Tag: আলেম-ওলামা

  • সঠিকভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা হলে ১০-১৫ বছরেই কমতে পারে দারিদ্র্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    সঠিকভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা হলে ১০-১৫ বছরেই কমতে পারে দারিদ্র্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    এবিএনএ: দেশে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বিতরণ করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের দারিদ্র্য অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

    শনিবার যমুনায় আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যদি প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, তাহলে অনেক পরিবারই অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, যেসব পরিবারকে এভাবে সহায়তা দেওয়া হবে তাদের অনেকেরই পরবর্তী বছরগুলোতে আর যাকাতের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

    আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে হলে বিত্তবানদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সমাজে প্রভাবশালী আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

    তিনি জানান, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, ইসলামিক স্কলার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যাকাতের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি সফল মডেল হিসেবে ইসলামী বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব।

    বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার যাকাত দেওয়া হয়। কারও কারও মতে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তবে সুসংগঠিত পরিকল্পনার অভাবে এই বিপুল অর্থ দারিদ্র্য দূরীকরণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    রমজান মাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ত্যাগ, সংযম ও রহমতের মাস। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সময়েই কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে। যারা এ ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের প্রতি তিনি এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, সাধারণত রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার আয়োজন করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে।

    বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবার সীমিত পরিসরে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো শেষ আয়োজন হতে পারে।

  • ক্ষমতায় এলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা তারেক রহমানের

    ক্ষমতায় এলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, সমাজের নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই তাদের যৌক্তিক দাবি আদায় করতেই হবে।

    রবিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ইমাম ও খতিব সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই সমাজ ব্যবস্থা ও মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

    তারেক রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামের অপব্যাখ্যা সমাজে বিভেদ তৈরি করতে পারে। ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে মতবিরোধ হলেও তা যেন ফিতনার সৃষ্টি না করে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ধর্মীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় আলেম-ওলামাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ইসলাম ও মুসলমানের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা রোধে বিএনপি বরাবরই দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আগামী নির্বাচনে একটি ন্যায়-ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান আরও দৃঢ়ভাবে জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইমাম-খতিবদের সম্মানী ভাতা এবং তাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।