Tag: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

  • ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির কপালে কলঙ্ক’—চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা, তদন্তের দাবি

    ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির কপালে কলঙ্ক’—চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা, তদন্তের দাবি

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “জাতির কপালে কলঙ্কের দাগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হিসেবে শনিবার রাজধানীর রামপুরায় দলটির নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় তিনি বলেন, অনিয়ম ঠেকাতে এত ত্যাগ ও আত্মদান সত্ত্বেও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পুরোনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি জাতিকে হতাশ করেছে।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জনগণ স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

    নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে চরমোনাই পীর বলেন, অভিযোগগুলোকে পক্ষপাতহীনভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    পর্যালোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সারা দেশ থেকে আসা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও ভোটের দিনকার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ জরুরি।

  • ভোটের অঙ্কে ধাক্কা—বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জনও বাদ

    ভোটের অঙ্কে ধাক্কা—বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জনও বাদ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। নির্বাচনসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেছে, এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়েছে—যা সংখ্যায় অর্ধেকের বেশি এবং শতাংশের হিসাবে প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি।

    আসনভিত্তিক হিসাবে বাগেরহাট-১ এ ছয়জন, বাগেরহাট-২ এ একজন, বাগেরহাট-৩ এ তিনজন এবং বাগেরহাট-৪ এ চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

    বাগেরহাট-১ আসনে জামানত হারানোদের মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম ও মাসুদ রানা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আ. সবুর শেখ ও এমডি শামসুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. আমিনুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির এস এম গোলাম সরোয়ার। প্রয়োজনীয় ভোটের কোটা না ছোঁয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

    বাগেরহাট-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমান ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। একইভাবে বাগেরহাট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিম, ইসলামী আন্দোলনের শেখ জিল্লুর রহমান এবং জেএসডির মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে না পেরে জামানত হারিয়েছেন।

    বাগেরহাট-৪ আসনে জামানত হারানো চারজনের মধ্যে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি এবং জেএসডির মো. আব্দুল লতিফ খান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কাজী খায়রুজ্জামান শিপন প্রচার শেষে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভোটের কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবু প্রার্থী তালিকায় থাকায় তাঁর ক্ষেত্রেও জামানত বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

    বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তর জানিয়েছে, ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

  • বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলা, বাগেরহাট পৌরসভা ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-২ সংসদীয় আসনটি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই আসন থেকে বিজয়ী দলের প্রার্থীরাই পরবর্তীতে সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক, মতবিনিময় ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করেছেন।

    তবে বিএনপির ভেতরেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম। তিনি জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। শহর রক্ষা বাঁধ, মাজেদা বেগম কৃষি কলেজ, দড়াটানা ও মুনিগঞ্জ সেতু, বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজসহ জেলার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার সময়েই সম্পন্ন হয়। তিনি একাধিক আসনে নির্বাচন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিজয়ের উপহার দিতে আশাবাদী বলে মন্তব্য করেন।

    এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বয়সে তুলনামূলক তরুণ হলেও নির্বাচনী মাঠে বেশ সক্রিয় ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। সরকারি পিসি কলেজে সাবেক এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ছাত্রশিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অন্যদিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত দল এবং দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমানও সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সব মিলিয়ে বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটাররা।

    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

  • নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে একক পথে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

    নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে একক পথে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট রাজনীতি থেকে সরে এসে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও আসন সমঝোতার টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

    শুক্রবার রাজধানীতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, দলটি ইতোমধ্যে ২৬৮টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি ৩২টি আসনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানানো হবে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবেই অংশ নেবে।”

    এর আগে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়েই জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১০টি রাজনৈতিক দল ২৫৩টি আসনে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জন্য আলাদা চেয়ার রাখা হলেও দলটির কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

    একই দিনে দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং রাতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনও বর্জন করে ইসলামী আন্দোলন। যদিও ওই সমঝোতায় দলটির জন্য পাঁচটি উন্মুক্ত আসনসহ মোট ৪৭টি আসন প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোটে না থাকায় উন্মুক্ত রাখা আসনগুলোতে জামায়াত তাদের নিজস্ব প্রার্থী দেবে। এ অবস্থায় একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি।

  • জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে জামায়াতসহ আট দলীয় জোট। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি বা গণভোটের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না আসায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নেয় দলগুলো।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হবে, যেখানে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি এবং নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হবে। তবে সেই আলোচনায় ইতিবাচক ফল না এলে আট দলের জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

    নেতারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিতে জনগণের প্রত্যাশা রক্ষায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তবে সরকারের নীরবতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও কঠোর হবে।

  • চরমোনাই পীর ভণ্ড, জামায়াত জাতীয় বেইমান: লক্ষ্মীপুরে এ্যানীর তীব্র সমালোচনা

    চরমোনাই পীর ভণ্ড, জামায়াত জাতীয় বেইমান: লক্ষ্মীপুরে এ্যানীর তীব্র সমালোচনা

    এবিএনএ:  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীরপন্থী) এবং জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা আউটডোর স্টেডিয়াম মাঠে সদর পূর্ব বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    চরমোনাই পীরের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “পীর নন, তিনি ভণ্ড। যিনি বারবার শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে স্থায়ী করেছেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সহযোগিতা করে শেখ হাসিনার শাসন দীর্ঘায়িত করেছেন। পাখা প্রতীকের সেই ইসলামী আন্দোলন ছিল জাতির সঙ্গে এক চরম বেইমানি।”

    তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আজ তারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলছে, কিন্তু গত ১৭ বছর কোথায় ছিল? তখন তো আমরা পাখা প্রতীক পাইনি।”

    জামায়াতের সমালোচনা করে এ্যানী বলেন, “জামায়াত শুধু বিএনপির বিরুদ্ধেই নয়, জাতির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তাদের ভূমিকা প্রমাণ করেছে, তারা কেবল আওয়ামী লীগকেই টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছে। তারা আত্মস্বীকৃত জাতীয় বেইমান।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ আবার নতুন নামে, ভিন্ন ছদ্মবেশে তারা মাঠে নামতে চাইছে। কিন্তু জনগণ তাদের আর বিশ্বাস করবে না। আওয়ামী লীগের হাতের লাঠি হয়ে জনগণকে আঘাত করার রাজনীতি এবার বন্ধ করতে হবে।”

    সংখ্যানুপাতিক (পিআর) ভোটের দাবিকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এ্যানী বলেন, “ইসলামের নামে যারা দেশবিরোধী রাজনীতি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কোনো চক্রান্তই সফল হবে না, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করব।”

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পূর্ব বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান হারুন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. এমরান। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজাম, ভিপি হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান ও বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপীসহ অনেকে।

  • পিআর নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিল চরমোনাই পীরের দল

    পিআর নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিল চরমোনাই পীরের দল

    এবিএনএ: প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) নির্বাচনের দাবিকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    তিনি জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আন্দোলনের মূল দাবি—জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল–প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, গণহত্যার বিচার এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের বিচার।

    এর আগে জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং অন্য একটি খেলাফতপন্থী অংশও একই তারিখে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের প্রক্রিয়া আরও জোরালো হয়েছে। তবে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও নেজামে ইসলাম পার্টি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্মে না গিয়ে আলাদা অবস্থান বজায় রেখেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করীম বলেন, “ইসলামী দলগুলো এখন একত্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। জনগণের ভোটকে এক বাক্সে আনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি।

    চরমোনাই পীর জাতীয় পার্টিকে ‘ভারতীয় আধিপত্যের প্রকাশ্য এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তারা প্রতিটি ভুয়া নির্বাচনে অংশ নিয়ে অবৈধ সরকারকে বৈধতা দিয়েছে। এবারও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।”

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কার ছাড়া জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আর নির্বাচনের পর সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি জনগণ আর বিশ্বাস করে না। তাই এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

  • ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    এবিএনএ: সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই আগের নিয়মে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”

    মঙ্গলবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

    রেজাউল করীম অভিযোগ করে বলেন, “পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, সেটিই সর্বনাশের মূল কারণ। কালো টাকা, মাস্তানি ও সন্ত্রাস বন্ধের একমাত্র সমাধান পিআর পদ্ধতি।”

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি নির্বাচনের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের পর এ ধরনের প্রতিশ্রুতিতে জনগণ আর আস্থা রাখবে না।

    সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমদ বিএনপির উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—“সনদ আইনি স্বীকৃতি পেলে আপনাদের আপত্তি কোথায়?” আর প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঘোষণা দেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন।”

    এ সময় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “একদিকে বলছেন সংস্কার না হলে দেশ পুরোনো ধারায় ফিরে যাবে, অন্যদিকে সনদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত না করেই নির্বাচন ঘোষণা দিয়েছেন। জনগণ জানতে চায়, কার চাপে এই সিদ্ধান্ত?”

    সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে থাকবে এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।

  • “একবাক্স ভোটে জোটবদ্ধ ইসলামপন্থীরাই হবে আগামী দিনের শাসক” — চরমোনাই পীর

    “একবাক্স ভোটে জোটবদ্ধ ইসলামপন্থীরাই হবে আগামী দিনের শাসক” — চরমোনাই পীর

    এবিএনএ: ইসলামপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে ঐক্যের, এবং সেই ঐক্যের মাধ্যমে আগামী দিনে ইসলামি দলগুলোই হবে দেশের মূল রাজনৈতিক শক্তি—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

    শনিবার বিকেলে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আমরা ৫৪ বছরে নানা দলকে ক্ষমতায় দেখেছি, কিন্তু ইসলামপন্থীরা কখনো রাষ্ট্র পরিচালনায় আসতে পারেনি। এবার যদি আমরা সব ইসলামপন্থী দল ও দেশপ্রেমিক দলগুলোকে নিয়ে কার্যকর একটি ঐক্য গড়তে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এবার নেতৃত্ব আমাদের হাতেই আসবে।”

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, তিনি শুরু থেকেই ‘একবাক্স ভোট’ নীতির পক্ষে। শুধু ইসলামি দল নয়, বরং অন্যান্য দেশপ্রেমিক দলগুলোকেও একসাথে নিয়ে জোট গঠনের কাজ চলছে।

    তিনি দাবি করেন, “এখন সময় এসেছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেওয়ার। যে যত শতাংশ ভোট পাবে, সে তত শতাংশ আসনে প্রতিনিধিত্ব করবে—এটাই জনগণের দাবি। এমনকি বিএনপিকেও এই পদ্ধতিতে নির্বাচনে আসা উচিত।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংস্কারের পক্ষে কঠোর অবস্থানে আছে এবং কেউ যদি এই সংস্কারে বাধা দেয়, তাহলে তা ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

    সংবিধান প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের চাহিদা ও বিশ্বাসকে উপেক্ষা করেছে। সময় এসেছে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন দিকনির্দেশনার।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইসলামপন্থী রাজনীতির একটি সুসংগঠিত ভবিষ্যৎ গঠনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব একসূত্রে আবদ্ধ থাকবে।