এবিএনএ: ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি হলো জাকাত। এটি কেবল দান নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে জাকাত আদায়ের প্রতি মুসলমানদের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। এই সময়ে অনেকেই জানতে চান—কোন কোন সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয়।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সব ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত বাধ্যতামূলক নয়। নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের ওপরই জাকাত দিতে হয়, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ বা ‘নিসাব’ পূরণ করলে এবং এক বছর অতিক্রম করলে ফরজ হয়ে যায়।
সোনা ও রুপা
সোনা ও রুপার ওপর জাকাত দেওয়া ফরজ। তা অলংকার হিসেবে ব্যবহার করা হোক বা না হোক—সব অবস্থাতেই এর জাকাত আদায় করতে হবে। একইভাবে অলংকার ছাড়া অন্য কোনো রূপে থাকা সোনা-রুপার ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য।
সোনা-রুপার কারুকাজযুক্ত সামগ্রী
কোনো পোশাক বা অন্যান্য জিনিসে যদি সোনা-রুপার কারুকাজ থাকে, তাহলে সেই অংশের সোনা-রুপার পরিমাণ হিসাব করে জাকাতের আওতায় ধরা হবে। অন্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে এর হিসাব করতে হয়।
অন্যান্য ধাতু বা রত্নপাথর
সোনা ও রুপা ছাড়া অন্য ধাতুর তৈরি অলংকার বা সামগ্রীতে সাধারণত জাকাত ফরজ হয় না। তেমনি হিরা, মণি-মুক্তা বা মূল্যবান পাথর যদি ব্যবসার পণ্য না হয়, তবে সেগুলোর ওপর জাকাত দিতে হয় না।
নগদ অর্থ ও সঞ্চয়
প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে যে টাকা সঞ্চিত থাকে এবং তা যদি নিসাব পরিমাণে পৌঁছায়, তাহলে এক বছর পূর্ণ হলে সেই অর্থের ওপর জাকাত দিতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড বা সঞ্চয়পত্রও একইভাবে জাকাতের আওতায় পড়ে।
অব্যবহৃত অর্থ
কোনো অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে শুধু জমিয়ে রাখা হলেও তার ওপর জাকাত ফরজ হয়, যদি তা নিসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং এক বছর অতিক্রম করে।
ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে সঞ্চিত অর্থ
হজ, বাড়ি নির্মাণ বা সন্তানের বিয়ের মতো ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে জমিয়ে রাখা অর্থও জাকাতের হিসাব থেকে বাদ যায় না। নির্ধারিত নিসাব পূরণ হলে এবং এক বছর অতিবাহিত হলে এর ওপরও জাকাত দিতে হবে।
ব্যবসায়িক পণ্য
দোকান বা ব্যবসায় বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা সব ধরনের পণ্য—যেমন খাদ্যদ্রব্য, কাপড়, অলংকার, নির্মাণসামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার বা ইলেকট্রনিক পণ্য—বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব পণ্যের বাজারমূল্য যদি নিসাবের সমপরিমাণ হয়, তাহলে সেগুলোর ওপরও জাকাত ফরজ হবে।
ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, জাকাত শুধু সম্পদের পবিত্রতাই নিশ্চিত করে না, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
