Tag: এম এ এইচ সেলিম

  • বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, অফিসে তালা দেওয়া, ভাঙচুর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, মাহবুবুর রহমান টুটুল, সামিদ আল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    এম এ এইচ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ, প্রচারণার মাইক ভাঙচুর এবং যাত্রাপুর এলাকার অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম এ এইচ সেলিমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কর ফাঁকির অভিযোগ সত্য হলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হতো না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

  • বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলা, বাগেরহাট পৌরসভা ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-২ সংসদীয় আসনটি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই আসন থেকে বিজয়ী দলের প্রার্থীরাই পরবর্তীতে সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক, মতবিনিময় ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করেছেন।

    তবে বিএনপির ভেতরেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম। তিনি জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। শহর রক্ষা বাঁধ, মাজেদা বেগম কৃষি কলেজ, দড়াটানা ও মুনিগঞ্জ সেতু, বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজসহ জেলার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার সময়েই সম্পন্ন হয়। তিনি একাধিক আসনে নির্বাচন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিজয়ের উপহার দিতে আশাবাদী বলে মন্তব্য করেন।

    এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বয়সে তুলনামূলক তরুণ হলেও নির্বাচনী মাঠে বেশ সক্রিয় ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। সরকারি পিসি কলেজে সাবেক এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ছাত্রশিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অন্যদিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত দল এবং দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমানও সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সব মিলিয়ে বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটাররা।

    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

  • বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর প্রতিক বরাদ্দ, তিন আসনে নির্বাচন করা সেলিমের প্রতিক ঘোড়া

    বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর প্রতিক বরাদ্দ, তিন আসনে নির্বাচন করা সেলিমের প্রতিক ঘোড়া

    এবিএনএ, ‎বাগেরহাট: ‎বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে ২৩ জন প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিক বরাদ্দ করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলার বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩ তিনটি আসন থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। বাগেরহাট-১ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা ফুটবল প্রতিক ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন পেয়েছেন হরিণ প্রতিক। বুধবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ করা হয়।

    বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, জামায়াতের মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি-জেপি‘র স, ম, গোলাম সরোয়ার, মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হকের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট-২ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। এ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, জামায়াতের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও ইসলামী আন্দোলনের এ্যাড. আতিয়ার রহমানের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট-৩ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। এ আসনে বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতের এ্য্যড. আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলনের জিল্লুর রহমান, জাসাদের মো. হাবিবুর রহমান মাস্টারের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট-৪ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন পেয়েছেন হরিণ প্রতিক। এছাড়া এই আসনে বিএনপির সোমনাথ দে, জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলনে ওমর ফারুক, জাতীয় জাসদেও মো. আ. লতিফ খান, জাতীয় পার্টি-জেপি‘র সাজন কুমার মিস্ত্রির মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের পক্ষে একযোগে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের কাছ থেকে তিনি বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লহাট-চিতলমারী), বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহেদী হাসান বলেন, আমরা বাগেরহাটের তিনটি সংসদীয় আসন থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন তিনি আবারও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পান। তবে মনোনয়নপত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

    এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে-কে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শামীম এবং বাগেরহাট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট বালী নাসের ইকবালের নাম উঠে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এ কারণে তারা ওই প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করছেন বলে জানিয়েছেন।