Tag: আহমেদাবাদ

  • আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৩০০

    আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৩০০

    এবিএনএ:

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমানটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিঞ্জরাপু।

    মন্ত্রী এক্স (পূর্বে টুইটার) এ জানান, “দুর্ঘটনার ২৮ ঘণ্টার মধ্যে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করেছে। এটি তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় অগ্রগতি।”

    তবে ঠিক কতগুলো ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। সাধারণত, বিমানে দুটি ব্ল্যাকবক্স থাকে—একটি ককপিটের সব কথোপকথন রেকর্ড করে, আর অন্যটি বিমানটির উচ্চতা, গতি, ও অবস্থানসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করে।

    এ দুর্ঘটনাকে ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিমানে থাকা ২৪২ আরোহীর মধ্যে ২৪১ জনই প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায়, যখন জানা যায় বিমানটি আহমেদাবাদের বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়ে, যেখানে আরও অন্তত ৫০ জন নিহত হন।

    বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে এএআইবি। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভারতের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহতদের প্রতি গভীর শোক জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

  • আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ২৪২ জনের কেউ বাঁচেনি, কাঁপছে ভারত

    আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ২৪২ জনের কেউ বাঁচেনি, কাঁপছে ভারত

    এবিএনএ:

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ঘটে গেল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে বিজে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ওপর। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু—সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত ২০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে অচেনা হয়ে গেছে।

    এই উড়োজাহাজটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ফ্লাইটে ছিলেন ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, ১১ জন শিশু ও ২ নবজাতকসহ মোট ২৪২ জন। তাদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ ও ১ জন কানাডীয় নাগরিক ছিলেন।

    আহমেদাবাদের মেঘানি অঞ্চলে অবস্থিত চিকিৎসকদের হোস্টেলের ডাইনিং হলে দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে বিধ্বস্ত হয় ফ্লাইটটি। ওই সময় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যানটিনে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রাণ হারান, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

    চোখে জল এনে দেওয়া দৃশ্যে হোস্টেলের ছাদে আটকে পড়ে বিমানের পেছনের অংশ, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে দগ্ধ দেহাবশেষ ও বিমানের বিভিন্ন টুকরো। দুর্ঘটনার তোলা ছবিতে দেখা যায়, ক্যানটিনের টেবিলজুড়ে খাবারের থালা-গ্লাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

    এ ঘটনাটি ২০১৩ সালে প্রথম উড়ানভর্তি এই ড্রিমলাইনারের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৪ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে যুক্ত হওয়া এই উড়োজাহাজের এমন পরিণতি অনেকের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত।

    এদিকে দুর্ঘটনার প্রভাবে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রাক-মার্কেট লেনদেনে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম এক দিনে ৮ শতাংশ কমে ১৯৬.৭৫ ডলারে নেমে আসে।

    এর ফলে বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার সিরিজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এর আগে ড্রিমলাইনার সিরিজে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কোনো রেকর্ড ছিল না, তবে এর ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজ অতীতেই বেশ কিছু মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

    এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই তৈরি করেছে গভীর শোক ও উদ্বেগ। তদন্ত শুরু হয়েছে, আর গোটা দেশ এখন অপেক্ষা করছে এর প্রকৃত কারণ জানার জন্য।

  • আহমেদাবাদে আকাশ থেকে মাটিতে ধ্বংস! বিমান দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল

    আহমেদাবাদে আকাশ থেকে মাটিতে ধ্বংস! বিমান দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল

    এবিএনএ:

    গুজরাটের আহমেদাবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, যা নাড়িয়ে দিল গোটা শহরকে। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই-১৭১, ২৪২ জন যাত্রী নিয়ে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছু সময় পরেই আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়ে বিজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের মেস ভবনের ওপর। মুহূর্তেই হোস্টেল চত্বর রূপ নেয় এক বিভীষিকাময় দুর্ঘটনাস্থলে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, “আমি ঘরের ভেতরে ছিলাম, হঠাৎ একটা প্রচণ্ড শব্দে ঘর কেঁপে উঠল। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হয়েছে। পরে বাইরে বেরিয়ে দেখি, একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে, আর চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে মরদেহ।”

    বিজেপি বিধায়ক দর্শনা বাঘেলাও ছিলেন ঘটনাস্থলের কাছে। তিনি জানান, “আমি অফিসে বসে কাজ করছিলাম, তখনই বিস্ফোরণের আওয়াজ পাই। বাইরে এসে দেখি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। শ্রমিকদের সহায়তায় আমরা অনেককে উদ্ধার করেছি। ডাক্তারের হোস্টেল চত্বরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”

    বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের হোস্টেলই পরিণত হয় একটি অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে। এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শুভম গুপ্তা জানান, “আমরা সকলে হোস্টেলের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎই বিশাল শব্দ ও কম্পনে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমাদের মেস ভবনের ওপরেই বিমানটি আছড়ে পড়ে। আমি সৌভাগ্যবশত অক্ষত থাকলেও অনেক সহপাঠী ও জুনিয়র চিকিৎসক আহত হয়েছেন। কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছেন।”

    তিনি আরও বলেন, “কিছু জনের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, কয়েক জনকে আমরা হারিয়েছি। হোস্টেল এখন যেন এক হাসপাতাল হয়ে উঠেছে। আমরা যতটা সম্ভব চিকিৎসা ও সাহায্য করছি।”

    শুভমের এক সহকর্মী জানান, “আমার বন্ধুরা অনেকেই আহত। আমি নিজে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি তাদের। এই অবস্থায় কথা বলাও সম্ভব নয় আমার পক্ষে।”

    এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা গোটা ভারতের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ, তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন কলেজের শিক্ষার্থীরাও।