Tag: উত্তরা দুর্ঘটনা

  • উত্তরার রেস্টুরেন্টে গ্যাস বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৭ জন ভর্তি জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে

    উত্তরার রেস্টুরেন্টে গ্যাস বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৭ জন ভর্তি জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের স্টাফদের থাকার কক্ষে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট–এর জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে আহতদের সেখানে নেওয়া হয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দগ্ধদের মধ্যে রেস্টুরেন্টে কর্মরত কয়েকজন কর্মী রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়ার ক্ষত হয়েছে। আগে তাদের কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থা বিবেচনায় বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

    আহতদের স্বজনরা জানান, গভীর রাতে কর্মচারীরা নিজেদের খাবার প্রস্তুত করার সময় রান্নাঘরে গ্যাসের লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ড্রেসিং চলছে। দগ্ধের মাত্রা তুলনামূলক কম হলেও সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

    স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক কক্ষগুলোর গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা যাচাইয়ে জোর দেওয়া হবে।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও, অধিকাংশ হাসপাতাল জানিয়েছে—এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি।

    দুর্ঘটনার পর মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে উত্তরা অঞ্চলের চারটি বেসরকারি হাসপাতালে ১৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ বলছেন—সরকারি নির্দেশনার আগে থেকেই তারা বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।

    উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বজলুর রহমান আদিল বলেন, “বার্ন রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু—স্যালাইন, ড্রেসিং সেট, ক্রিম—আমরা বিনামূল্যে দিয়েছি। পরে সরকারের নির্দেশনা দেখেছি, কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের উপস্থিতি থাকলে দুর্ঘটনার সময় আরও ভালো সমন্বয় হতো। যদিও অনেক বেসরকারি সংস্থা সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।”

    বুধবার সরেজমিনে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ, লুবানা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট ও শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়—বিমান দুর্ঘটনার রোগীদের বেশিরভাগই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

    হাসপাতালগুলোর চিত্র:

    • উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ:
      ১০০ জন চিকিৎসা নেন, গুরুতর আহত ৪০ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়, রাতেই অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

    • লুবানা জেনারেল হাসপাতাল:
      ২৭ জন এসেছিলেন, ১৪ জনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, একজনের মৃত্যু হয়।

    • উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল:
      দগ্ধ ১২ শিক্ষার্থী এসেছিল, ৫ জন পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ:
      ১৩ জন এসেছিলেন, ভর্তি ছিলেন ৫ জন। একজন বাসচালক আইসিইউতে ছিলেন, পরে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যে:
    মাইলস্টোন স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমান জানান, “চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা লাগেনি, কিন্তু এখনো কেউ খোঁজ নেয়নি।”

    লুবানা হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা মিরাজুন নাবী বলেন, “তিন দিনেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কেউ যোগাযোগ করেনি।”

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান:
    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “দুর্ঘটনার দিনই সব হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ পাঠানো হয়।” তবে কেন পরে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।