Tag: ইউরোপিয়ান ফুটবল

  • ১৮ বছরেই ইতিহাস! ড্রিবলিংয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় তুললেন লামিনে ইয়ামাল

    ১৮ বছরেই ইতিহাস! ড্রিবলিংয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় তুললেন লামিনে ইয়ামাল

    এবিএনএ: বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালকে ঘিরে তুলনা আর প্রশংসার শেষ নেই। কেউ তাঁর খেলায় খুঁজে পান লিওনেল মেসির ঝলক, আবার কারও চোখে তিনি নেইমারের উত্তরসূরি। তবে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই পরিসংখ্যানের দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার।

    এক বর্ষপঞ্জিকায় সফল ড্রিবলিংয়ের সংখ্যায় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ইয়ামাল ছাড়িয়ে গেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকেও। এই তালিকায় তাঁর সামনে আছেন কেবল ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ও পিএসজির জার্সিতে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৩৫টি সফল ড্রিবলিং করে শীর্ষে আছেন নেইমার। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইয়ামাল, যিনি ২০২৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে সফল ড্রিবলিং করেছেন ৩০৭ বার। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তালিকার শীর্ষ দশে পাঁচবার জায়গা করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।

    চোট ও মাঠের বাইরের আলোচনায় চলতি বছরে কিছুটা ছন্দ হারালেও খুব দ্রুতই নিজের সেরা রূপে ফিরেছেন ইয়ামাল। এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন সমর্থকরা।

    নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল না পেলেও ড্রিবলিং, গতি এবং সৃজনশীলতায় প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছেন তিনি। মাঠে তাঁর উপস্থিতিই হয়ে উঠছে বার্সেলোনার আক্রমণের বড় অস্ত্র।

    চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০ ম্যাচে ৯ গোলের সঙ্গে ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন ইয়ামাল। লা লিগায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট তাঁরই দখলে। সতীর্থদের দিয়ে সাতটি গোল করিয়ে কাতালান ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন এই তরুণ ফুটবলার।

  • পেট্রোডলারের ঝলক ম্লান, সৌদি ফুটবল ছেড়ে কেন ফিরছেন বিশ্বতারকারা?

    পেট্রোডলারের ঝলক ম্লান, সৌদি ফুটবল ছেড়ে কেন ফিরছেন বিশ্বতারকারা?

    এবিএনএ:  সৌদি ফুটবলে তারকাদের আগমন আর প্রস্থান—কেন একে একে ফিরে যাচ্ছেন রোনালদো-নেইমারদের সতীর্থরা?

    মাত্র কয়েক বছর আগেই পেট্রোডলারের গর্জনে সৌদি প্রো লিগ ঝাঁকুনি দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলে। রোনালদো, নেইমার, বেনজেমা, ফিরমিনো, মানে—তালিকাটা ছিল চোখ ধাঁধানো। তখন মনে হচ্ছিল, সৌদি ফুটবল বুঝি হয়ে উঠবে নতুন ইউরোপ। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে।

    শুধু নেইমারই নন, সৌদি থেকে ফিরছেন একে একে আরও অনেক তারকা। কেউ ফিরছেন চোটের কারণে, কেউ মানিয়ে নিতে না পেরে। কেউ আবার বলছেন, ইউরোপীয় লাইফস্টাইল ও ফুটবল কাঠামোই তাঁদের আসল ঠিকানা।

    নেইমার:

    আল হিলালের হয়ে বিপুল বেতনে খেলা শুরু করেছিলেন নেইমার। কিন্তু চোটের কারণে মাঠে খুব বেশি সময় থাকতে পারেননি। পরে পারস্পরিক সমঝোতায় ফিরে গেছেন ছেলেবেলার ক্লাব সান্তোসে।

    জন ডুরান্ড ও গ্যাব্রি ভেইগা:

    মাত্র ২১ বছর বয়সে সৌদি লিগে নাম লিখিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই দুই তরুণ ফুটবলার। কিন্তু ক্যারিয়ারের দিক বিবেচনায় তারা আবার ফিরে যাচ্ছেন ইউরোপীয় ক্লাবে—ডুরান্ড তুরস্কের ফেনারবাচেতে, আর ভেইগা পোর্তোতে।

    তোলিস্কা ও লাপোর্তে:

    ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার তোলিস্কা সৌদিতে আড়াই বছরের ক্যারিয়ারের পর এবার ইউরোপে ফিরেছেন। ফরাসি বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ ডিফেন্ডার লাপোর্তেও ছেলেবেলার ক্লাব অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ে ফিরতে মরিয়া।

    বেনজেমা ও মাহারেজ:

    দুই মুসলিম তারকাও সৌদির সমাজ ও পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছেন না। বেনজেমা ক্লাব ছাড়তে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়; মাহারেজ থাকলেও পরিবার ম্যানচেস্টারে থেকে গেছে।

    ওবামেয়াং ও হেন্ডারসন:

    ওবামেয়াং ফিরে গেছেন ফ্রান্সের মার্শেই ক্লাবে। আর হেন্ডারসন, যিনি সমকামী অধিকারের পক্ষে কথা বলায় সৌদিতে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন, তিনিও ফিরে এসেছেন ইউরোপে।


    সৌদি ফুটবলের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ কি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

    যেখানে এক সময় পেট্রোডলার আকর্ষণ করত বিশ্বতারকাদের, সেখানে এখন তারাই ফিরছেন নিজের পুরনো ঠিকানায়। ফুটবলের পরিবেশ, সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং পারিবারিক জীবনে অসামঞ্জস্যতা—এসব কারণেই সৌদি ক্লাবগুলোর ‘বড় তারকা ধরে রাখার ক্ষমতা’ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।