Tag: আশাশুনি

  • দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    এবিএনএ: শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন উপকূলে হঠাৎ করে ভয়াবহ কম্পনে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এমনকি গাছপালাও দুলে ওঠে। পুকুর-দিঘির পানিতে স্পষ্ট ঢেউ দেখা যায়। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকে মুখে দোয়া পড়তে পড়তে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

    বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা লীলা দেবনাথ জানান, নাতিকে খাওয়ানোর সময় হঠাৎ ভবন কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে শিশুটিকে কোলে নিয়েই বাইরে ছুটে যান তিনি। তার ভাষায়, জীবনে এমন দোল কখনও টের পাননি। একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। বাজার এলাকায় দোকানের মালামাল পড়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র নড়ে ওঠে এবং রান্নাঘরের থালা-বাসন মেঝেতে পড়ে যায়। জুমার নামাজ চলাকালে একটি মসজিদেও কম্পন অনুভূত হয়। মুসল্লিরা নিরাপদে বের হয়ে আসেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    পুরোনো সরকারি কোয়ার্টারে থাকা এক চাকরিজীবী নারী বলেন, কম্পনে দেয়ালের ফাটল বড় হয়েছে—এ অবস্থায় সেখানে থাকা নিরাপদ নয় বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এনজিওকর্মী ও দোকানিরাও জানান, প্রথমে ভারী যানবাহনের কম্পন মনে হলেও পরে চারদিকে ‘ভূমিকম্প’ চিৎকার শুনে তারা দ্রুত বাইরে চলে যান।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আশাশুনি উপজেলা এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। উপকূলজুড়ে অনুভূত এই কম্পনে বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে ভয় ও উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।