Tag: ইরান সেনাবাহিনী

  • মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ইরান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মন্তব্য করেছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, সেগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

    ২০২৫ যুদ্ধ ও নীতি পরিবর্তন

    শেখারচি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছরে আমরা কারও ওপর আক্রমণ চালাইনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন করব না। তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত চালাব যতক্ষণ না শত্রু ধ্বংস হয়।”

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে সতর্কবার্তা

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শেখারচি বলেন, “এই অঞ্চলের অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, যা সকল দেশকে মানতে হবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে নিজেদের উপস্থিতি দৃঢ় করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে তাদের এলাকায় আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।”

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা

    মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক ক্ষমতা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাহিনী ক্রমাগত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করছে, যাতে যে কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

  • বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: জনতার জন্য ‘রেড লাইন’ টানল সেনা ও আইআরজিসি

    বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: জনতার জন্য ‘রেড লাইন’ টানল সেনা ও আইআরজিসি

    এবিএনএ: ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ টেনে দিয়ে জানানো হয়েছে— রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আঘাত এলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

    শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত কয়েক দিনে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এ সময় একাধিক নিরাপত্তা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন, পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

    আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এ ধরনের ধারাবাহিক সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের চেতনা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে আমরা স্পষ্ট রেড লাইন ঘোষণা করছি। রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

    অন্যদিকে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী আলাদা এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে দায়িত্ব পালনে পিছপা হবে না।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দিলে সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূচনা হয়।

    এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে। বিক্ষোভের তীব্রতায় অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ সারাদেশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার।

    মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর গত ১৩ দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

    এদিকে, আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতোমধ্যে একাধিকবার তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।