Tag: এশিয়ান কাপ

  • বাহরাইনকে হারিয়ে এশিয়া কাপের দুয়ারে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল, সামনে স্বপ্নের ম্যাচ

    বাহরাইনকে হারিয়ে এশিয়া কাপের দুয়ারে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল, সামনে স্বপ্নের ম্যাচ

    এবিএনএ: এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দল। শক্তিশালী বাহরাইনের বিপক্ষে বায়েজিদ ও মানিকের জোড়া গোলের দারুণ পারফরম্যান্সে ২-১ গোলে জয় পায় লাল-সবুজের কিশোররা। এই জয়ে প্রথমবারের মতো মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন আরও জোরালো হলো বাংলাদেশের।

    চীনের ইয়ংচুন স্পোর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে ভালো লড়াই করলেও কোনো দল গোল করতে পারেনি। গোলাম রব্বানী ছোটনের তরুণ দল ধৈর্য ধরে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে রাখে।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সাব্বিরের লং থ্রো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় বাহরাইনের রক্ষণভাগ। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বদলি হিসেবে নামা বায়েজিদ বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন।

    এরপর ৭২ মিনিটে অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সালের নিখুঁত থ্রু পাস পেয়ে মানিক চমৎকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দূরপাল্লার শটে দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশকে স্বস্তির লিড এনে দেন। শেষ দিকে ৮৫ মিনিটে বাহরাইন এক গোল শোধ করলেও জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

    এ জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’-তে চীনের সমান ১২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বর্তমানে এগিয়ে আছে স্বাগতিক দল চীন।

    রোববার গ্রুপের শেষ ও নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি হবে মূলত এশিয়ান কাপে ওঠার লড়াই। জয় পেলে নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মূল পর্বে খেলার টিকিট, তবে সমতা হলে সুবিধা পাবে স্বাগতিক চীন।

    বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ম্যাচকে সামনে রেখে মানসিক ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে তরুণ দল। দেশব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এখন বইছে আশার জোয়ার।

  • বাংলাদেশে আসছেন এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম, নভেম্বর সফরে চারদিন থাকবেন ঢাকায়

    বাংলাদেশে আসছেন এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম, নভেম্বর সফরে চারদিন থাকবেন ঢাকায়

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে দেশে আসছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। আগামী ২৩ নভেম্বর ঢাকায় এসে তিনি অবস্থান করবেন ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।

    গত জুন-জুলাইয়ে জাতীয় নারী দল এবং চলতি মাসে লাওসে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল এশিয়ান কাপে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই অর্জনকে দেশের ফুটবলের জন্য এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। তিনি বলেন, “আজ চূড়ান্ত হয়েছে যে, এএফসি সভাপতি নভেম্বরে চারদিনের সফরে ঢাকায় আসবেন। বিষয়টি সদ্য নিশ্চিত হয়েছে, তাই এখনো সফরের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়নি।”

    সালমান বিন ইব্রাহিমের এই সফর বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, এ সফর এশিয়ান ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

  • জাতীয় দলের পদক জয়ী ষষ্ঠী রায়, কিন্তু ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় চোখে-মুখে দুঃচিন্তা

    জাতীয় দলের পদক জয়ী ষষ্ঠী রায়, কিন্তু ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় চোখে-মুখে দুঃচিন্তা

    এবিএনএ: গলায় এশিয়ান কাপের পদক, হাতে হকির স্টিক—তবুও চোখে-মুখে নেই স্বস্তির আলো। সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ষষ্ঠী রায় যখন দেশের হয়ে পদক জিতে ফিরলেন, তখনও তিনি ভাবছেন—এ অর্জন কি তার জীবনের লড়াই থামাতে পারবে?

    শ্যামনগরের কাঠালবাড়িয়া গ্রামের কৃষক সুকান্ত রায় ও গৃহিণী মায়ার মেয়ে ষষ্ঠী। পরিবারের মাত্র ২৬ শতাংশ জমিতে চাষ করে ও দিনমজুরির আয়ে সংসার চলে। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, বাকি দুই বোনের দায়িত্ব মা-বাবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন ষষ্ঠী ও তার ছোট বোন।

    খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা শুরু ফুটবল দিয়ে, বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে নজর কাড়েন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে। পরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উঠে খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিকেএসপিতে ভর্তির চেষ্টা করেন। প্রথমবার বাদ পড়লেও ২০২১ সালে খুলনার ট্রায়ালে হকির দলে সুযোগ পান—এবং সেটিই হয়ে ওঠে জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।

    জাতীয় হকি দলে জায়গা করে নিয়েছেন ষষ্ঠী। সম্প্রতি শেষ হওয়া এশিয়ান কাপ হকি টুর্নামেন্ট থেকে পদকও জিতেছেন। তবে সুখবরের পরেই আসে বাস্তবতা—বিকেএসপিতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তার পরিবারকে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়।

    ষষ্ঠীর বক্তব্য, “পদক বা সম্মান থাকলেও আর্থিক নিরাপত্তা নেই। পুরুষদের মত নারীদের জন্য হকি লিগ বা প্রিমিয়ার ডিভিশন নেই। সরকার বা ফেডারেশন যদি নারীদের জন্য আলাদা লিগ চালু করত, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হতো।”

    তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে রয়েছে অসংখ্য প্রতিভাবান কিশোরী, যারা খেলাধুলায় দেশের গৌরব বয়ে আনতে পারে—শুধু প্রয়োজন সহায়তা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা।

    ষষ্ঠীর বাবা সুকান্ত রায় গর্বিত মেয়ের অর্জনে, কিন্তু একইসঙ্গে দুঃখিত, “জাতীয় দলের হয়ে খেলে এসে মেয়ে আবার কৃষিকাজে নামবে—এটা মানতে পারি না।”

    তার দাবি, “দেশের হয়ে যারা খেলেন, তাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর উচিত স্থায়ী পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া।”

    এই দরিদ্র ঘরের মেয়েটি শুধু নিজের জন্য নয়, তার মত হাজারো প্রতিভাবান কিশোরীর জন্য স্বপ্ন দেখছেন—যাতে ষষ্ঠীর পথ হয়ে উঠতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।