Tag: ইয়েমেন

  • সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: হারদামাউতে বিমান হামলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: হারদামাউতে বিমান হামলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    এবিএনএ: সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তজুড়ে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী ও বৃহত্তম প্রদেশ হারদামাউতে ব্যাপক লড়াই চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত ডিসেম্বরের শুরুতে প্রদেশটি দখলে নেয় দক্ষিণ ইয়েমেনভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)।

    দীর্ঘদিন ধরে হারদামাউত ছাড়ার জন্য সৌদি আরবের আহ্বান উপেক্ষা করে আসছিল এসটিসি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রদেশটির গভর্নর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় সৌদি বাহিনী।

    হারদামাউত সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শুরু থেকেই এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল রিয়াদ। এর আগে গত সপ্তাহে প্রদেশটির মুকাল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট প্রথম দফা বিমান হামলা চালায়।

    এই দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এসটিসি সেখানে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে দক্ষিণ ইয়েমেনকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অভিযোগ রয়েছে, এ লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের সহযোগিতা করছিল। তবে ইয়েমেন সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমিরাতকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলে সৌদি আরবও তাতে সমর্থন জানায়। পরে আমিরাত সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

    এসটিসির হারদামাউত শাখার এক নেতা দাবি করেছেন, সৌদি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টাও হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর পাল্টা জবাবে ইয়েমেন সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় এসটিসির যোদ্ধারা। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়।

    এদিকে ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে এসটিসির সঙ্গে আলোচনা চালানো হয়েছিল। তবে আলোচনায় তারা কোনো সহযোগিতা দেখায়নি বরং হারদামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও জোরদার করেছে।

  • ইসরায়েলে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা

    ইসরায়েলে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর ইয়েমেন থেকে দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন।

    ঘটনার জবাবে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে বিমান হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে। পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদাহ, রাস ইসা ও সাইফ বন্দরসহ অন্তত তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। একইসঙ্গে, রাস কান্টিব নামের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি জাহাজও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হুতিদের হামলার প্রতিশোধ নিতে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, এটি গত এক মাসের মধ্যে ইয়েমেনের ওপর ইসরায়েলের প্রথম হামলা। হোদেইদাহ শহরের বাসিন্দাদের আগে থেকেই বিমান হামলার সতর্কতা দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হোদেইদাহ বন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এ পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।

    এছাড়া হুতিরা জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মোকাবিলা করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


    ইসরায়েল-হুতি সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের টানা পাল্টাপাল্টি হামলা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট বাড়াতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।