টমার্টিন উপকূলে আরাকান আর্মির হামলা: তিনটি ট্রলারসহ ২১ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ:  সেন্টমার্টিন উপকূলে নাফ নদীতে আবারও ভয়াবহ সশস্ত্র হস্তক্ষেপ করল মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’। এবার তিনটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ২১ জন জেলেকে অপহরণ করেছে সংগঠনটি।

    স্থানীয় বোট মালিক ও জেলে সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাটে ফেরার পথে সেন্টমার্টিনের মেরুল্ল্যা এলাকার কাছ থেকে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।

    টেকনাফ কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির পরিচালক সাজেদ আহমেদ বলেন, “আমাদের ঘাটের তিনটি ট্রলারসহ ২১ জন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল মিয়ানমারের সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় স্থানীয় জেলেরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।”

    ঘটনার শিকার ট্রলারগুলোয় ছিলেন আয়ুব মাঝি, আবদুল হামিদ মাঝি ও নুরু মাঝি। ট্রলারগুলো বর্তমানে মিয়ানমারের মেরুল্ল্যা খালে নোঙর করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলম বলেন, “ঘন ঘন এই অপহরণে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না। সরকারিভাবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।”

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১৪ জুন আরাকান আর্মি একইভাবে ১৫ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার অপহরণ করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত আট মাসে এভাবে প্রায় ২৩০ জন জেলে অপহরণ করেছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। যদিও পরে ২০০ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

    এ বিষয়ে টেকনাফের ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন জানান, “ঘটনার খবর পেয়েছি, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।”


    👉 সরকারের উচিত দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিকভাবে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো।

  • উত্তাল বঙ্গোপসাগর: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা, উপকূলজুড়ে শঙ্কা

    উত্তাল বঙ্গোপসাগর: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা, উপকূলজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার রাতে প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে দক্ষিণ-পূর্ব অথবা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    এই অবস্থায় উল্লিখিত জেলার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপকূলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা অবলম্বনের সময়, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।