Tag: ইতিহাস

  • একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সমর্থনের কথা জানানো হয়।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাকিস্তানি বাহিনী যে নির্মম অভিযান চালিয়েছিল, তা ছিল ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়। সেই সময় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং নারীদের ওপর সংঘটিত হয় ব্যাপক নির্যাতন।

    শরণার্থী সংকট ও মানবিক বিপর্যয়

    এই দমন-পীড়নের ফলে লাখো মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। ভারতের মতে, ওই সময়ের মানবিক বিপর্যয় শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।

    তবে ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনো ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তাই বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার চাইছে, সে দাবিকে ভারত পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

    অপারেশন সার্চলাইট: ইতিহাসের কালো অধ্যায়

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। নয় মাসব্যাপী এই দমন-পীড়নের অবসান ঘটে ১৬ ডিসেম্বর, যখন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

    এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং দুই লাখের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রচেষ্টা

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই হত্যাযজ্ঞকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও আইনসভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমর্থনও বাড়ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতি আদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য

    প্রতি বছর ২৫ মার্চ বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করা হয়।

    সরকারপ্রধান এক বার্তায় বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা কখনো ভোলার নয়।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে নতুন গতি আসতে পারে।

  • ২৫ মার্চের কালরাত স্মরণে দেশজুড়ে ‘ব্ল্যাক আউট’—এক মিনিটের অন্ধকারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

    ২৫ মার্চের কালরাত স্মরণে দেশজুড়ে ‘ব্ল্যাক আউট’—এক মিনিটের অন্ধকারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

    এবিএনএ: ১৯৭১ সালের বিভীষিকাময় 1971 Bangladesh Genocide-এর সেই ভয়াল রাতের স্মরণে আগামী ২৫ মার্চ সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের জন্য সব আলো নিভিয়ে রাখা হবে।

    Ministry of Liberation War Affairs এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ‘গণহত্যা দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআইভুক্ত এলাকা এবং বিদেশি মিশনগুলো এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দিবসটির মর্যাদা রক্ষায় ২৫ মার্চ রাতে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ৮ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভা শেষে Salahuddin Ahmed জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় ২৬ মার্চ Independence Day of Bangladesh-এও সারা দেশে আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ২৫ মার্চের এই প্রতীকী অন্ধকার কর্মসূচি মূলত জাতির ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায় স্মরণ এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর একটি নিদর্শন। পাশাপাশি এটি জাতির ঐক্য ও চেতনার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

  • বায়ান্নর অবদান  

    বায়ান্নর অবদান  

    বায়ান্নর অবদান  
     সৈয়দা তৈফুন নাহার
    আমি বাংলায় লিখি বাংলায় পড়ি বাংলাতেই গাই হাসি
    অন্য সকল ভাষার থেকেও বাংলা ভালবাসি —
    আমার মাকে ভালবাসি , আমি বাংলা ভালবাসি ।।
    বাংলা আমার প্রথম সকাল কথা বলার মান
    বাংলা আমার আমি বাংলার অমর সন্তান — হব অমর সন্তান
    বাংলা আমার প্রথম প্রেম মায়ের হাসা হাসি
    আমি বাংলা ভালবাসি  — আমার মাকে ভালবাসি ।।
    হাজার রকম ভাষার দেশে ঘুরে দেখি যত
    মায়ের জন্য তাদের ব্যথা নয়তো আমার মত
    অ-দিয়ে অজু করি আযান ভাঙে ঘুম — বাংলা মায়ের শিশির দানা কপালে দেয় চুম
    সবুজ ঘাসে পাতার নুপর করে নাচানাচি — পাখির ঠোঁটে আলতা রঙিন বেজে ওঠে বাঁশি — দেখি মায়ের মুখে হাসি ,
    আমি বাংলা ভালবাসি , আমার মাকে ভালবাসি  ।।
  • শরণখোলায় আজ হানাদার মুক্ত দিবস: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথায় গর্বের দিন

    শরণখোলায় আজ হানাদার মুক্ত দিবস: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথায় গর্বের দিন

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, (শরণখোলা) বাগেরহাট: ১৮ ডিসেম্বর বাগেরহাটের শরণখোলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর ১৬ ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে দেশ স্বাধীন হলেও ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব সেক্টরের এই শরণখোলা ছিল হানাদার বাহিনীর দখলে। তৎকালিন থানা সদর রায়েন্দা বাজারে মুক্তিবাহিনী এবং রাজাকারদের মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ তখনও চলে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন সম্মুখযুদ্ধে রাজাকারের বুলেটে শহীদ হন – টিপু সুলতান, আসাদুজ্জামান, আলাউদ্দিন,গুরুপদ ও আলতাফ হোসেনসহ পাঁচ বীর যোদ্ধা।
    ১৮ ডিসেম্বর পুরোপৃুরি ভাবে হানাদার মুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টরের শরণখোলার রণাঙ্গন। সকাল ১০টার দিকে থানা ভবনে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করে শরণখোলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত ঘোষনা করেন সুন্দরবন সাব সেক্টরের কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
    এদিন বিকেল চারটার দিকে রায়েন্দা পাইলট হাই স্কুল মাঠে চার শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে রায়েন্দার আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সমাহিত করা হয় চার শহীদকে। প্রথম শহীদ গুরুপদকে সমাহিত করা হয় সুন্দরবন সংগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পানিরঘাট এলাকায়।
    সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারীদের তথ্যমতে, শেষ মুহুর্তে হানাদার বাহিনী নাছির উদ্দিন আকনের রায়েন্দা বাজারস্থ বাসভবন দখল করে। এটিই ছিল রাজাকারদের প্রধান ক্যাম্প। এছাড়া থানা ভবন ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন দখল করে আরো দুটি ক্যাম্প স্থাপন করে শত্রু বাহিনী।
    শরণখোলাকে হানাদার মুক্ত করতে দীর্ঘ ৯ মাসের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল আলম তালুকদার।
    রায়েন্দা বাজারের শেষ যুদ্ধে পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি দল গঠন করা হয়। পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন যুদ্ধকালীন ইয়াং অফিসার ও স্টুডেন্ট ক্যাম্প কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিন বদশা এবং পশ্চিমাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মোরেলগঞ্জের আব্দুল গফ্ফার সুবেদার।
    এই দুটি দলের আট শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা রায়েন্দা বাজারের রাজাকারদের তিনটি ক্যাম্পে আক্রমণ করেন।
    পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, আমরা ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ৪৫মিনিটের সময় ফায়ার শুরু করি। রামপালের সহযোদ্ধা শ্যামল ছিলেন এলএমজির কভারিং ফায়ারের দায়িত্বে। শ্যামল ওপর থেকে রাজাকার ক্যাম্প লক্ষ্যকরে ফায়ার করতে থাকেন। আর অগ্রবর্তি দলের ২০-২৫ জন যোদ্ধা নাছির উদ্দিন আকনের বাসভবনের রাজাকার ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হন। প্রথম দিন (১৪ ডিসেম্বর) যুদ্ধ শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় রাজাকারের বুলেটে শহীদ হন গুরুপদ। গুলিতে তার মাথার খুলি উড়ে যায়। এদিন বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে শহীদ হন টিপু সুলতান ও আসাদুজ্জামান। রাতে শহীদ হন আলাউদ্দিন। ১৫ ডিসেম্বর সকালে শহীদ হন আলতাফ হোসেন। ওইদিন থানা ভবন ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের রাজাকার ক্যাম্প দখলে নেই আমরা।
    হেমায়েত উদ্দিন বাদশা আরো বলেন, ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর আক্রমণ চালাই নাছির উদ্দিনের বাসভবনের প্রধান ক্যম্পে। এসময় দিন-রাত সমানতালে ওই ক্যাম্পে মটার শেল ও গুলি বর্ষণ করি। পাল্টা গুলি চালায় রাজাকাররাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনীর গুলির মুখে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে ১৭ ডিসেম্বর রাতেই বেশিরভাগ রাজাকার ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। ক্যাম্পসংলগ্ন রায়েন্দা খালের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ গোপন সুড়ঙ্গ পথে পালিয়ে যায় তারা। এর পর ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো পাল্টা আক্রমণ না আসায় ক্যাম্পে ঢুকে যায় মুক্তিবাহিনী। সেখানে ১৭-১৮ জন রাজাকারকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া য়ায়।
  • বিজয়ের দিনে জাতির ঋণস্বীকার, গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হলো মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের

    বিজয়ের দিনে জাতির ঋণস্বীকার, গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হলো মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: বিজয় দিবসে দেশমাতৃকার টানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

    এরপর বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    পরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুল দিতে আসা মানুষের কারও হাতে ব্যানার, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, আবার কেউ নিয়েছেন স্বাধীন বাংলার লাল সবুজ পতাকা, সবাই যেন মিলেছেন এক মোহনায়। এ সময় স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন।

  • ৭ ডিসেম্বর: মোংলা ও সুন্দরবন হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণ

    ৭ ডিসেম্বর: মোংলা ও সুন্দরবন হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণ

    এবিএনএ: আজ ৭ ডিসেম্বর। মোংলা ও সুন্দরবন মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হারিয়ে এই অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করেন।

    মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখ জানান, মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম.এ. জলিল, সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও কবির আহমেদ মধুর নেতৃত্বে মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন এলাকা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

    সেই সময়ে সুন্দরবনে স্থাপিত পাঁচটি ক্যাম্পে সেনা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা মোংলা, মোড়লগঞ্জ, রামপাল, শরণখোলা ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতেন। এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে থাকা পাকিস্তানি যুদ্ধ জাহাজ “এম.ভি মাকরন” ধ্বংস করা হয় মুক্তি নৌ কমান্ডের সদস্যদের মাধ্যমে।

    আবুল হাসেম শেখ আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা এই অঞ্চলের নিরীহ মানুষদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। দামেরখন্ড ও রামপালের ডাকরার বধ্যভূমি আজও সেই ভয়াবহ ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমাত্রিক পরিকল্পিত আক্রমণে পাক সেনারা পশুর নদীতে মাইন বসিয়ে যুদ্ধজাহাজ মাকরন ডুবিয়ে দেয়। এভাবেই ৭ ডিসেম্বর মোংলা ও সুন্দরবন পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।”

    স্বাধীনতার পরে মোংলা পোর্ট পৌরসভা পৌর পার্কে নির্মিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে যুদ্ধজাহাজসহ বিজয় স্তম্ভও আছে।

    উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের মোট ২৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

  • ইতিহাসের আয়নায় ২৮ নভেম্বর: আলবেনিয়ার স্বাধীনতা, জন্ম-মৃত্যু ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি

    ইতিহাসের আয়নায় ২৮ নভেম্বর: আলবেনিয়ার স্বাধীনতা, জন্ম-মৃত্যু ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি

    এবিএনএ: মানবসভ্যতার পথচলায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নানা অর্জন, সংগ্রাম, আবিষ্কার ও পরিবর্তনের গল্প। সময়ের ধারায় সেই দৈনন্দিন ঘটনাগুলোই ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। আজ ২৮ নভেম্বর, বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশেষ করে তুরস্কের শাসন থেকে আলবেনিয়ার স্বাধীনতা লাভের দিন হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে আছে। এছাড়াও রয়েছে নানা উল্লেখযোগ্য বিশ্বঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুর দিন।


    উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা

    • ১৪৪৩ – সেকেন্দার বেগ মধ্য আলবেনিয়ার খ্রুজ এলাকায় প্রথমবারের মতো আলবেনিয়ার পতাকা উড়ান, যা স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়।

    • ১৫২০ – বিশিষ্ট নাবিক ফার্ডিনান্ড ম্যাগেলান ইউরোপ থেকে প্রথম সফলভাবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করেন প্রশান্ত মহাসাগরে।

    • ১৬৬০ – ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রাচীনতম বৈজ্ঞানিক সংগঠন ‘রয়েল সোসাইটি’।

    • ১৮২১ – স্পেনের শাসন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে পানামা।

    • ১৮৬০ – কলকাতায় প্রথম স্বয়ংক্রিয় মুদ্রণযন্ত্রে ছাপা হয় ‘লন্ডন টাইমস’।

    • ১৯১২ – দীর্ঘ সংগ্রামের পর তুরস্কের শাসন থেকে আলবেনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এই দিনটি আজও দেশটির স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

    • ১৯৬০ – মৌরিতানিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

    • ২০২৩ – ভারতের উত্তরাখণ্ডে সিলকিয়ারা সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪১ শ্রমিককে ১৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়।


    জন্মদিন: যাঁরা আজ পৃথিবীতে এসেছিলেন

    • ১৮২০ – ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস, মার্কসবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, দার্শনিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক।

    • ১৯৩১ – গোলাম রহমান, বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

    • ১৯৪৩ – রফিকুন নবী, বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট।

    • ১৯৬২ – জন স্টুয়ার্ট, মার্কিন কৌতুকাভিনেতা ও টিভি উপস্থাপক।

    • ১৯৮৭ – কারেন গিলান, স্কটিশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী।


    মৃত্যুবরণ করেছেন এই দিনে

    • ১৯৫৪ – এনরিকো ফের্মি, ইতালীয় পদার্থবিদ ও নোবেল বিজয়ী।

    • ১৯৬২ – কৃষ্ণচন্দ্র দে, বাঙালি সংগীতশিল্পী ও সুরকার।

    • ১৯৯৯ – জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী।

    • ২০০৬ – মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশের প্রথম ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র।

    • ২০১০ – লেসলি নিলসেন, কানাডীয়-মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক।


    দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ২৮ নভেম্বর ইতিহাসের পাতা জুড়ে রয়েছে স্বাধীনতার জয়গাথা, বিজ্ঞান-সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা ও মানবিক সাফল্যের নানা মাইলফলক। আলবেনিয়ার স্বাধীনতা শুধু একটি দেশের মুক্তির গল্প নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার সংগ্রামের এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়।

  • বাংলাদেশের সাথিরা জাকির জেসি: নারী বিশ্বকাপে প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন

    বাংলাদেশের সাথিরা জাকির জেসি: নারী বিশ্বকাপে প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন

    এবিএনএ:  নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখলেন সাথিরা জাকির জেসি। আগামী নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি থাকছেন অফিসিয়াল আম্পায়ার প্যানেলে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আইসিসির প্রকাশিত তালিকায় উঠে এসেছে তার নাম। এ অর্জনের মাধ্যমে তিনি হলেন বিশ্বকাপে দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী আম্পায়ার।

    আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ এই সিদ্ধান্তকে নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষায়, “অল-উইমেন ম্যাচ অফিসিয়াল প্যানেল শুধু নারী ক্রিকেটের সাফল্যের পথ খুলে দেবে না, এটি ক্রীড়াঙ্গনে লিঙ্গসমতার প্রতীকও হয়ে থাকবে।”

    এর আগে কমনওয়েলথ গেমস এবং দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নারীরা আম্পায়ারিং করলেও ওয়ানডে বিশ্বকাপে এবারই প্রথম এমন আয়োজন হচ্ছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে এই আসর শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

    ৩৪ বছর বয়সী সাথিরা আগে বাংলাদেশ নারী দলের হয়ে দুটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। পরবর্তীতে কোচিং ও আম্পায়ারিংয়ে যুক্ত হয়ে দ্রুতই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান। ইতিমধ্যে তিনি নারী ক্রিকেটে ৮টি ওয়ানডে ও ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজের ছেলেদের ম্যাচেও টিভি আম্পায়ার ছিলেন তিনি।

    আইসিসি এবার নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে। নারীদের চ্যাম্পিয়নশিপের অর্থ পুরস্কার পুরুষদের সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে।

    ৮ দলের অংশগ্রহণে ৩৩ দিনে মোট ৩১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই আসরে। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে লড়বে বাংলাদেশ নারী দল। আর মাঠে ইতিহাস গড়বেন বাংলাদেশের গর্ব সাথিরা জাকির জেসি।