Tag: ঈদযাত্রা

  • ঈদযাত্রায় কড়াকড়ি: সদরঘাটে অভিযান, জরিমানা ৭০ হাজার টাকা—আটক অর্ধশতাধিক

    ঈদযাত্রায় কড়াকড়ি: সদরঘাটে অভিযান, জরিমানা ৭০ হাজার টাকা—আটক অর্ধশতাধিক

    এবিএনএ: ঈদকে সামনে রেখে নৌপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনভর সেখানে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করেন মো. রাজিব আহসান

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী সরাসরি ঘাটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং অনিয়ম রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তার উপস্থিতিতেই বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

    নির্ধারিত সময়সূচি ভঙ্গ করে বিলম্বে লঞ্চ ছাড়ার অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি লঞ্চকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই সঙ্গে অন্যান্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।

    এ সময় প্রতিমন্ত্রী প্রায় ২০টি লঞ্চ ঘুরে দেখেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন।

    অভিযানের অংশ হিসেবে যাত্রী হয়রানি ও অবৈধভাবে ঘাট দখলের অভিযোগে ৩৭ জন হকারকে আটক করে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া অনুমতি ছাড়া নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপারের দায়ে আরও ৬ জন মাঝিকেও আটক করা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

    পাশাপাশি যাত্রীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের দল।

  • ঈদযাত্রায় দুঃসহ ভোগান্তি—গাজীপুরে ২১ কিমি যানজটে আটকা হাজারো মানুষ

    ঈদযাত্রায় দুঃসহ ভোগান্তি—গাজীপুরে ২১ কিমি যানজটে আটকা হাজারো মানুষ

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাড়ির পথে ছুটছে লাখো মানুষ। তবে আনন্দযাত্রা রূপ নিয়েছে চরম দুর্ভোগে। গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ কিলোমিটার।

    বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে যানবাহনের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে বৃষ্টির প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

    শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর একযোগে হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এতে চন্দ্রা এলাকা, যা উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত, সেখানে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা বাস টার্মিনাল থেকে কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে আরও ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে আছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে যানবাহন।

    দূরপাল্লার বাসযাত্রী আল মাহাদী জানান, বৃষ্টির মধ্যেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠলেও এক ঘণ্টায় মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পেরেছেন। নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ সময় লাগতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

    একইভাবে, পরিবহন চালক মাহতাবুর রহমান বলেন, বৃষ্টির পর থেকেই যানজট মারাত্মক আকার নিয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

    চন্দ্রা টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রী আতাউর রহমানের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো গাড়ি পাচ্ছেন না। এ সুযোগে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি নেই।

    এদিকে, যানজট নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, নির্দিষ্ট দায়িত্ব বিভাজনের কারণে তারা সরাসরি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন না।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ থাকলেও তাদের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না। ফলে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।

    সার্বিক পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই যানজট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। এবার ধাপে ধাপে বাড়ি ফেরার কারণে শুরুতে স্বস্তি থাকলেও নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট।

    পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেল সরবরাহ। অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে বাসচালক ও মালিকদের। ফলে সময়মতো বাস ছাড়তে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে। এর আগে চার দিনের টানা ছুটির কারণে এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি।

    ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা সেতুতেও তেমন চাপ নেই বলে জানা গেছে।

    তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, তেলের অপ্রতুলতা এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাস কোম্পানি প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছে না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ট্রিপ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

    বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাপ বাড়লেও তেলের অনিশ্চয়তার কারণে বাসের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে যাত্রী ভোগান্তি বাড়তে পারে।

    অন্যদিকে, সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহনে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, সামনে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের ছুটি শুরু হলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। সেই চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

    সব মিলিয়ে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও ‘তেলের টেনশন’ এখন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ঈদযাত্রার চাপে আব্দুল্লাহপুরে মানুষের স্রোত, বাস সংকটে বাড়তি ভাড়া ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ

    ঈদযাত্রার চাপে আব্দুল্লাহপুরে মানুষের স্রোত, বাস সংকটে বাড়তি ভাড়া ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। এতে উত্তরের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহপুর এলাকায় যাত্রীদের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বাসের সংকট ও যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

    সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশে অসংখ্য যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।

    যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃজেলা ও স্থানীয় রুটের অনেক বাস নির্ধারিত রুটে চলাচল না করে বেশি লাভের আশায় একাধিক ট্রিপ দিচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট রুটে বাসের সংখ্যা কমে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

    তারা আরও জানান, ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসের ভাড়া সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে থাকে, সেখানে বর্তমানে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাক বা অন্য বিকল্প যানবাহনে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। এসব ট্রাকেও জনপ্রতি প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

    রংপুরগামী যাত্রী রিয়াজুল বলেন, “সাধারণ সময়ে রংপুর যেতে ৫০০ টাকা লাগে। কিন্তু এখন বাসে উঠতেই ১৫০০ টাকা চাইছে। উপায় না থাকায় সেই ভাড়াতেই যেতে হচ্ছে।”

    অন্যদিকে ময়মনসিংহগামী গার্মেন্টসকর্মী রহিমা খাতুন জানান, বিকেল থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করলেও কোনো বাস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “যাত্রী অনেক কিন্তু বাস খুব কম। মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত ট্রাকেই যেতে হবে।”

    তবে পরিবহন কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ঈদের সময়ে অনেক বাস যাত্রী ছাড়াই ঢাকায় ফিরে আসে। সেই কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া সামান্য বাড়তে পারে।

    উত্তরার আজমপুর এলাকার একটি পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক বাচ্চু মিয়া বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ধীরগতির কারণে গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। এতে নির্ধারিত শিডিউল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

  • লাখো যাত্রীর ভিড়ে মাত্র ৩১ হাজার আসন! ঈদযাত্রায় রেলের কঠোর প্রস্তুতি, স্টেশনে বাঁশের ব্যারিকেড

    লাখো যাত্রীর ভিড়ে মাত্র ৩১ হাজার আসন! ঈদযাত্রায় রেলের কঠোর প্রস্তুতি, স্টেশনে বাঁশের ব্যারিকেড

    এবিএনএ: আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে Bangladesh Railway। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অগ্রিম ট্রেন টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে এবং সব টিকিটই অনলাইনে দেওয়া হয়েছে।

    তবে যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা খুবই সীমিত হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা ঘিরে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ট্রেনে সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ২৫৫টি আসন রয়েছে। অথচ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

    এই বিশাল ব্যবধান সামাল দিতে রাজধানীর প্রধান স্টেশন Kamalapur Railway Station–সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।


    স্টেশনে বাঁশের ‘জিকজ্যাক’ ব্যারিকেড

    রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনের প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে জিকজ্যাক পদ্ধতির অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়েছে।

    ঢাকা, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনে এই বিশেষ ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগে যাত্রীদের টিকিট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পরীক্ষা করা হবে। কোনো যাত্রী যেন বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে—সেজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশনে মোট ছয়টি আলাদা প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পথ দিয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিটধারীরা প্রবেশ করবেন, চারটি পথ মূল যাত্রীদের জন্য এবং আরেকটি পথ যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত।


    বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। এ কাজে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে Rapid Action Battalion, Railway Nirapotta Bahini, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী।

    রেললাইন ও চলন্ত ট্রেনে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভিজিল্যান্স টিমও কাজ করবে। এছাড়া ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধ ও টিকিটের কালোবাজারি রোধে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনে কঠোর নজরদারি থাকবে।


    বিশেষ ট্রেন ও সময়সূচি

    ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ কমাতে এবার পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সব আন্তনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

    আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এসব ট্রেন নিয়মিত চলবে। তবে ঈদের দিন কোনো আন্তনগর ট্রেন চলাচল করবে না।

    রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম–চাঁদপুর, ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরববাজার–কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ এবং জয়দেবপুর–পার্বতীপুর রুটে বিশেষ ট্রেন চলবে।


    বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা

    যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও Bangladesh University of Engineering and Technology–এর অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, চাহিদা ও সক্ষমতার বিশাল ব্যবধানের কারণে ঈদের সময় চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

    তার মতে, স্টেশনে ব্যারিকেড বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আসনসংখ্যা কম থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেক যাত্রী সমস্যায় পড়তে পারেন।

  • ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ডিএসসিসির কঠোর পদক্ষেপ—সায়েদাবাদে উচ্ছেদ হবে অবৈধ কাউন্টার

    ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ডিএসসিসির কঠোর পদক্ষেপ—সায়েদাবাদে উচ্ছেদ হবে অবৈধ কাউন্টার

    এবিএনএ: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং সড়কে যানজট কমাতে বেশ কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার নগর ভবন এ অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম । এতে ডিএসসিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    সভায় জানানো হয়, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ টিকিট কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    অবৈধ কাউন্টার ও দোকান উচ্ছেদ

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সায়েদাবাদ আন্ত;জেলা বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কের পাশে থাকা অবৈধ টিকিট কাউন্টার ও দোকানগুলো নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দিয়ে সরিয়ে ফেলা হবে। সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালানো হবে।

    নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টার বরাদ্দ

    টার্মিনালের ভেতরে কেবল প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কাজে বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও ট্রাফিক পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

    নির্ধারিত বাস-বে ব্যবহার বাধ্যতামূলক

    টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার না করে বাসগুলোকে নির্ধারিত পাঁচটি বাস-বে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জন্য বাস সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিট অবস্থান করতে পারবে।

    যাত্রীসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন

    যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে টার্মিনালে নতুন তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পান করানোর আলাদা কক্ষ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঈদের আগেই টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ শেষ করা, শৌচাগার সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নজরদারি

    ঈদ উপলক্ষে বাড়তি যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে কোনো পরিবহন যেন অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারে—এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে পরিবহন মালিকদের প্রতি।

    পরিত্যক্ত বাস অপসারণ

    টার্মিনালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্রাফিক বিভাগকে। এতে সড়কের যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • ঈদের আনন্দে বাড়িমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তির যাত্রায় মুখর মহাসড়ক ও স্টেশন

    ঈদের আনন্দে বাড়িমুখো মানুষের ঢল, স্বস্তির যাত্রায় মুখর মহাসড়ক ও স্টেশন

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঈদের ছুটি শুরু হতেই ঢাকায় নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত পরিবহনে চেপে মানুষ ছুটছে নিজ গ্রামের পথে।

    গতকাল ছিল সরকারি-বেসরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস। সেইসঙ্গে শুরু হয় ঈদযাত্রার ব্যস্ততা। রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ছাড়াও মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও পিকআপ ভ্যানে করে। এবারের ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ভোগের খবর না থাকলেও সড়কে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

    ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গতকাল থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ যান চলাচল দেখা গেছে। গাজীপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে কর্মজীবীরা পরিবারের টানে রওনা হয়েছেন।

    যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, যানবাহনের চাপ বাড়লেও মহাসড়কে যানজট হয়নি। সুষ্ঠু যাত্রা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, হাইওয়ে কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সেনাবাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল অংশে মহাসড়কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।

    কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। স্টেশনের ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যাত্রীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের ভিড় সামলাতে ঢাকাগামী ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। এতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হয়েছে।

    গাবতলী ও মাজার রোড এলাকায় যাত্রীদের ব্যস্ততা ছিল লক্ষণীয়। সৈয়দপুরগামী যাত্রী জামান আখতার বলেন, “অগ্রিম টিকিট থাকায় ঠিক সময়ে বাস পেয়েছি। কোনো দুর্ভোগ হয়নি।”

    চট্টগ্রাম থেকেও এসেছে স্বস্তির খবর। বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপ থাকলেও যাত্রা স্বাভাবিক।

    ঢাকা ছাড়ার এই মহাযাত্রা আজও অব্যাহত থাকবে। সড়ক, রেল ও নদীপথে লাখো মানুষ ছুটবে প্রিয়জনের কাছে ঈদ উদযাপন করতে।