Tag: ঈদুল আজহা

  • সরকারি নির্দেশনায় পশ্চিমবঙ্গে গরুর বাজারে অস্থিরতা

    সরকারি নির্দেশনায় পশ্চিমবঙ্গে গরুর বাজারে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে গরুর বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন সরকারি বিধিনিষেধের কারণে কোরবানির পশু কেনাবেচা অনেকটাই কমে গেছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন গরু মোটাতাজাকরণে জড়িত খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

    স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর মুসলিম ক্রেতাদের একটি বড় অংশ গরু কেনায় আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে ঈদ উপলক্ষে গরু লালন-পালন করেছেন।

    এ পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বক্তব্য দেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী Agnimitra Paul। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari এবং দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত তথ্য মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে বহু খামারি গরু মোটাতাজা করেন এবং এই মৌসুমে বড় ধরনের ব্যবসা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সরকারি নির্দেশনার কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সম্প্রতি রাজ্য সরকার একটি নির্দেশনা জারি করে জানায়, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি পশুর বয়সসংক্রান্ত শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর থেকেই কোরবানির পশুর বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ঈদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পশু বাণিজ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • বাংলাদেশে ২৮ মে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা

    বাংলাদেশে ২৮ মে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৮ মে সারাদেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

    বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন জানান, মঙ্গলবার ১৯ মে থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৮ মে, অর্থাৎ ১০ জিলহজ, দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।

    প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে কোরবানির পশুর হাট, কেনাকাটা এবং ঈদযাত্রা ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

    ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি আত্মত্যাগ ও মানবতার শিক্ষাও বহন করে পবিত্র এই উৎসব।

  • ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, বদলে দুই শনিবার খোলা থাকবে অফিস

    ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, বদলে দুই শনিবার খোলা থাকবে অফিস

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী টানা সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছুটির আওতায় আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ ছুটির সমন্বয়ের জন্য আগামী ২৩ মে শনিবার এবং ২৪ মে রোববার অফিস খোলা থাকবে। অর্থাৎ ছুটির আগের ওই দুই দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    তবে জরুরি সেবাগুলো এই সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট সেবা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।

    এছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনে নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহনও ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।

    সরকার আরও জানিয়েছে, জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন অফিস প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা রাখা হবে।

    ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে আলাদা নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

    বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার ছুটি সংক্রান্ত বিষয়ে শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

  • কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    এবিএনএ:ত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক অনন্য শিক্ষা বহন করে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কোরবানি—যা কেবল পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতীক।

    ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিই কোরবানির মূল প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। এই ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    পবিত্র কোরআন-এ আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—নিজ রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত নয়, বরং মানুষের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

    হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদের জামাতে না আসে—এমন কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে।


    কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। এটি সেই সব প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক।

    এই নির্ধারিত সম্পদের পরিমাণকে বলা হয় “নিসাব”।


    নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত?

    কোরবানির সময় (১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) যদি কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিচের পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক—

    • স্বর্ণ: সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি)
    • রুপা: সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি)
    • অথবা সমপরিমাণ অর্থ বা সম্পদ (রুপার মূল্যের ভিত্তিতে)

    যদি কারও কাছে স্বর্ণ বা রুপা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে উভয়টি মিলিয়ে কিংবা নগদ অর্থ, অতিরিক্ত সম্পদ যোগ করে যদি তা রুপার নিসাবের সমান হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।


    কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

    নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সম্পদ বিবেচনায় আসবে—

    • স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
    • নগদ অর্থ
    • প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
    • অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা সম্পদ

    তবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।


    যাকাত ও কোরবানির সম্পর্ক

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—যাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর সম্পদ থাকা শর্ত, কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই দায়িত্ব বর্তায়।


    উপসংহার

    কোরবানি শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকলে এই ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

  • ঈদের রাতে দোয়া কবুলের বিশেষ আমল: যে ইবাদতে বদলে যেতে পারে আপনার জীবন

    ঈদের রাতে দোয়া কবুলের বিশেষ আমল: যে ইবাদতে বদলে যেতে পারে আপনার জীবন

    এবিএনএ: ইসলামে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—এই দুই ঈদ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে শুধু ঈদের দিনই নয়, এর আগের রাতও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় হিসেবে বিবেচিত।

    ইসলামি স্কলারদের মতে, ঈদের রাতকে অবহেলায় না কাটিয়ে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করা সুন্নত। অনেকেই আনন্দ-উৎসবে ব্যস্ত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হন, যা কাম্য নয়। এ রাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা হয়।

    হাদিসে উল্লেখ আছে, কিছু নির্দিষ্ট রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকলে জান্নাত লাভের সুসংবাদ রয়েছে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—পাঁচটি রাত এমন রয়েছে, যেগুলোতে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকলে জান্নাত নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জিলহজের ৮ ও ৯ তারিখের রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ শাবানের রাত।

    এছাড়া ঈদের রাতে করা দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না—এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, শবে বরাত এবং দুই ঈদের রাতে করা দোয়া বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

    আরেকটি হাদিসে হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি ঈদের দুই রাতে সওয়াবের আশায় ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিয়ামতের দিন যখন বহু হৃদয় নিস্তেজ হয়ে যাবে, তখন তার হৃদয় জীবিত থাকবে।

    সুতরাং, ঈদের আনন্দের পাশাপাশি এ রাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে নামাজ, জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।

  • ঢাকার রাস্তায় কোরবানির বর্জ্য: ‘পরিষ্কার’ দাবি ডিএনসিসির, মাঠে ভিন্ন চিত্র!

    ঢাকার রাস্তায় কোরবানির বর্জ্য: ‘পরিষ্কার’ দাবি ডিএনসিসির, মাঠে ভিন্ন চিত্র!

    এবিএনএ:

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) দাবি করেছে, তারা কোরবানির ঈদের প্রথম দিনেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করেছে। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রবিবার (৮ জুন) দুপুর থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তায় এখনো পশুর রক্ত ও বর্জ্য ছড়িয়ে রয়েছে। এসব ছবিও উঠে এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

    এই প্রসঙ্গে রবিবার ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে যে বিজ্ঞপ্তিতে ‘শতভাগ বর্জ্য অপসারণ’ বলা হয়েছিল, তা ছিল ঈদের প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্যের সর্বশেষ তথ্য। এরপর আরও নতুন কোরবানি হওয়ায় সেসব বর্জ্য রাতেই এসটিএস ও সড়কে সাময়িকভাবে রাখা হয়, যা রবিবার সকালে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

    ডিএনসিসি আরও জানায়, ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও পশু কোরবানি হয়, ফলে প্রতিনিয়তই নতুন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এসব বর্জ্য অপসারণের কাজও চলছে ধারাবাহিকভাবে। ডিএনসিসির ১০ হাজারেরও বেশি কর্মী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

    প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, ঘোষিত সময়ের আগেই শহরকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা উপহার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

    ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ১৩,১৭৪ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। বর্জ্যবাহী ট্রাক আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে মোট ২,৫৮০টি ট্রিপ সম্পন্ন করেছে।

    তবে জনসাধারণের অনেকে বলছেন, অনেক এলাকা এখনো দুর্গন্ধময় ও নোংরা অবস্থায় রয়েছে। তাই ডিএনসিসির “শতভাগ বর্জ্য অপসারণ” দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট সময় ধরে নয়, বরং বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অগ্রগতি জানানো উচিত, যাতে জনস্বার্থ নিশ্চিত হয়।

  • কোরবানির পশু সামলাতে গিয়ে বিপত্তি, দুই দিনে নিটোরে আহত ৬৪১ জন, অস্ত্রোপচার ১৮১ জনের

    কোরবানির পশু সামলাতে গিয়ে বিপত্তি, দুই দিনে নিটোরে আহত ৬৪১ জন, অস্ত্রোপচার ১৮১ জনের

    এবিএনএ:

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানি দিতে গিয়ে বা পশু কিনতে গিয়ে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ গত দুই দিনে ৬৪১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে গরু-ছাগলের ধাক্কা, লাথি কিংবা অসতর্কভাবে জবাইয়ের সময় ধারালো ছুরির আঘাতে।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে ১৮১ জনকে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেরই পা কাটা, রগ ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো জটিল আঘাত ছিল। চিকিৎসা শেষে ৪৩৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো ২০৭ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

    নিটোর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের আগের দিন শুক্রবার এবং ঈদের দিন শনিবার—এই দুই দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে এসেছেন। কেবল ঈদের দিনেই ৩২৫ জন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে ১০২ জনকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে হয়।

    শুক্রবারও কম চাপ ছিল না। সেই দিন হাসপাতালে আসা ৩১৬ জনের মধ্যে ৭৯ জনের জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। ৮৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নিটোরের জরুরি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রিপন ঘোষ বলেন, “অনভিজ্ঞতা ও সতর্কতার অভাবে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেকে হাত কেটে ফেলছেন, কারো পা কাটা পড়ছে, কেউবা পশুর ধাক্কায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হচ্ছেন।”

    রবিবার ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আবারও রোগীর ভিড় বাড়তে থাকে। নিটোরে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য হাবিব জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও রোগী আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোরবানির সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের অভাব থেকেই এই ধরণের দুর্ঘটনা ঘটছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পশু জবাইয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

  • ঈদের আনন্দে বাড়িমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তির যাত্রায় মুখর মহাসড়ক ও স্টেশন

    ঈদের আনন্দে বাড়িমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তির যাত্রায় মুখর মহাসড়ক ও স্টেশন

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঈদের ছুটি শুরু হতেই ঢাকায় নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত পরিবহনে চেপে মানুষ ছুটছে নিজ গ্রামের পথে।

    গতকাল ছিল সরকারি-বেসরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস। সেইসঙ্গে শুরু হয় ঈদযাত্রার ব্যস্ততা। রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ছাড়াও মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও পিকআপ ভ্যানে করে। এবারের ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ভোগের খবর না থাকলেও সড়কে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

    ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গতকাল থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ যান চলাচল দেখা গেছে। গাজীপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে কর্মজীবীরা পরিবারের টানে রওনা হয়েছেন।

    যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, যানবাহনের চাপ বাড়লেও মহাসড়কে যানজট হয়নি। সুষ্ঠু যাত্রা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, হাইওয়ে কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সেনাবাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল অংশে মহাসড়কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।

    কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। স্টেশনের ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যাত্রীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের ভিড় সামলাতে ঢাকাগামী ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। এতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হয়েছে।

    গাবতলী ও মাজার রোড এলাকায় যাত্রীদের ব্যস্ততা ছিল লক্ষণীয়। সৈয়দপুরগামী যাত্রী জামান আখতার বলেন, “অগ্রিম টিকিট থাকায় ঠিক সময়ে বাস পেয়েছি। কোনো দুর্ভোগ হয়নি।”

    চট্টগ্রাম থেকেও এসেছে স্বস্তির খবর। বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপ থাকলেও যাত্রা স্বাভাবিক।

    ঢাকা ছাড়ার এই মহাযাত্রা আজও অব্যাহত থাকবে। সড়ক, রেল ও নদীপথে লাখো মানুষ ছুটবে প্রিয়জনের কাছে ঈদ উদযাপন করতে।

  • ঈদে দীর্ঘ ছুটি, এটিএমে নগদ টাকার ঘাটতি ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ

    ঈদে দীর্ঘ ছুটি, এটিএমে নগদ টাকার ঘাটতি ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ

    এবিএনএ,ঢাকা:

    আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১০ দিনের টানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা শুরু হবে আগামী ৫ জুন থেকে এবং চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। এই দীর্ঘ ছুটিকালীন সময়ে জনগণের ব্যাংকিং সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাদের নিজস্ব ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সব এটিএম বুথে ঈদের ছুটির সময় যথেষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

    বিশেষ করে ঈদের আগের দিনগুলোতে যখন মানুষ ব্যাপকভাবে নগদ টাকা তোলেন, তখন যেন কোনো বুথে টাকা ফুরিয়ে না যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে অনলাইন ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু থাকে।

    ব্যাংকের সার্ভার বা প্রযুক্তিগত সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিটি ব্যাংককে আলাদা প্রযুক্তি সহায়তা টিম গঠন করে ছুটির পুরো সময় দায়িত্বে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এসএমএস, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহকদের জানাতে হবে—কোন সেবা কখন কিভাবে পাওয়া যাবে। এতে করে গ্রাহকরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

    এই নির্দেশনার মাধ্যমে দীর্ঘ ছুটির সময়েও দেশের আর্থিক লেনদেন ও সেবা ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


  • ৭ জুন বাংলাদেশে ঈদুল আজহা, দেশের আকাশে দেখা গেছে জিলহজের চাঁদ

    ৭ জুন বাংলাদেশে ঈদুল আজহা, দেশের আকাশে দেখা গেছে জিলহজের চাঁদ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এরই মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, আগামী ৭ জুন শনিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে।

    আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসেন।

    সভায় জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্য এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৬ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

    ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে ১০ জিলহজ, অর্থাৎ ৭ জুন শনিবার।

    উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা মুসলিম বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগের আদর্শে উদ্ভাসিত। এই দিনে মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন।

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানায়।