Tag: আসামি ছিনতাই

  • বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নাদিম শেখ (৩৩)কে গ্রেপ্তার করতে এসআই আনিছুর রহমান ও এএসআই ইমদাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে আটক করে ফিরিয়ে আনার সময় হামলার শিকার হয় পুলিশ।

    এ সময় নাদিমের ছোট ভাই সাগর শেখ ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলার একপর্যায়ে কনস্টেবল রাজু খানকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়।

    এই সুযোগে নাদিম ও সাগর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত পুলিশ সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    এবিএনএ, লালমনিরহাট
    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় সংঘটিত এক ভয়াবহ হামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলায় থানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

    সূত্র জানায়, পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছিল দুই আসামি—বেলাল হোসেন ও সোহেল রানা চপলকে। তবে রাতেই ২০০-২৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল থানা চত্বরে ঢুকে হামলা চালায় এবং আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। তারা থানার আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ভাঙচুর করে এবং নথিপত্র তছনছ করে।

    রাজনৈতিক দোষারোপ ও বিভাজন

    এই ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। তার দাবি, ইউএনওর নির্দেশে সাজা পাওয়া আসামিদের ছিনিয়ে নিতে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায়।

    তবে পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “বিএনপি বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। জামায়াত বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

    ঘুষের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য

    পাথর মহালের ইজারাদার মাহমুদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইউএনও ও ওসি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানায় গিয়ে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।

    ইউএনও উত্তম কুমার দাস বলেন, “পাথর কোয়ারির শর্ত ভঙ্গ করে মহাসড়কে চাঁদা তোলা হচ্ছিল। এজন্যই দুই ব্যক্তিকে আটক করে সাজা দেওয়া হয়।”

    তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদার

    রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, থানায় হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক জানান, পাথর উত্তোলনে নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পরিস্থিতির মূল্যায়ন

    পাটগ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সংশ্লিষ্ট মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ঘুষ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক দলগুলোর অপব্যবহারে সাধারণ মানুষ আর কত ভুগবে? এখন অপেক্ষা বিচার এবং সত্য উদঘাটনের।