Tag: ইসরায়েলি হামলা

  • তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    এবিএনএ: ইরানের রাজধানী Tehran-এ বার্ষিক আল-কুদস দিবসের সমাবেশ চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন। এসময় হাজারো মানুষ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর Ferdowsi Square-এ এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়।

    প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক নারী প্রাণ হারান। বিস্ফোরণটির ঠিক অবস্থান ও আরও কোনো হতাহতের খবর এখনও নিশ্চিত হয়নি।

    সমাবেশে অংশ নেওয়া হাজারো বিক্ষোভকারী ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করে, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি Ali Larijani সহ অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। লারিজানি বলেন, “ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানেন না যে ইরানিরা শক্তিশালী ও সংকল্পবদ্ধ।”

    আল জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদক Tawhid Asadi জানিয়েছেন, সমাবেশ শুধু ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য নয়, এটি দেশের চলমান হামলার বিরুদ্ধে ইরানিদের ক্ষোভ দেখানোর একটি মুহূর্ত।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে জনগণের পাশে থাকার জন্য তিনি গর্বিত।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের Islamic Revolution এর পর থেকে ইরান প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে। বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা Ayatollah Ruhollah Khomeini এই দিনটি ঘোষণা করেছিলেন, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতার প্রতীক।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।

  • গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

    গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

    এবিএনএ: গাজা সিটি আবারও পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি সেনারা সেখানে অবিরাম বোমা বর্ষণ চালায়। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু এই একদিনেই অন্তত ৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শহরজুড়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চলছে।

    বাসিন্দারা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, ফলে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিশন অভিযোগ করেছে, গাজায় ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করছে। ৭২ পাতার আইনি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে কমিশন জানায়, এই অভিযানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব সরাসরি দায়ী।

    জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের (সিওআই) প্রধান নাভি পিল্লাই বলেন, “গাজায় যে হত্যাযজ্ঞ চলছে, তা গণহত্যার শামিল। এর পূর্ণ দায়ভার ইসরায়েল রাষ্ট্রের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর এ যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এর জবাবে ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, মৃতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

    গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

  • গাজায় ফের ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি

    গাজায় ফের ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গাজার মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৬২ হাজার ১০০ জনে

    বার্তাসংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একদিনে নিহতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৩৪৩ জন। ফলে এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৩ জনে

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, একদিনে অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন তিনজন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৬ জনে, এর মধ্যে ১১২ জন শিশু

    মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপরও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ধরনের হামলায় নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন ১৯৭ জন। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত খাদ্য ও সহায়তা সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার

    অন্যদিকে, টানা বোমা বর্ষণের কারণে গাজার উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা অনেক লাশ এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

    গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে।