Tag: উপকূলীয় এলাকা

  • সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    এবিএনএ,মোংলা :সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সুন্দরবনে একযোগে দুটি বিশেষ অভিযান—‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে সক্রিয় দস্যু চক্র দমনে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও জানান, বনাঞ্চলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দস্যুদের আস্তানা শনাক্ত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে নদীপথে টহলও জোরদার করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    এছাড়া ৫৯৯ রাউন্ড গুলি, ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি শিকারের ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ২৯ জন শিকারিকেও আটক করেছে বাহিনীটি।

    ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অপারেশন রিস্টোর পিস ও ম্যানগ্রোভ শিল্ডের মাধ্যমে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দস্যুতা দমন এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেপ্তার: জিম্মি তিন জেলেকে উদ্ধার, স্বস্তি ফিরছে নদীপাড়ে

    জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেপ্তার: জিম্মি তিন জেলেকে উদ্ধার, স্বস্তি ফিরছে নদীপাড়ে

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক ২টি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্য আটক এবং জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ৩ জেলে উদ্ধার।

    শুক্রবার ০৩ এপ্রিল দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, আজ ৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান কর্তৃক ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল কর্তৃক ডাকাতদের ধাওয়া করে ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১,১০০ টাকাসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে তাদের আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) বাগেরহাটের শরণখোলা এবং বাবুল সানা (৪২) খুলনার পাইকগাছা থানার বাসিন্দা। উভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।

    অপরদিকে, আরও একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি নৌকাসহ ৩ জন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপন দাবি করছে।

    প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, উক্ত এলাকায় গত ১ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া এবং স্টেশন কৈখালী কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকা হতে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১টি নৌকাসহ ৩ জন জেলে এবং ডাকাতদের ব্যবহৃত ১টি নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি ও ১টি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

    আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য, গত দেড় বছর হতে অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে কুখ্যাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন ডাকাত সদস্য আটক করা হয়েছে। অভিযানগুলোতে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা ও ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ এবং দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

    এছাড়া কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনে ব্রিফিং প্রদান করেন লেঃ শেখ সাদমান বিন মাহমুদ, (এক্স), বিএন। নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস সোনার বাংলা।

  • তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,মোংলা : দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পর্যটন খাতে। ডিজেলের অভাবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকবাহী লঞ্চ ও নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটন শিল্পে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা।

    পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আগাম বুকিং দেওয়া কোটি টাকার ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে, ফলে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ট্যুর অপারেটররা।

    প্রতি বছর এ সময় সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলা, আলোর কোল, নীলকমল ও আন্দারমানিকসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। তবে এবার জ্বালানি সংকটে এসব এলাকা প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। নৌযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় অনেক গন্তব্যে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোংলাতেই শতাধিক পর্যটকবাহী লঞ্চ ও ট্যুর জাহাজ রয়েছে, যেগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের ট্যুর পরিচালনা করে। কিন্তু বর্তমান সংকটে এসব ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে শুধু ব্যবসায়ী নয়, পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।

    পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার নৌযান মালিক এবং ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মালিকরা কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।

    নৌযান চালকদের মতে, স্থানীয়ভাবে উচ্চমূল্যে অল্প পরিমাণ ডিজেল পাওয়া গেলেও তা দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে গভীর বনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঝুঁকি এড়াতেই অনেকেই নৌযান চালাতে অনিচ্ছুক।

    সুন্দরবনের পর্যটন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পায়। কিন্তু পর্যটক কমে যাওয়ায় বন বিভাগের আয় কমছে। পাশাপাশি হোটেল, মোটেল ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, পর্যটকের অভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বন বিভাগ। জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো এখন প্রায় জনশূন্য।

    এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, তেল সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন থেকে তেল জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক এই বিশাল অর্থনৈতিক খাত ধসে পড়তে পারে। তাই পর্যটন শিল্প ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সবাই।

  • সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সুন্দরবনে থামছেনা বনদস্যুদের হাতে জেলে অপহরণ। বুধবার রাতে আরো দুই জেলেকে অপহরণন করেছে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা। শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা ও আড়–য়াগাং এলাকায় বনদস্যুরা এই ৩ জেলেকে অপহৃত হয়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গেছে।

    তারা হলেন, রায়হান (২২) ও সুমন (২৪) এদের বাড়ী বাগেরহাটের শরণখোলার শরণখোলা গ্রামে। অপরদিকে,অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীর চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুইমহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন।

    সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডে নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হলেও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভযারণ্যে পরিণত হয়েছে।

    সুন্দরবনের শুটকি জেলে পল্লী শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার বিকালে মোবাইল ফোনে এতথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, বনদস্যুদের হাতে অপহৃত প্রত্যেক জেলেকে মুক্ত করতে দস্যুদের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিন পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে ও বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল। এদেও মধ্যে মুক্তি পাওয়া ১৪ জেলে রয়েছে।

    এদিকে শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে গতকাল শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।

  • ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ মেডিক্যাল ক্যাম্পে কোস্ট গার্ডের সেবা

    ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ মেডিক্যাল ক্যাম্পে কোস্ট গার্ডের সেবা

    এবিএনএ,মোংলা : খুলনার নলিয়ানে “তারুণ্যের উৎসব ২০২৬” শীর্ষক মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড।

    সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি  বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছে। দুঃস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের বিভিন্ন সময় মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে কোস্ট গার্ড।

    এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি  সোমবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক খুলনার দাকোপ থানাধীন নলিয়ান ও তৎসংলগ্ন এলাকায় “তারুণ্যের উৎসব ২০২৬” শীর্ষক মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। উক্ত মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে দেড় শতাধিক অসহায়, দুঃস্থ ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করা হয়।

    এছাড়াও, দেশপ্রেম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উক্ত কর্মশালায় স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

  • উপকূলজুড়ে জোয়ারের তাণ্ডব: শত শত এলাকা প্লাবিত, জনদুর্ভোগ চরমে

    উপকূলজুড়ে জোয়ারের তাণ্ডব: শত শত এলাকা প্লাবিত, জনদুর্ভোগ চরমে

    এবিএনএ:  সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ জোয়ার ও টানা বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি। লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি এবং বরগুনা জেলার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর, সড়ক, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ডুবে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

    লক্ষ্মীপুরে পানি বাড়ছেই, নদীভাঙনের নতুন শঙ্কা

    লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে নদীর পানি চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। কমলনগর ও রামগতির অন্তত ১২টি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

    পিরোজপুরে শতাধিক গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি পানির নিচে

    জেলার কঁচা, বলেশ্বর, কালিগঙ্গা, মধুমতীসহ ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় সাত উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পিরোজপুর সদরের পাশাপাশি ইন্দুরকানী, কাউখালী ও মঠবাড়িয়ায় কৃষিজমি ও পুকুর ডুবে গেছে। জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন, পানিবন্দি পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

    পটুয়াখালীতে নদীবাঁধ ভেঙে আমন ক্ষেত প্লাবিত

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, দশমিনা, বাউফল, দুমকী ও মির্জাগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। দুমকীর মুরাদিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। জেলা শহরের কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

    ঝালকাঠির নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে

    সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান চ্যানেলের পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার চারটি উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের পুরাতন কলাবাগ, লঞ্চঘাটসহ অনেক এলাকা এখন পানির নিচে।

    বরগুনায় ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে পানি

    পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠেছে। এর ফলে বরগুনার উপকূলীয় গ্রামগুলোয় ঢুকে পড়েছে নদীর পানি। আমন ধান ও চিংড়ির ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ভারতের দিকে অগ্রসর হলেও উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। ৩ নম্বর সমুদ্র এবং ১ নম্বর নদী সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে।

  • নিম্নচাপের তাণ্ডবে প্লাবিত সুন্দরবন ও মোংলার নিচু এলাকা

    নিম্নচাপের তাণ্ডবে প্লাবিত সুন্দরবন ও মোংলার নিচু এলাকা

    এবিএনএ,বাগেরহাট:

    সাম্প্রতিক নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকা ও সুন্দরবনে জোয়ারের পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা চরের বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় প্রায় তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে করমজল এলাকাতেও দেখা গেছে প্রায় আড়াই ফুট জোয়ার। এতে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যায়।

    তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের বড় কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ জোয়ার শেষে পানি দ্রুতই নামতে শুরু করে এবং বন্যপ্রাণীরা বনাঞ্চলের উঁচু স্থানে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে।

    দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান জানান, আগের দিন থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা বৃহস্পতিবার জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। সুন্দরবনের জেলেরা নিরাপদ স্থানে আছেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    করমজল বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, করমজলের হাঁটার পথসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে বন্যপ্রাণীরা যাতে নিরাপদে থাকে, সেজন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলের ভেতরে বিভিন্ন উঁচু জায়গায় বন্যপ্রাণীদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

    মোংলার পশুর ও মোংলা নদীর পাড়ঘেঁষা জয়মনি, চিলা, কলাতলা ও বুড়িরডাঙ্গা এলাকার নিচু এলাকাও প্রবল জোয়ারে তলিয়ে গেছে। এতে সাময়িক দুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক জানান, নিম্নচাপের কারণে পশুর নদীতে পানি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দুই ফুট বেড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় তা তিন ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে।