Tag: ইসি

  • সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির জমা দেওয়া ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ঘোষণা দেন।

    যাচাই শেষে বিএনপির দাখিল করা সব প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর ফলে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে দলটির পূর্ণ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছে।

    বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।

    এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে গেল দলটি।

  • ইসির অনলাইন কার্ড আবেদনে ভয়াবহ গাফিলতি, ফাঁস হলো ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য

    ইসির অনলাইন কার্ড আবেদনে ভয়াবহ গাফিলতি, ফাঁস হলো ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার প্রদানের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমবারের মতো অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হলেও সাংবাদিকদের প্রবল আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কমিশন।

    তবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগেই প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক ইসির নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন করেছিলেন। শনিবার বিকেলে সেই আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হঠাৎ করেই ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ্যে চলে আসে, যা নিয়ে সাংবাদিক মহলে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

    শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd-এ প্রবেশ করলেই দেখা যায়, আবেদন করা ১৪ হাজার সাংবাদিকের তালিকা সরাসরি হোম পেজে দৃশ্যমান। সেখানে আবেদনকারীদের নামের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদনপত্র দেখার অপশনও উন্মুক্ত ছিল।

    কিছু সময় পর ওয়েবসাইটটিতে আর প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তখনই বিষয়টি নজরে এলে সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই জনসংযোগ শাখা অনলাইন আবেদন পদ্ধতি চালু করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠকের পর আগের পদ্ধতিতেই কার্ড ও স্টিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।

    এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, অনলাইন সিস্টেম আগেই বন্ধ করা হয়েছিল। তবে শনিবার বিকেলে কীভাবে ওয়েবসাইটটি আবার উন্মুক্ত হলো, সে বিষয়ে তদন্ত করে জানা গেছে—ওয়েবসাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাডমিন সাময়িকভাবে সেটি চালু করেছিলেন। বর্তমানে সাইটটি বন্ধ রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    ইসির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হতো। পরে ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা হতো।

  • যাচাই-বাছাই শেষ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকছেন ১,৮৪২ বৈধ প্রার্থী

    যাচাই-বাছাই শেষ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকছেন ১,৮৪২ বৈধ প্রার্থী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই শেষে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। ইসির তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হলেও জমা পড়ে ২ হাজার ৫৬৮টি। যাচাই শেষে এর মধ্যে ১,৮৪২টি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

    অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ৩০৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন, বাতিল হয়েছে ১৩৩ জনের মনোনয়ন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৈধ ১৩৮ এবং বাতিল ৫৬টি। রাজশাহী অঞ্চলে ১৮৫ জন বৈধ হলেও ৭৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    খুলনা অঞ্চলে ১৯৬ জন প্রার্থী বৈধ হয়েছেন, অবৈধ হয়েছেন ৭৯ জন। বরিশাল অঞ্চলে বৈধ প্রার্থী ১৩১ জন এবং বাতিল ৩১ জন। সিলেট অঞ্চলে ১১০ জন বৈধ ও ৩৬ জন অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

    ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৯৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেলেও ১১২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। কুমিল্লা অঞ্চলে বৈধ প্রার্থী ২৫৯ জন, বাতিল হয়েছে ৯৭ জনের। রংপুর অঞ্চলে বৈধ ২১৯ ও বাতিল ৫৯ জন। ফরিদপুর অঞ্চলে ৯৬ জন বৈধ এবং ৪৬ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

    এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনের তিনটি মনোনয়নপত্র কোনো যাচাই ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

  • মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপর আপিল দাখিল ও নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত ছিল। এদিন বিভিন্ন আসনে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৮৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হলো—বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির আরও আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    হলফনামায় ভুল ও অসংগতি, তথ্যে গরমিল, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এবং ঋণখেলাপির অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    চট্টগ্রাম: তিনটি আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাকের) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যা। এর মধ্যে এরশাদ উল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার, আহমদ কবির, খেলাফত মজলিসের আফরাফ বিন ইয়াকুব এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের। চট্টগ্রাম- ৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জাতীয় পার্টির এমএ ছালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াহেদুল মাওলা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বগুড়া: জেলার তিনটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। এর মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে দুইজন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চারজন এবং বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গরমিল থাকায় বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার।

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকতা জানান, হলফনামায় নোটারি পাবলিকের আইনজীবীর স্বাক্ষর ছিল ২৮ তারিখ কিন্তু প্রার্থী হিসেবে মান্নার স্বাক্ষর ছিল ২৯ তারিখে। তাতে প্রতীয়মান হয়েছে প্রার্থী নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর করেননি। স্বাক্ষর করার নিয়ম নোটারি পাবলিকের সামনে। তবে ‌আপিল করার সুযোগ আছে বলেও তিনি জানান।

    বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন– জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু।

    বগুড়া-১ আসনে মোট সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা। বগুড়া-৩ আসনে মোট পাঁচ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান আলী তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    যশোর: জেলার আরও দুটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নিজাম উদ্দিন অমিতের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যশোর-৪ আসনে (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুব, দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুবের নামে ঢাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। তাই তাঁর প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেয় ব্যাংক।

    কক্সবাজার: কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলা। এর মধ্যে একটি মামলার যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    কুমিল্লা : জেলার ছয়টি আসনে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– কুমিল্লা-১ আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ ইফতেকার আহসান, জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক, কাজী ওবায়েদ ও আবু জায়েদ আল মাহমুদ। কুমিল্লা-২ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আব্দুস সালাম, কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমিজ উদ্দিন ও মনোয়ার হোসেন। কুমিল্লা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামানের। কুমিল্লা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল করিম এবং খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন। কুমিল্লা-৫ আসনে সিপিবির আবদুল্লাহ আল কাফি। কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদের কামরুন নাহার সাথী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুনুর রশিদ।

    গাইবান্ধা: পাঁচটির মধ্যে দুটি আসনের আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার, মোস্তফা মহসিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রমজান আলী ও জাতীয় পার্টির মাহফুজুল হক সরদার। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে সিপিবির প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মাজেদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযম।

    মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, সিপিবির শ ম কামাল হোসেন, লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা ও খেলাফত মজলিসের নুর হোসাইন নুরানী।

    বরিশাল: তিনটি আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী ও বরিশাল-৬ আসনে মুসলিগ লীগের আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়পত্র স্থগিত হয়েছে।

    খুলনা: জেলার দুটি আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীসহ আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আরা পারভীন (ইয়াসিন), খুলনা-৬ আসনে একই দলের প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল বিশ্বাস।

    কুড়িগ্রাম:  জেলার চারটি আসনের দুটিতে গতকাল এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মনোনয়নপত্র স্থগিত হয়েছে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের।

    পাবনা: পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির দুই বিদ্রোহী নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন খায়রুন নাহার খানম মিরু ও হাজি ইউনুস আলী। এদিকে গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রস্তাবক ও সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিককে ডিবি আটক করেছে। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এই অভিযোগ করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    রংপুর: জেলার দুটি আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাসদের আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডলের। রংপুর-৪ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– স্বতন্ত্র শাহ্‌ আলম বাশার, জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) আব্দুস ছালাম।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ছয়টির মধ্যে তিনটি আসনে ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও মো. কাজী জাহাঙ্গীর।

    টাঙ্গাইল: আটটির মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদ। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার হোসেন সাগর, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র আইরিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম তালুকদার ও মো. আব্দুল হালিম মিঞা।

  • ২১টি রাজনৈতিক দল সময়মতো আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে কয়েকটি দল

    ২১টি রাজনৈতিক দল সময়মতো আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে কয়েকটি দল

    এবিএনএ:  ২০২৪ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়নি ২১টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে ১০টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও বাকি ১১টি দল কোনো হিসাব জমা দেয়নি এবং সময় চেয়ে আবেদনও করেনি।

    ইসির জনসংযোগ পরিচালক শরিফুল আলম জানান, নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৯টি দল সময়মতো অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ছিল এই হিসাব জমার শেষ দিন। একইদিন ইসির নির্বাচন সহায়তা-১ শাখা থেকে সারসংক্ষেপও প্রকাশ করা হয়।

    ২০০৮ সাল থেকে ইসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কেউ নির্ধারিত সময়ে হিসাব জমা দিতে না পারলে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারে। আইন অনুযায়ী, টানা তিন বছর হিসাব না দিলে দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

    এই বছর অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া ২৯টি দলের মধ্যে রয়েছে—বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, কল্যাণ পার্টি, গণফোরাম, তরিকত ফেডারেশন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, আমার বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, এনডিএম, জিইওপি, বিএনএফ, খেলাফত মজলিস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল (এমএল) সহ অন্যান্য দল।

    এদিকে, এক মাস সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে:

    • এলডিপি

    • সিপিবি

    • জেএসডি

    • বিজেপি

    • খেলাফত মজলিস

    • মুক্তিজোট

    • বিএনএম

    দুই মাস সময় চেয়েছে:

    • ন্যাপ

    • বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি

    • বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)

    অন্যদিকে হিসাব জমা দেয়নি এবং সময়ও চায়নি যেসব দল, তারা হলো:

    • কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ

    • বিকল্পধারা বাংলাদেশ

    • জাসদ

    • জাকের পার্টি

    • বাসদ

    • বাংলাদেশ মুসলিম লীগ

    • গণফ্রন্ট

    • বাংলাদেশ ন্যাপ

    • তৃণমূল বিএনপি

    • বাংলাদেশ জাসদ

    • গণসংহতি আন্দোলন

    এবারই প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এই তালিকার বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে আদালতের আদেশে পুনঃনিবন্ধিত জামায়াত ও সদ্য নিবন্ধিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ক্ষেত্রে হিসাব জমা প্রযোজ্য ছিল।