Tag: উত্তেজনা

  • বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব: দাফন না দাহ—মৃতদেহ ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না দাহ—এ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত পোদ্দার (কানু) প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান নামে ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, মৃতের মা ওই সেবাশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং সেখানেই তিনি অবস্থান করছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে মরদেহ উত্তর আমবাড়ি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী ও সন্তান প্রতিবাদ জানান। তারা দাবি করেন, মৃত ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাই মুসলিম রীতিতে কবরস্থানে দাফন করতে হবে।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে প্রশাসন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সব কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের দাবি যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সে কারণে দাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • ঢাকা-১৭ আসনে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে

    ঢাকা-১৭ আসনে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে

    এবিএনএ: ঢাকা-১৭ আসনের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্বাচনী উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের আশপাশে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মফিজুল ইসলাম নামের এক ভোট এজেন্ট জানান, সকাল থেকেই কেন্দ্রের ভিতরে একটি পক্ষ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছিল। কেন্দ্রের ভেতরে বিএনপির চারজন এজেন্ট ছিলেন। প্রাথমিকভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে বিষয়টি পুলিশের এবং সেনাবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

    তবে, কেন্দ্রের ১০০ গজের ভেতরে বিএনপির বুথ অব্যাহত থাকা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।

    প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো অনিয়ম হয়নি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। আমি ভোটকেন্দ্র মনিটর করছি এবং ভোটের পরিবেশ অনেক ভালো রয়েছে।”

    এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন।

  • ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে টিএসসিতে উত্তেজনা

    ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে টিএসসিতে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদলসহ কয়েকজন প্রার্থী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামসহ কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থীরা টিএসসিতে গিয়ে ভোট গণনা প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসন তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় প্রার্থীরা ভেতরে প্রবেশের দাবি জানিয়ে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন—“ভোট চোর ভোট চোর, শিবির ভোট চোর”, “প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না।”

    প্রার্থীদের অভিযোগ, টিএসসিতে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনে ব্যালট বাক্সের দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল না। তারা দাবি করেন, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালট বাক্স লুকিয়ে কারচুপি করছে। স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী হাসিবুল অভিযোগ করেন, “শিবির প্রার্থীদের ভোট গণনার সময় ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলেও আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটি স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।”

    অবস্থান কর্মসূচি আধাঘণ্টারও বেশি সময় চলার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রশাসন গেট খুলে দিলেও ছাত্রদল নেতারা ভেতরে প্রবেশ না করে টিএসসি ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

    টিএসসি থেকে বের হয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন কারচুপি লুকোতে চাইছে। তাই আমরা এই প্রহসনের নির্বাচন মানি না।”

    এ ঘটনার পর টিএসসির এলইডি স্ক্রিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।

  • সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    এবিএনএ:  ঢাকার সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সচিবালয়ের সামনে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।

    ছাত্ররা পরে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগ।

    বিক্ষোভে অংশ নেয় রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সাইন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সচিবালয়ের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ২০ মিনিট সময় চাওয়া হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি। এরপর শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।