Tag: ঋতুপর্ণা চাকমা

  • শেষ মিনিটে ভারতের হার, তবু ঋতুপর্ণাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার সমীকরণ কী?

    শেষ মিনিটে ভারতের হার, তবু ঋতুপর্ণাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার সমীকরণ কী?

    এবিএনএ: অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য নারী এশিয়া কাপ-এ গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ড শেষে জমে উঠেছে সমীকরণ। ‘সি’ গ্রুপে ভিয়েতনামের কাছে শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলে হেরে গেছে ভারত। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও সমতা ফিরিয়েছিল ভারত, কিন্তু শেষ মিনিটের গোলে ভিয়েতনাম পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয়।

    এই হারের ফলে গ্রুপগুলোর চিত্রে এসেছে নতুন মোড়। তিনটি গ্রুপেই এখন পর্যন্ত একটি করে দল জয় পেয়েছে এবং দুটি দল পরাজিত হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ও উজবেকিস্তান—দুই দলই পয়েন্টশূন্য। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশ আপাতত তৃতীয় স্থানে। একইভাবে ‘সি’ গ্রুপে ভারতও শূন্য পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    বিশ্বকাপে যাওয়ার পথ কতটা কঠিন?

    ১২ দলের এই আসর থেকে ছয়টি দল সরাসরি আগামী বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ—মোট ছয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে তিন গ্রুপের সেরা দুই তৃতীয় দল।

    বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া ও চীন। দুই দলই প্রথম ম্যাচ জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তাই বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের জন্য সরাসরি শীর্ষ দুইয়ে থাকা কঠিন। ফলে নজর এখন তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করা এবং অন্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে।

    উজবেকিস্তান ম্যাচই ‘ফাইনাল’

    বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ কার্যত গ্রুপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই। জয় পেলে তিন পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে। ড্র হলেও গোল ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    অন্য দুই গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর পয়েন্ট যদি কম থাকে কিংবা গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে, তাহলে এক বা তিন পয়েন্ট নিয়েও কোয়ার্টারে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    কোয়ার্টার ফাইনাল মানেই বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্ত

    কোয়ার্টার ফাইনাল জিতলেই সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত। হারলেও সুযোগ শেষ নয়। কোয়ার্টারে হারা চার দলের মধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে, সেখান থেকেও বিশ্বকাপের টিকিট মিলতে পারে। প্রয়োজনে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের সুযোগও থাকবে।

    এ ছাড়া ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকের এশিয়ান বাছাইপর্বের ভিত্তিও এই টুর্নামেন্ট। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দল পরবর্তীতে অলিম্পিক বাছাইয়ে অংশ নেবে।

    সব মিলিয়ে, ভারতের শেষ মুহূর্তের হারে গ্রুপের সমীকরণ আরও জমে উঠেছে। এখন চোখ উজবেকিস্তান ম্যাচে—সেখানেই নির্ধারিত হতে পারে ঋতুপর্ণাদের বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক স্বপ্নের দিশা।

  • এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই: চীনের কাছে হারলেও মন জয় করল বাংলাদেশ নারী দল

    এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই: চীনের কাছে হারলেও মন জয় করল বাংলাদেশ নারী দল

    এবিএনএ: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান ও সর্বাধিকবারের চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল। কঠিন এই লড়াইয়ে ২-০ ব্যবধানে হারলেও পারফরম্যান্সে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

    প্রায় বিশ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ছয় হাজারের বেশি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও ছিলেন, যারা দলের এশিয়ান কাপ অভিষেকের সাক্ষী হন।

    ফিফা র‌্যাংকিংয়ে চীনের অবস্থান ১৭, আর বাংলাদেশের ১১২। এই বড় ব্যবধান সত্ত্বেও ৯০ মিনিট জুড়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। রক্ষণে সতর্ক থেকে মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণ—এই কৌশলেই এগিয়েছে দল। ফিটনেস ও গতিতে চীনের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমারা।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে চীন গোলের দেখা পায়। ৪৪ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ওয়াং শুয়াং এগিয়ে দেন দলকে। এর ঠিক এক মিনিট পর ডিফেন্সের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বল দখলে উন্নতি করে বাংলাদেশ এবং রক্ষণভাগ ছেড়ে আক্রমণে বেশি মনোযোগ দেয়।

    গোলরক্ষক মিলি আক্তার শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক দারুণ সেভ করে নিশ্চিত গোল ঠেকান তিনি। বিশেষ করে একক দক্ষতায় লাফিয়ে করা একটি সেভ ছিল দর্শনীয়।

    ম্যাচে ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য দিক। একাধিক সিদ্ধান্ত ভিএআরে যাচাই করা হয়। চীনের একটি গোল বাতিল হয় এই প্রযুক্তির কারণে। বাংলাদেশের একটি সম্ভাব্য পেনাল্টির আবেদনও ভিএআরে দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত রেফারি পেনাল্টি দেননি।

    বাংলাদেশের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ১৪তম মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার জোরালো শটটি চীনের গোলরক্ষক চেন চেন অসাধারণ ভঙ্গিতে ফিরিয়ে দেন। গোল হলে তা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হতে পারত।

    সব মিলিয়ে ফলাফল চীনের পক্ষে গেলেও সাহসী ও শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতের জন্য আশা দেখিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।

  • চ্যাম্পিয়ন চীনের সঙ্গেই শুরু! এশিয়ান কাপে কবে কবে মাঠে নামবে ঋতুপর্ণারা?

    চ্যাম্পিয়ন চীনের সঙ্গেই শুরু! এশিয়ান কাপে কবে কবে মাঠে নামবে ঋতুপর্ণারা?

    এবিএনএ: প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পড়েছে একদম চ্যালেঞ্জিং গ্রুপে। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ ‘বি’-তে জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ তিন শক্তিশালী দল—শেষবারের চ্যাম্পিয়ন চীন, ঐতিহাসিকভাবে ভয়ংকর উত্তর কোরিয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উজবেকিস্তান।

    বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত ড্র অনুষ্ঠানে দলগুলোকে ভাগ করা হয়। আগামী ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত সিডনি, পার্থসহ তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই মহাযজ্ঞ। বাংলাদেশ তাদের তিনটি ম্যাচই খেলবে সিডনি ও পার্থে।


    📅 এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সূচি:

    • ৩ মার্চ: বাংলাদেশ 🆚 চীন – ভেন্যু: সিডনি

    • ৬ মার্চ: বাংলাদেশ 🆚 উত্তর কোরিয়া – ভেন্যু: সিডনি

    • ৯ মার্চ: বাংলাদেশ 🆚 উজবেকিস্তান – ভেন্যু: পার্থ


    এই টুর্নামেন্টের জন্য এএফসি ১২টি দলকে চারটি পটে ভাগ করেছিল। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও উত্তর কোরিয়া ছিল পট ১-এ। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম ছিল পট ২-এ। উজবেকিস্তানসহ আরও দুটি দেশ ছিল পট ৩-এ। আর বাংলাদেশ ছিল পট ৪-এ, যেখানে ছিল ভারত ও ইরানও।

    ফলে নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বা ইরানের একই গ্রুপে পড়ার সম্ভাবনা ছিল না। ড্র অনুযায়ী গ্রুপগুলো হলো:


    🏆 এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপ ২০২৫ গ্রুপ বিভাজন:

    • গ্রুপ ‘এ’: অস্ট্রেলিয়া (স্বাগতিক), দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ফিলিপাইন

    • গ্রুপ ‘বি’: চীন, উত্তর কোরিয়া, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান

    • গ্রুপ ‘সি’: জাপান, ভিয়েতনাম, ভারত, চাইনিজ তাইপে


    এই ঐতিহাসিক ড্র ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এএফসি আমন্ত্রণ জানালেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। অথচ বাকি ১১টি দেশই প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়।

    বাংলাদেশের হয়ে ড্রয়ে নাম তোলার সম্মান পান ভারতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সানজিতা বাসফো, যা বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

    প্রথমবারের মতো এত বড় মঞ্চে অংশ নিতে যাওয়া ঋতুপর্ণা, আফিঈদারা দেশের হয়ে লড়বেন এক কঠিন পরীক্ষায়, যেখানে প্রতিটি ম্যাচ হবে মূল্যবান অভিজ্ঞতার সোপান।

  • বাংলাদেশের মেয়েদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স, তিন ম্যাচেই জয় নিয়ে এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত

    বাংলাদেশের মেয়েদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স, তিন ম্যাচেই জয় নিয়ে এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দেখিয়েছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ‘সি’ গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে টানা তিনটি ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০২৫ সালের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

    সবশেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল তুর্কমেনিস্তান। এই ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও মাঠে নামে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন স্বপ্না। এরপর ৬ মিনিটে শামসুন্নাহারের গোল দলকে এনে দেয় ২-০ ব্যবধানের স্বস্তি।

    ১৩ মিনিটে শামসুন্নাহার নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। কিছুক্ষণ পরই মনিকা ও ঋতুপর্ণার পা থেকে আসে আরও দুটি দৃষ্টিনন্দন গোল। গোল বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়ে তুর্কমেনিস্তান, এমনকি ১৯ মিনিটেই গোলরক্ষক পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় দলটি। এরপর ২০ মিনিটে তহুরা খাতুন গোল করে স্কোরলাইন করেন ৬-০।

    ম্যাচের ৪০ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত এক শটে ঋতুপর্ণা চাকমা তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধেই স্কোর দাঁড়ায় ৭-০।

    দ্বিতীয়ার্ধে দুই দল গোলের দেখা না পেলেও ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায় প্রথমার্ধেই। ৭-০ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী দল।

    এই জয়ে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ মোট ১৬টি গোল করেছে, বিপরীতে মাত্র একটি গোল খেয়েছে মিয়ানমারের বিপক্ষে।

    এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে মোট আটটি গ্রুপ রয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের গ্রুপে সেরা হয়ে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত করল গর্বের সঙ্গে।

    বাংলাদেশ নারী দলের এই জয় শুধু একটি ক্রীড়াবিজয় নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় সাফল্যের পথপ্রদর্শক।