Tag: উপকূল

  • সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্ক ফের চরমে: ১০ জেলে অপহৃত, দুই দিনেও নেই উদ্ধার—পরিবারে উৎকণ্ঠা

    সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্ক ফের চরমে: ১০ জেলে অপহৃত, দুই দিনেও নেই উদ্ধার—পরিবারে উৎকণ্ঠা

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের দস্যুমুক্ত ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দুর্র্ধষ বনদস্যুর প্রায় ৮/১০টি বাহিনী। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে অপহৃত ১০ জেলের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও বনের গহীন অঞ্চলে জিম্মি থাকা এসব জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য আসেনি।

    এদিকে বনদস্যু ‘করিম শরীফ বাহিনী’ অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা।

    বন বিভাগ ও স্থানীয় জেলেদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বুধবার রাতে পুর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধারা স্টেশনের আওতাধীন বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে একদল জেলে নৌকায় করে মাছ ধরছিলেন। এসময় প্রায় ১৫-২০ জন জেলের একটি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী। দস্যুরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে এবং মারধর করে তাদের কাছে থাকা মালামাল লুটে নেয়। একপর্যায়ে ১০ জেলেকে অপহরণ করে বনের গহীন অন্ধকারে ট্রলারযোগে পালিয়ে যায় তারা।

    অপহৃত ১০ জেলের মধ্যে ৫ জনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তারা হলেন, নাসির শেখ’র ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল শিকদার ও ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি ৫ জেলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাদরে নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রিয়জনের এমন নিখোঁজ সংবাদে ওই পরিবারগুলোর মাঝে এখন চলছে চরম আতংঙ্ক।

    অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দস্যুরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে দাবী করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে জেলেদের মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বনের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ জেলেদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক জেলে প্রাণের ভয়ে বন ছেড়ে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন, যার ফলে উপকূলীয় মৎস্য আহরণ খাতে বড় ধরণের স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) গোয়েন্দা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তারা বনের বিভিন্ন সম্ভাব্য পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। পশুর নদীসহ সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে সুন্দরবনের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ এবং দস্যুদের ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাদঁপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারাও কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বিতভাবে যোগাযোগ করছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এক সময় র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের সাড়াসি অভিযানের ফলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর প্রশাসনের টহল বা তৎপরতা কিছুটা শিথিলতার সুযোগে সুন্দরবনের পুনরায় নতুন নতুন দস্যু বাহিনী গড়ে উঠছে। সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে এবং সাধারণ জেলেদের জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিত করতে পুনরায় ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সুন্দরবনের এই অপহরণ কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। যদি দ্রæততম সময়ে এই ১০ জেলেকে উদ্ধার করা না যায় এবং দস্যু দমনে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে বনজীবী সাধারণ মানুষের মাঝে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হবে।

  • উপকূল অতিক্রম করে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত, ১৪ জেলায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

    উপকূল অতিক্রম করে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত, ১৪ জেলায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

    এবিএনএ,ঢাকা:

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। তবে এর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

    বিশেষ করে অমাবস্যার প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, বাগেরহাট, ভোলা, নোয়াখালী, ফেনীসহ ১৪টি উপকূলীয় জেলা এবং তাদের সংলগ্ন দ্বীপ ও চরসমূহ ২ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার বায়ু-তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। একইসাথে এসব অঞ্চলের মানুষকে সর্তক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সমুদ্র এখনো উত্তাল, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের আশপাশে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি পর্যন্ত উঠছে।

    মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা—উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।

    এদিকে, অব্যাহত ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই জনজীবন বিপর্যস্ত। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। শুক্রবারও দেশের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, তবে শনিবার থেকে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে বরিশাল নদীবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটেও লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ছয় অঞ্চলে (ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম) ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিমি গতির দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নৌবন্দরগুলোকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    সারাদেশের মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি, অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

    বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে।

    এই নিম্নচাপের প্রভাবে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর–পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগের নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে। বিশেষ করে ফেনী জেলার মুহুরী নদী, সিলেটের সারিগোয়াইন, সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, হবিগঞ্জের খোয়াই ও নেত্রকোনা জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, ভারি বৃষ্টির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং, উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকলকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। জনগণকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।