Tag: ইউক্রেন

  • রাতভর ভয়াবহ রুশ হামলায় থমকে ইউক্রেন, বিদ্যুৎহীন লাখো পরিবার

    রাতভর ভয়াবহ রুশ হামলায় থমকে ইউক্রেন, বিদ্যুৎহীন লাখো পরিবার

    এবিএনএ: ইউক্রেনে রাতভর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। হামলার মাত্রা এতটাই ব্যাপক ছিল যে, বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস হয়ে প্রায় ছয় লাখেরও বেশি পরিবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও সেই সময়ই রাশিয়ার এই নতুন হামলা সংঘটিত হয়। হামলার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, “যখন সবাই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে, ঠিক তখনই রাশিয়া হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।”

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় রাশিয়া অন্তত ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে টার্গেট করছে।

    ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্রিডলাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। ফলে শহরের বিদ্যুৎব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার বর্তমানে দিনে মাত্র আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে।

    এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    এবিএনএ: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুরস্ক প্রদেশের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উস্ত-লুগার জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে রোববার জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

    কুরস্ক প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির গণমাধ্যম শাখা জানায়, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হলেও কেন্দ্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন গতকাল রাশিয়ার ১৩টি প্রদেশ লক্ষ্য করে শতাধিক বিস্ফোরকবাহী কামিকাজি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। কুরস্ক অঞ্চলে ১০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

    গত সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। চলতি আগস্টের শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সরকারি তেল শোধন কোম্পানি সিজরানের একটি কারখানাতেও হামলা চালিয়েছিল।

  • ইউক্রেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী হলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো

    ইউক্রেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী হলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো

    এবিএনএ: ইউক্রেনের সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো। ৩৯ বছর বয়সী এই নারী নেত্রী দেশটির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়েই প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন।

    বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ডেনিস স্যামিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি ২০২০ সাল থেকে এই পদে ছিলেন।

    সুভরিদেঙ্কো এর আগে প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ চুক্তিতে সফলতা অর্জন করেন, যা ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও মজবুত করে।

    দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সুভরিদেঙ্কো জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে অগ্রাধিকার দেবেন।

    তিনি বলেন, “আমাদের সরকার এমন একটি ইউক্রেন গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে শক্তিশালী হবে। আমার লক্ষ্য হলো এমন পরিবর্তন আনা, যা সাধারণ মানুষের জীবনেই প্রভাব ফেলবে। যুদ্ধ আমাদের এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ দেয় না। তাই আমাদের কাজ করতে হবে দ্রুত ও অটলভাবে।”

    ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই রদবদলকে অনেকেই দেখছেন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    এবিএনএ:

    ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সেই আলোচনায় পুতিন জানান, রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেন যে আক্রমণ চালিয়েছে, তার জবাব রাশিয়াকে দিতেই হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে মস্কো আগে থেকেই বলেছিল—যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো শান্তি আসছে না, বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।”

    এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, ফোনালাপে পুতিন ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।