Tag: আলী রীয়াজ

  • ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন ঐক্যের নতুন যাত্রায়— এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজ আমরা ঐক্যের সুরে যাত্রা শুরু করেছি, সেই সুর নিয়েই নির্বাচনে যাব।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ইউনূস বলেন, “আজ সমস্ত জাতি একত্রিত হয়েছে। এমন ঘটনা অতীতে চিন্তাও করা যায়নি।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় পা রাখলাম। এখন সময় এসেছে এমন একটি সমাজ গড়ার, যাকে পৃথিবী ঈর্ষার চোখে দেখবে। এই ঐক্যই আমাদের ভবিষ্যতের শক্তি।”

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ইউনূস বলেন, “মানুষ যেন মনে রাখে, এই সনদে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। নিজেদের নির্বাচন নিজেরাই করবো— বাইরের কাউকে এসে ধাক্কা দিতে হবে না।”

    ঐকমত্য থেকে ঐক্যে: পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঐকমত্য কমিশন গঠন ছিল এক সময়ের স্বপ্ন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। “যখন আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো দুই-একটি বিষয়ে একমত হবো। কিন্তু আজ দেখছি, সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে একই লক্ষ্য ঠিক করেছে— এটি এক অনন্য অর্জন।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি আমাদের সংবিধান, সরকার পরিচালনা ও সমাজ গঠনের ধারায় পরিবর্তন আনবে।”

    বঙ্গোপসাগর ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

    অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের সম্পদ। আমরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে কক্সবাজার, মাতারবাড়ি ও মহেশখালী একত্রে নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে বিশ্বের বহু জাহাজ আমাদের বন্দরে নোঙর ফেলবে। নেপাল, ভূটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত আমাদের অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি হবে।”

    আন্দোলনের স্মৃতিচারণা ও তরুণদের ভূমিকা

    জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন, তারাই আজকের পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন। জাতি তাদের কাছে চিরঋণী।”

    তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “এই দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। তারা যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশকে কেউ থামাতে পারবে না।”

    আলী রীয়াজের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক স্বপ্নের কথা

    অনুষ্ঠানে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের অনেক স্রোত আছে, কিন্তু মোহনা একটি— গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। জুলাই সনদ সেই স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ।”

    তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, “মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও ঐক্যের যাত্রা যেন থেমে না যায়।”


    জুলাই জাতীয় সনদ শুধু একটি কাগজ নয়— এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রূপরেখা। ঐক্যের সুরে নির্বাচন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এখন নতুন বাংলাদেশের পথচলার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “সন্ত্রাসের বিষয়ে আমাদের নীতি স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দেশের মাটিতে স্থান দেওয়া হবে না।”

    সোমবার বিকেলে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

    প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে চলমান শুল্ক আলোচনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো সন্ত্রাসবাদ নির্মূল। রাষ্ট্রের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা এদের মুছে ফেলবো।”

    ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই রূপান্তর একটি স্থায়ী রূপ পাবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে যে কমিশন কাজ করছে, তা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার নিয়ে কার্যকর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, “অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। আমি মনে করি, তারা ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছেন এবং আমরা সামনে একটা ইতিবাচক ফল দেখতে পাব।”

    এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নিয়োগে র‍্যাংক চয়েজ পদ্ধতির নতুন প্রস্তাব দিল ঐকমত্য কমিশন

    তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নিয়োগে র‍্যাংক চয়েজ পদ্ধতির নতুন প্রস্তাব দিল ঐকমত্য কমিশন

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে নতুন একটি পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ‘র‍্যাংক চয়েজ’ বা পছন্দক্রমভিত্তিক ভোটের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে বাছাই করার এই প্রস্তাব দেওয়া হয় রবিবার অনুষ্ঠিত সংলাপের ১১তম দিনে।

    কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানান, এর আগের সংলাপে দুটি বিকল্প প্রস্তাব ছিল। আজ তা সংশোধন করে এই নতুন পদ্ধতির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সোমবারের মধ্যে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আশাবাদী, আলোচনা শেষে চলতি জুলাই মাসেই ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন: নতুন কাঠামো কী বলছে?

    নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে ভেঙে গেলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে, সাত সদস্যের কমিটি গঠিত হবে— যেখানে থাকবেন:

    • প্রধানমন্ত্রী

    • স্পিকার

    • সংসদ উপনেতা বা চিফ হুইপ

    • বিরোধীদলীয় নেতা

    • বিরোধীদলীয় উপনেতা বা ডেপুটি স্পিকার

    • বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ

    • তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন প্রতিনিধি

    যদি সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়, তাহলে উপরের তালিকার সঙ্গে যুক্ত হবেন:

    • উচ্চকক্ষের চেয়ারম্যান

    • বিরোধীদলীয় ডেপুটি চেয়ারম্যান

    • উচ্চকক্ষের নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা

    • রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য

    • অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধি

    কমিটি যদি সর্বসম্মতভাবে একজনকে নির্ধারণ করতে পারে, রাষ্ট্রপতি তাকেই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেবেন। অন্যথায়, জোটগুলোর পক্ষ থেকে মনোনীত মোট ১৪ জনের মধ্যে শুনানি ও ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন হবে।

    নির্বাচন পদ্ধতি: র‍্যাংক চয়েজ

    সরকারি দল ও প্রধান বিরোধীদল প্রত্যেকে পাঁচজন করে ১০ জনের নাম দেবে। তৃতীয় বৃহত্তম দল দুইজন করে চারজনের নাম দেবে।

    এই ১৪ প্রার্থীর নাম নিয়ে সংসদে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর—

    • সরকার বিরোধীদলের তালিকা থেকে ১ জন বাছাই করবে

    • বিরোধীদল সরকারের তালিকা থেকে ১ জন বেছে নেবে

    • উভয়পক্ষ তৃতীয় বৃহত্তম দলের তালিকা থেকে ১ জন করে বাছাই করবে

    • তৃতীয় বৃহত্তম দল সরকারের-বিরোধীদলের তালিকা থেকে ১ জন বেছে নেবে

    ফলাফলে থাকবে ৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা। এই ৫ জনের মধ্য থেকে কমিটির সদস্যরা র‍্যাংক চয়েজ পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে যার সর্বোচ্চ র‍্যাংকিং থাকবে, তাকেই নিয়োগ দেওয়া হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি বদলে নতুন পথ খুঁজছে রাজনৈতিক দলসমূহ: আলী রীয়াজ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি বদলে নতুন পথ খুঁজছে রাজনৈতিক দলসমূহ: আলী রীয়াজ

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের ব্যাপারে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে একটি নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া গঠন করতে তারা আগ্রহী।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার চতুর্থ দিনে এই তথ্য জানান তিনি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য একমত পোষণ করেছে। তবে নতুন পদ্ধতির বিস্তারিত নিয়মাবলী নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা হবে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে সংযুক্ত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০ আসনের প্রস্তাবে অধিকাংশ দল সমর্থন জানিয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর পদে পরপর দুই মেয়াদে থাকার নিয়ম নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ বিরতি দিয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর পদে আসার সম্ভাবনার বিষয়ে কমিশনের কাছে বিবেচনার আবেদন করেছে।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার পরিবেশ খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং প্রতিটি দল স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে স্বতন্ত্র।

    আগামী রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় দফার পঞ্চম বৈঠকে পুনরায় সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেসব বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য গড়ে উঠবে।

    আজকের আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) সহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।