Tag: ইউক্রেন যুদ্ধ

  • ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক শিগগির, মধ্যপ্রাচ্যে হতে পারে মুখোমুখি আলোচনা

    ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক শিগগির, মধ্যপ্রাচ্যে হতে পারে মুখোমুখি আলোচনা

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিগগিরই সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে রুশ প্রশাসন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আগামী সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এটি আয়োজিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশে, সম্ভাব্যভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

    ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, আলোচনার তারিখ ও সময় ঠিক হয়ে গেছে, তবে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি জানান, ইউক্রেন সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রস্তাবটি ‘গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    রুশ টেলিভিশন চ্যানেল রাশিয়া টুডে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মস্কো সফরে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুতিন। সেখানে আমিরাতকে আলোচনার সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি সামনে আসে।

    এদিকে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশল প্রস্তাব করেছে, তা নিয়ে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি সরাসরি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হলে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে শুক্রবার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে বিশ্বে শান্তির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে, যদি উভয় পক্ষ আন্তরিকভাবে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।

  • বন্ধুত্বে ফাটল, শুল্কে চাপ: মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক কি রুশ তেলের বলি?

    বন্ধুত্বে ফাটল, শুল্কে চাপ: মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক কি রুশ তেলের বলি?

    এবিএনএ:  ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের প্রশংসায় সরগরম ছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মোদির অনুসারীরাও ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন উদযাপন করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে সেই উষ্ণতা এখন শীতলতায় রূপ নিয়েছে।

    সম্প্রতি ভারতের বেনারসে এক সমাবেশে মোদি বলেন, “আমরা এখন শুধুমাত্র সেই পণ্যই কিনব, যা ভারতীয়দের ঘামে তৈরি।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫% শুল্ক আরোপের জবাব।

    তবে শুধু শুল্ক নয়, বিষয়টির পেছনে রয়েছে বৃহৎ কৌশলগত চাপ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হোক। ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ভারতের রুশ তেল আমদানি সরাসরি যুদ্ধ অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, “ভারত রাশিয়ার তেল কিনে ইউক্রেনে হত্যাযজ্ঞে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। এর জবাবে শুল্ক অনেক বাড়ানো হবে।”

    এই অভিযোগে নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বরং বরাবরের মতো আত্মনির্ভর নীতিতে অনড় থেকেছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও স্থানীয় শিল্প রক্ষার জন্য তারা মার্কিন শর্তে সাড়া দিতে আগ্রহী নয়।

    ভারতের প্রায় ৫০% মানুষ কৃষিজীবী হওয়ায় সরকার বারবার কৃষিপণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিতে অনিচ্ছুক। ভারতীয় কর্মকর্তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্কও আর আগের মতো নেই। রাশিয়ার একটি ট্যাবলয়েড তাদের সম্পর্ককে “দুটি ট্রেন বিপরীত দিক থেকে এক লাইনে ধেয়ে আসছে”—এইভাবে ব্যাখ্যা করেছে।

    ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ১০ দিনে আনা হয়। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষের পথে, কিন্তু পুতিনের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেখা যাচ্ছে না।

    এই পটভূমিতে ট্রাম্প যেন ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন ভারতের দিক থেকে চাপ প্রয়োগে। ভারতের রাশিয়ার প্রতি কৌশলগত নির্ভরতা, বিশেষত জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে, ওয়াশিংটনকে ক্রমেই অস্বস্তিতে ফেলছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ভারত এখন ‘বন্ধু হলেও বিশ্বাসযোগ্য নয়’।

    তবু ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নয়, বরং নিজের স্বার্থেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আর এই নীতিগত অবস্থান আগামী দিনগুলোতে মোদি-ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন আর আগের মতো উষ্ণ নেই। বরং রাশিয়ার এক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি মন্তব্য করেছে, দুই নেতা যেন মুখোমুখি আসা দুটি ট্রেন—কেউ থামছে না, কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে না।

    ‘মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস’ তাদের এক বিশ্লেষণে লিখেছে, ট্রাম্প ও পুতিনের কৌশলগত অবস্থান এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংঘর্ষ এড়ানো কঠিন। পুতিন পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন ইউক্রেনে তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এ, অন্যদিকে ট্রাম্প তার নতুন মেয়াদে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

    চুক্তির সূচনা, হতাশার পরিণতি

    ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। জাতিসংঘে ইউক্রেনবিরোধী প্রস্তাবে বিরোধিতা এবং পারস্পরিক সফরের পরিকল্পনাও হচ্ছিল। কিন্তু দ্রুত সেই উষ্ণতা মুছে যেতে থাকে। কারণ, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দেননি পুতিন। বরং রাশিয়া একের পর এক ইউক্রেনীয় শহরে হামলা চালাতে থাকে, যা ট্রাম্পের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দেন, পরে সেটি কমিয়ে ১০ দিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ট্রাম্পের এসব সময়সীমাকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না পুতিন—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কি এখনও আছে?

    রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানে এখনও আশাবাদী ট্রাম্প। এজন্য তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আবারও মস্কো সফরে যাচ্ছেন। গত কয়েক মাসে চারবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আলোচনায় এমনকি ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি উপহার পেয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে।

    তবে ট্রাম্পের প্রত্যাশা শুধু সম্পর্ক উন্নয়ন নয়, বরং যুদ্ধবিরতির জন্য পুতিনের একটি নিঃশর্ত স্বাক্ষরও। বিষয়টি নিয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক কোনো বার্তা না এলেও কিছু বিশ্লেষক বলছেন, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে পারে।

    পুতিন কি চাপের মুখে?

    রুশ প্রেসিডেন্টের দিক থেকে আপাতত কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিনা ক্রুশ্চেভার মতে, “পুতিন হয়ত ভাবছেন তিনি রুশ ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠছেন। তিনি রাশিয়াকে পশ্চিমা আধিপত্য থেকে মুক্ত করতে চাচ্ছেন।”

    চূড়ান্ত বাস্তবতা

    সংঘর্ষ এড়াতে যতটুকু চেষ্টাই করা হোক না কেন, ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা বলে দেয়, ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি চাইছেন, কিন্তু পুতিন চাইছেন বিজয়। তাই আপাতত মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য না হলেও তা একেবারে অসম্ভবও নয়। যুদ্ধ থামাতে হলে শুধু কূটনীতি নয়, প্রয়োজন দু’পক্ষের কার্যকর সমঝোতা এবং আন্তরিকতা—যা এখনো দৃশ্যমান নয়।

  • ইউক্রেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী হলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো

    ইউক্রেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী হলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো

    এবিএনএ: ইউক্রেনের সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ইউলিয়া সুভরিদেঙ্কো। ৩৯ বছর বয়সী এই নারী নেত্রী দেশটির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়েই প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন।

    বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ডেনিস স্যামিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি ২০২০ সাল থেকে এই পদে ছিলেন।

    সুভরিদেঙ্কো এর আগে প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ চুক্তিতে সফলতা অর্জন করেন, যা ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও মজবুত করে।

    দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সুভরিদেঙ্কো জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে অগ্রাধিকার দেবেন।

    তিনি বলেন, “আমাদের সরকার এমন একটি ইউক্রেন গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে শক্তিশালী হবে। আমার লক্ষ্য হলো এমন পরিবর্তন আনা, যা সাধারণ মানুষের জীবনেই প্রভাব ফেলবে। যুদ্ধ আমাদের এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ দেয় না। তাই আমাদের কাজ করতে হবে দ্রুত ও অটলভাবে।”

    ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই রদবদলকে অনেকেই দেখছেন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য! এবার প্রকাশ্যে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গোপন অডিও, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও চীনকে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

    জানা গেছে, ট্রাম্প গত বছর তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এই কথাগুলো বলেছিলেন। সিএনএনের হাতে এসেছে সেই বৈঠকের রেকর্ড করা অডিও, যা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    অডিওতে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি একবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে মস্কোয় বোমা ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও হুঁশিয়ারি দেন যে, তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালে বেইজিংও সেই একই পরিণতির শিকার হবে।

    এদিকে, এই অডিও ফাঁসের পরই রাশিয়া ফের এক ভয়াবহ হামলা চালায় ইউক্রেনের ওপর। দেশটির বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের আকাশে রেকর্ড সংখ্যক ৭২৮টি ড্রোন১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যদিও কিয়েভ দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও রাশিয়া তা এখনো গ্রহণ করেনি।

    এদিকে, কিছুদিন আগে পেন্টাগনের ইউক্রেন সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও ট্রাম্প পুনরায় তা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে যাতে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

    এই অডিও ফাঁস এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায়ও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

  • ট্রাম্পের প্রথম ১০০ দিন: ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে পাল্টাচ্ছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি

    ট্রাম্পের প্রথম ১০০ দিন: ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে পাল্টাচ্ছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি

    আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বজুড়ে শুল্কযুদ্ধ, মিত্র বিচ্ছিন্নতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সংকট

    এবিএনএ:


    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রথম ১০০ দিন অতিক্রম করেছেন। এই সময়ে তিনি বিশ্বব্যাপী শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছেন, বৈদেশিক সহায়তা কমিয়েছেন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে নেটো মিত্রদের উপেক্ষা করে রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছেন। এমনকি গ্রিনল্যান্ড, পানামা খাল অধিগ্রহণ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্যে পরিণত করার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

    ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে ট্রাম্প মিত্রদের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপক্ষদের শক্তিশালী করে তুলেছেন। তার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। সমালোচকরা বলছেন, দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার অবনতি এবং আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রশাসনিক চাপও এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বিশ্বব্যবস্থায় অস্থিরতা

    রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে থেকে যেতে পারে। যদিও নমনীয়তা দেখালে কিছু ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ থাকতেও পারে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে তিনি শুল্ক আরোপের সময়সূচি ও মাত্রা কিছুটা নমনীয় করেছেন, বিশ্লেষকরা বলছেন বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। অনেক দেশ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

    ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে চীনের সাথে অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়েও চিন্তা শুরু হয়েছে।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ বলেছেন, ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আলোচনায় এনেছেন, ফেন্টানিল প্রবাহ রোধ করছেন এবং চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে মার্কিন শ্রমিকদের রক্ষা করছেন।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝড়ের আশঙ্কা

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, গত আট দশকে গড়ে ওঠা মুক্তবাণিজ্য, আইনের শাসন এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিশ্বব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। মুক্তবাণিজ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বৈশ্বিক শুল্কনীতি ঘোষণা করেছেন, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ডলারের মূল্য কমেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার শঙ্কা বেড়েছে।

    একই সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে গিয়ে ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তিনি ন্যাটো-সমর্থিত ইউক্রেনকে ভূখণ্ডের দাবি ছাড়তে বাধ্য করতে পারেন।

    ইউরোপের উদ্বেগ

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ সতর্ক করেছেন, ইউরোপ এখন সংকটময় মুহূর্তের মুখোমুখি। তিনি বলেন, যদি ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে ‘আমেরিকা একা’ নীতিতে রূপান্তরিত করেন, তবে ইউরোপের জন্য সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হবে।

    ট্রাম্পের সম্প্রসারণবাদী বক্তব্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও পানামা খাল অধিগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কূটনীতির ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধ

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জার্মানি ও ফ্রান্স প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, যা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাবে। কানাডাও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান নিজেদের নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু দেশ চীনের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ার দিকেও এগোতে পারে। ইতোমধ্যে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বেইজিং সফর করেছেন।

    ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

    বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার মনে করেন, এখনো সবকিছু হারিয়ে যায়নি। ট্রাম্প চাইলে পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে যদি তিনি কঠোর অবস্থানে অনড় থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে যাবে।

    মিলার বলেন, “বন্ধুদের সাথে সম্পর্কের ক্ষতি এবং প্রতিপক্ষদের সুবিধা গ্রহণের পরিমাণ এখনই পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব হচ্ছে না।”