Tag: এনবিআর আন্দোলন

  • বদলির চিঠি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় এনবিআরের ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    বদলির চিঠি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় এনবিআরের ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    এবিএনএ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনায় পাঁচ যুগ্ম কর কমিশনার ও তিন উপ-কর কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—মাসুমা খাতুন (কর অঞ্চল-২), মুরাদ আহমদ (কর অঞ্চল-১৫), মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন (কুষ্টিয়া), মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা (নোয়াখালী), আশরাফুল আলম প্রধান (কক্সবাজার), শিহাবুল ইসলাম (উপ-কর কমিশনার), নুশরাত জাহান শমী (রংপুর) এবং ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল (কুমিল্লা)।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২২ জুন জারি হওয়া বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, তাদেরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন তারা বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা পাবেন।

    এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২৪ জুন, যখন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একদল কর্মকর্তা বদলির আদেশকে ‘প্রতিহিংসামূলক’ উল্লেখ করে প্রকাশ্যে তা ছিঁড়ে ফেলেন। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে। এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় বিতর্ক।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরখাস্তের পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

  • অর্থনৈতিক চাপের মুখে এনবিআরের ৪৮ ঘণ্টার শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার

    অর্থনৈতিক চাপের মুখে এনবিআরের ৪৮ ঘণ্টার শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার

    এবিএনএ:  ৪৮ ঘণ্টার টানা শাটডাউনের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আবার সচল হওয়ার পথে।

    রবিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব সেহেলা সিদ্দিকা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “দেশের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের আন্তরিক আহ্বান এবং অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আমাদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি। তবে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব সংস্কারের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।”

    এর আগে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে দুই দিন ধরে চলা কমপ্লিট শাটডাউনের ফলে বন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ব্যবসায়িক অঙ্গনে তৈরি হয় চরম অস্থিরতা।

    সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, যেখানে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এনবিআর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এই আশ্বাস এবং আন্তঃপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলন স্থগিত হলেও রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ আরও বেড়েছে সরকারের ওপর। এখন দেখার বিষয়, উপদেষ্টা কমিটি কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারে।

  • এনবিআর সংকট নিরসনে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি, সরকারের কঠোর অবস্থান

    এনবিআর সংকট নিরসনে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি, সরকারের কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান অস্থিরতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত সংকট নিরসনে পাঁচ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    রবিবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এই কমিটি এনবিআর সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেবে।” তবে কমিটিতে কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

    এদিকে, এনবিআরের ছয় কর্মকর্তা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিদমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। তবে অর্থ উপদেষ্টা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, কারণ এটি তার অধিক্ষেত্র নয় বলে জানান।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবি, এফবিসিসিআই, বিসিআই, এলএফএমইএবি, ডিসিসিআই এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানও।

    এনবিআরের অচলাবস্থার জেরে সরকার এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে এনবিআরের আওতাধীন সকল কাস্টমস হাউস, বন্ড অফিস, শুল্ক স্টেশন ও আইসিডির সব শ্রেণির চাকরি ‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ বড় চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব ব্যবস্থায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘাটতি দূর করতে এনবিআরের পুনর্গঠন অপরিহার্য। কিন্তু গত দুই মাস ধরে কিছু কর্মকর্তা সচেতনভাবে রাজস্ব আদায় ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা দিয়ে যাচ্ছে, যা পরিকল্পিত এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

    সরকার বলেছে, বারবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার পরও আন্দোলনকারীরা তা উপেক্ষা করেছে এবং অর্থনীতির ক্ষতি করছে। ফলে সরকার বাধ্য হয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

    সরকার আশা প্রকাশ করেছে, এনবিআরের কর্মকর্তারা দ্রুত কর্মস্থলে ফিরবেন। তা না হলে জনস্বার্থ ও অর্থনীতির সুরক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

  • চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে আমদানি-রপ্তানি থমকে গেল

    চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে আমদানি-রপ্তানি থমকে গেল

    চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে চলমান কর্মকর্তাদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দর কার্যক্রম। শনিবার সকাল থেকে আমদানি ও রপ্তানির সমস্ত প্রক্রিয়া—শুল্কায়ন, বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া ও পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে আজকের মধ্যে পুরো বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে, কারণ তাদের পণ্য জাহাজীকরণে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি পৃথক বিভাগ—রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি—হিসেবে ভাগ করার সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে গত মাস থেকেই আন্দোলন চলছে। কলম বিরতি, কর্মবিরতি ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচির পর আন্দোলনরত কর্মকর্তারা এনবিআর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রহমান খানকে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, এখন পূর্ণ শাটডাউনের মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সবাই নিজ নিজ কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন। ফলে বন্দরে আসা কন্টেইনারগুলো আটকে যাচ্ছে, বিলম্ব হচ্ছে পণ্য খালাসে। এতে একদিকে যেমন আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারকরাও সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় চুক্তিভঙ্গের আশঙ্কায় রয়েছেন।

    এর আগে কিছুদিন আগেও কলম বিরতির কর্মসূচি চলেছিল, তখন চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্টি হয়েছিল বড় ধরনের কন্টেইনারজট। তখনকার পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এ শাটডাউন আন্দোলন পুরো দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

    🖋 উপসংহার:
    সরকার যদি দ্রুত এনবিআর সংশ্লিষ্ট সংকটের সমাধান না করে, তাহলে দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • এনবিআর আন্দোলন: অনুপস্থিতি বা বিলম্বে অফিসে এলে শাস্তি, কঠোর বার্তা সরকারের

    এনবিআর আন্দোলন: অনুপস্থিতি বা বিলম্বে অফিসে এলে শাস্তি, কঠোর বার্তা সরকারের

    এবিএনএ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর আওতাধীন দপ্তরগুলোতে চলমান ‘সংস্কার আন্দোলন’-এর প্রভাব দিনদিন গভীর হচ্ছে। ফলে সরকারি সেবা ব্যাহত হওয়ায় এবার কড়া বার্তা দিলো সরকার। এনবিআরের তরফ থেকে শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দেরিতে অফিসে উপস্থিত হওয়া বা অনুমতি ছাড়া অফিস ত্যাগের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে চলমান আন্দোলনের ফলে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সেবায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

    এ অবস্থায় এনবিআর জানিয়েছে, শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হবে এবং অনুপস্থিতির আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। অফিস চলাকালীন জরুরি প্রয়োজনে অফিস ত্যাগ করতে হলে ‘অফিস ত্যাগ রেজিস্টার’-এ যথাযথ এন্ট্রি করতে হবে।

    এছাড়া, রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানো, অর্থবছরের শেষ দিকে ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনবিআর-এর আওতাধীন কাস্টমস হাউস, কর কমিশনারেট ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারদেরকে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসগুলোতে নিয়মিত উপস্থিতি ও সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, দায়িত্বে গাফিলতি বা শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনবিআর। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—“কোনো কর্মচারী এই নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এই ঘোষণাকে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর হওয়ারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই নির্দেশনার পর আন্দোলন কী মোড় নেয় এবং শৃঙ্খলা ফেরে কিনা এনবিআর-এর দপ্তরগুলোতে।

  • তালাবদ্ধ এনবিআর ভবন: ভেতরেও তালা, বাহিরেও তালা—অবরুদ্ধ পুরো প্রশাসন

    তালাবদ্ধ এনবিআর ভবন: ভেতরেও তালা, বাহিরেও তালা—অবরুদ্ধ পুরো প্রশাসন

    এবিএনএ:  ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনবিআর বিলুপ্তি প্রতিরোধ ও চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের প্রবেশ ঠেকাতে ভবনের তিনটি প্রধান গেটে ভেতর এবং বাহির উভয়দিক থেকেই তালা লাগানো হয়।

    ভবনের ভেতর-বাহিরে তালাবদ্ধ কর্মীরা

    সকাল ১১টার পর এনবিআর কর্তৃপক্ষ ভবনের ভেতর থেকে গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। ফলে যারা এর আগেই ভবনে প্রবেশ করেছিলেন, তারা আর বাইরে বের হতে পারেননি। বিপরীত দিকে, যারা বাইরে অবস্থান করছিলেন, তারাও ক্ষিপ্ত হয়ে বাহির দিক থেকে গেট তালাবদ্ধ করে দেন। ফলে সৃষ্টি হয় চরম অবরুদ্ধ পরিস্থিতি। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে গেট খুলে দেওয়া হয়।

    প্রশাসনের কঠোর অবস্থান: মোতায়েন পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি ও সেনাবাহিনী

    এনবিআর ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রশাসন প্রস্তুত ছিল পুরোপুরি।

    সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

    বিকেলে গেটের বাইরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ জানায়, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া আলোচনায় তাদের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাই সেই আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।

    তারা আরও বলেন, “যেভাবে তালা দিয়ে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে, তা এক ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় অতীতের জুলাই গণআন্দোলনের সময়কার নির্যাতনের ছবি।”

    আন্দোলন অব্যাহত: কলমবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি

    এদিনও আন্দোলনরত কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী কলমবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। তারা ভবনের বাইরে অবস্থান নেন এবং কর্মস্থলে প্রবেশ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, “আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমরা বাইরে থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি।”